ফসল লুট করছে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা

92
প্রতীকী ছবি

বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : কাঁটাতারের ওপারে রয়েছে বিঘের পর বিঘে ভারতীয় কৃষিজমি। বাংলাদেশ ঘেঁষা এসব জমিতে ভারতীয়রা চাষ করলেও রাতের অন্ধকারে ফসল লুট করে নিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশি দুষ্কৃতীরা। আর কাঁটাতারের এপার থেকে অসহায়ভাবে তা দেখছেন ভারতীয় কৃষকরা। কিন্তু কিছু করার নেই তাঁদের। কারণ সরকারি নির্দেশের জাঁতাকলে ভারতীয় কৃষিজমি এখন বাংলাদেশিদের নাগালে। আর ভারতের সেই মাটিতে যেতে হলে বিএসএফের মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হয় ভারতীয়দেরই। উত্তর দিনাজপুর জেলায় ভারত ও বাংলাদেশের মাঝে ২২৭ কিলোমিটার আন্তর্জাতিক সীমান্ত রয়েছে। সেই সীমান্তে নজরদারির দায়িত্বে রয়েছে বিএসএফ। বহু সাধারণ মানুষের বাড়িঘর, চাষের জমি চলে গিয়েছে কাঁটাতারের ওপারে। ফলে কৃষিজীবী মানুষের জীবিকানির্বাহে সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। চাষাবাদ করতে ব্যাপক নিয়মকানুনের বেড়াজালের মধ্যে থাকতে হয়। নির্দিষ্ট সময়ে বিএসএফের তরফে কাঁটাতারের গেট খুলে দেওয়া হলে সেই জমিতে চাষ করতে যেতে পারেন তাঁরা। সেইসময় ঝড়, বৃষ্টি কিংবা কোনও প্রাকৃতিক দুর্যোগেও তাঁরা ফিরে আসতে পারেন না। ফসল রক্ষার তাগিদে গিয়ে অনেক সময়ই বজ্রপাতে কাঁটাতারের ওপারেই তাঁদের মৃত্যু হয়। এই বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হতে আবেদন করেছেন চাষিরা।

হেমতাবাদ ব্লকের মাকরহাট, কেশবপুর, সন্তোরা, মাটিয়াডাপে, চৈনগর, মালন, ভামৈর, ভানইল সহ বিভিন্ন গ্রামের চাষিদের বক্তব্য, ওইসব চাষের জমি নামেই আমাদের। বিএসএফের কড়া নজরদারি এবং বাংলাদেশের দুষ্কৃতীদের অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। আমরা কষ্ট করে জমিতে ফসল ফলালেও সেই ফসল কেটে নিয়ে চলে যায় বাংলাদেশের দুষ্কৃতীরা। এছাড়া বিএসএফের বাধানিষেধের কারণে আমরা ভুট্টা, পাটের মতো লাভজনক ফসল ফলাতে পারি না। পাট, ভুট্টার গাছ লম্বায় অনেক বড় হয়। গাছ বড় হওয়ায় ওইসব এলাকায় নজরদারি চালাতে সমস্যা হয় জওয়ানদের। স্থানীয় নেতাদের জানানো হলেও আজ পর্যন্ত সমস্যার সমাধান হয়নি। এলাকার ক্ষুব্ধ চাষিদের বক্তব্য, সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সঙ্গে ব্লক প্রশাসনের আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যা মেটানো সম্ভব। হেমতাবাদ ব্লকের সীমান্তবর্তী এলাকার কৃষকরা বলেন, ২০-২৫ বছর আগে সীমান্তে কোনও কাঁটাতার ছিল না। উত্তরাধিকার সূত্রে এইসব জমিতে  চাষাবাদ করি। বর্তমানে বিস্তীর্ণ জমির বুক চিরে চলে গিয়েছে কাঁটাতার। আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে নো ম্যানস ল্যান্ড থেকে ১৫০ মিটার ভিতরে কাঁটাতারের বেড়া দেওয়া হয়েছে। বেড়ার ওপারে ভারতীয়দের প্রচুর জমি ও বাড়িঘর পড়েছে। তখন থেকেই এই সমস্যার সূত্রপাত। ব্লক প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্তে কাঁটাতারের ওপারের জমি নিয়ে সমস্যা দীর্ঘদিনের। এব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলা হবে।

- Advertisement -