৩০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেপ্তার বাংলাদেশি নাগরিক

76

মুর্শিদাবাদ: প্রায় ৩০ হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট সহ এক বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হল। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে মুর্শিদাবাদের সুতি থানার পুলিশ শনিবার গভীর রাতে ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তির নাম মহম্মদ সোহেল(২৪)। বাংলাদেশের চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সারাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। আন্তর্জাতিক বাজারে এই নিষিদ্ধ ট্যাবলেটের দাম প্রায় কয়েক লক্ষ টাকা। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃত ব্যক্তিকে মাদক ও বিদেশি আইনের কিছু ধারাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রবিবার তাকে পুলিশি হেপাজতের আবেদন জানিয়ে কোর্টে পেশ করা হয়েছে।

জঙ্গিপুর পুলিশ জেলার এক শীর্ষ আধিকারিক নাম প্রকাশ না করে বলেন, ‘শনিবার রাতে গোপন সূত্রে খবর পেয়ে সুতি থানার একটি বিশেষ দল হাসানপুর গ্রামে অভিযান চালায়। সেখানে তাঁরা ওই বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করে।’ ধৃত ব্যক্তি অবৈধভাবে আন্তর্জাতিক সীমানা টপকে ভারতে এসে এই মাদক ট্যাবলেটগুলি নিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

- Advertisement -

জানা গিয়েছে, দু-একদিন আগে ওই ব্যক্তি অবৈধভাবে ইয়াবা ট্যাবলেট কিনে বাংলাদেশে পাচার করার উদ্দেশ্যে ভারতে প্রবেশ করেছিল। আন্তর্জাতিক বাজারে ক্রেজি মেডিসিন নামে বহুল পরিচিতি এই ট্যাবলেট মূলত ক্যাফিন ও মেথামফেটামিন নামে নিষিদ্ধ এক প্রকার ওষুধ মিশিয়ে তৈরি করা হয়। এই ট্যাবলেট আবিষ্কারের একদম প্রথম পর্বে কেবল ঘোড়াদের এই ওষুধ খাওয়ানো হত রেসে নামানোর আগে। যাতে তারা উত্তেজিত হয়ে জোরে দৌড়াতে পারে। পার্টি ড্রাগ হিসেবেও পরিচিত ইয়াবা এখন যুব সম্প্রদায়ের মধ্যে অন্যতম আকর্ষণীয় একটি মাদক। সহজে লুকিয়ে নিয়ে যাওয়া যায় বলে এই মাদক পাচার করাও সুবিধা। সূত্রের খবর, এই মাদক এখনও পশ্চিমবঙ্গে তৈরি হয়না। মূলত উত্তর-পূর্ব ভারতের কিছু রাজ্য ও মায়ানমার থেকে এই মাদক পাচার হয়ে ভারতে ঢোকে। তারপর ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ছড়িয়ে পড়ে।

উল্লেখ্য, প্রায় ৬ মাস আগেও সুতি থানার ধলার মোড় থেকে পুলিশ দুই ব্যক্তিকে প্রায় ছয় হাজার ইয়াবা ট্যাবলেট সহ গ্রেপ্তার করেছিল। সেসময়ও ধৃত ব্যক্তিরা ওই ট্যাবলেট বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছিলেন। এই মাদক ট্যাবলেট বাংলাদেশে ভারতের থেকেও বেশি দামে বিক্রি হয়।