ঋদ্ধিমান চৌধুরি, ঢাকা, ২৪ অগাস্ট : মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে পুলিশের কাছে শ্লীলতাহানির অভিযোগ করায় ১৯ বছরের এক ছাত্রীকে পুড়িযে মারা হয়েছিল। এই ঘটনায দোষী ১৬ জনকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিল বিশেষ ট্রাইবুনাল। ফেনির নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক বৃহস্পতিবার সকালে এই রায় দেন। দোষীদের মধ্যে ওই মাদ্রাসার বরখাস্ত অধ্যক্ষ, পুরসভার কাউন্সিলার ও আওয়ামি লিগের নেতা রয়েছেন। এদিন রায় দেওয়ার সময় ট্রাইবুনালের বিচারক মহম্মদ মামুনুর রশিদ ঘটনায় গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি জানান, গণমাধ্যমের জন্যই এই ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে।

ফেনির সোনাগাজি মাদ্রাসার পড়ুয়া ছিলেন ওই ছাত্রী। গত ২৭ মার্চ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে যৌন হযরানির প্রতিবাদ করে সোনাগাজি থানায় অভিযোগ দাযে করেন তিনি। ঘটনায় অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এরপর ৬ এপ্রিল পরীক্ষা দিতে যাওযার সময় ডেকে নিয়ে গিয়ে ওই ছাত্রীর হাত পা বেঁধে শরীরে কেরোসিন ঢেলে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। ৮০ শতাংশ দগ্ধ অবস্থায় ওই ছাত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভরতি করা হয। ঘটনার কথা প্রকাশ্যে আসতেই বাংলাদেশজুড়ে বিক্ষোভ, আন্দোলন শুরু হয়। ঘটনায ক্ষমতাসীন আওয়ামি লিগের বেশ কয়েকজন নেতা জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে। এছাড়া ছাত্রীর ভাই সোনাগাজি থানায় খুনের চেষ্টার অভিযোগ জানাতে চাইলেও ওসি ঘটনাটিকে আত্মহত্যা বলে চালাতে চান। গোটা ঘটনায় তদন্তের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই ছাত্রীকে সিঙ্গাপুরে চিকিত্সার জন্য পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও হাসপাতালে ভরতির চারদিন পর মৃত্যু হয় তাঁর। ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ ২১ জনকে গ্রেফতার করে। অভিযুক্তদের পাশাপাশি কর্তব্যে অবহেলা করায় গ্রেফতার করা হয় সোনাগাজি থানার তত্কালীন ওসিকেও।

রায ঘোষণা উপলক্ষে বৃহস্পতিবার ফেনি সদর ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয। মোতায়েন করা হয় র‌্যাফ। এদিন যাদের মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় তাদের মধ্যে রয়েছে সোনাগাজি ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার বরখাস্ত হওয়া অধ্যক্ষ সিরাজউদদৌলা, সোনাগাজি উপজেলার আওয়ামি লিগের তত্কালীন সভাপতি রুহুল আমিন, সোনাগাজি পুরসভার কাউন্সিলার মাকসুদুল আলম, মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ আবদুল কাদের, প্রভাষক আফসারউদ্দিন। ট্রাইবুনালের রায়ে খুশি ওই ছাত্রীর পরিবার। তবে রায় ঘোষণার পর উপযুক্ত নিরাপত্তার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।