বাংলাদেশি বৃদ্ধের দেহ নিয়ে টানাপোড়েন, উদ্বেগে পরিবার

66

রায়গঞ্জ: ভারতে চিকিৎসা করাতে এসে হৃদরোগ আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল এক বাংলাদেশি বৃদ্ধের। শনিবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে রায়গঞ্জ থানার গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের নুরিপুরে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম মহম্মদ রফিকুল ইসলাম (৬৩)। ওই বৃদ্ধের বাড়ি বাংলাদেশের দিনাজপুর জেলার খালপাড়ার সুঁইহাড়া গ্রামে। সীমান্ত আইনের জটিলতায় দেহ সেখানে পৌঁছোনো নিয়ে বিপাকে পড়েছেন মৃতের পরিজনরা। প্রধান সীমা মণ্ডল জানান, বাংলাদেশি এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে। ফোনে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রশাসনের সঙ্গে কথা বলে দেহ বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২৫ মার্চ স্ত্রী অঞ্জুরা বেগমকে সঙ্গে নিয়ে রাধিকাপুর সীমান্ত পেরিয়ে রায়গঞ্জ থানার গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের নুরিপুরের বাসিন্দা রাজ্জাক আলির বাড়িতে আসেন মহম্মদ রফিকুল ইসলাম। ২৭ মার্চ তাঁকে কলকাতার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান আত্মীয়রা। সেখানে হার্টে তিনটি ব্লকেজ ধরা পড়ে। ওপেন হার্ট সার্জারির পরামর্শ দেন হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ। অপারেশনের জন্য প্রায় চার লক্ষ টাকা বাংলাদেশ থেকে ১০ এপ্রিল আসার কথা ছিল। সেই কারণে বৃদ্ধকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। শনিবার তিনি ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হন। সঙ্গে সঙ্গে তাঁকে রায়গঞ্জ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসক বৃদ্ধকে মৃত ঘোষণা করেন।

- Advertisement -

মৃতের স্ত্রী আনজুরা বেগম বলেন, ’স্বামীর চিকিৎসা করাতে দেওরের বাড়িতে এসেছিলাম। কলকাতায় সমস্ত পরীক্ষার পর চলতি মাসের ১ তারিখ নুরিপুরে দেওরের বাড়িতে ফিরি। এদিন ভোরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে স্বামীর মৃত্যু হয়।‘

এদিকে, দুই দেশের হাইকমিশনের মধ্যে কথা হলেও করোনা আবহে কীভাবে দেহ বাংলাদেশে নিয়ে যাওয়া হবে, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জটিলতা। এদিন বিকেলে ময়নাতদন্ত হয়েছে। তবে এখনও রাধিকাপুর সীমান্ত দিয়ে বৃদ্ধের দেহ বাংলাদেশের বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার অনুমতি পাওয়া যায়নি।

মৃতের ভাইপো রাজ্জাক আলি জানান, যদি সীমান্ত দিয়ে দেহ বাংলাদেশে পাঠানো সম্ভব না হয়, তাহলে গ্রামেই কবরস্থ করা হবে।

পুলিশ সুপার সুমিত কুমার জানান, একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে।