৯২ শতাংশ ঋণ দিতে পারেনি জলপাইগুড়ি জেলার ব্যাংকগুলি

572

জলপাইগুড়ি : ঋণ দেওয়ার জন্য বরাদ্দ হয়েছিল ৩৮৫১ কোটি ২২ লক্ষ টাকা। আর সবাই মিলে ঋণ দিতে পেরেছে মাত্র ৩৬৩ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা। যার নিট ফল বরাদ্দ ঋণের ৯২ শতাংশই খরচ করতে পারেনি জলপাইগুড়ি জেলায় ২৪টি রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংকের ১৮১টি শাখা। ব্যাংকগুলির এমন ভূমিকায় ক্ষিপ্ত ঋণপ্রার্থী বেকাররা থেকে রাজনৈতিক দলগুলি। চলতি আর্থিক বছরের ছয় মাস কেটে যাওয়ার পরেও ব্যাংকগুলির এই পারফরম্যান্সে বিরক্ত প্রশাসনিক আধিকারিকরাও। জলপাইগুড়ি জেলায় লিড ব্যাংক হল সেন্ট্রাল ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া। লিড ব্যাংকের ম্যানেজার দেবজিৎ সরকার বলেন, ‘লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে জলপাইগুড়ি জেলায় ঋণ দিতে পারেনি ব্যাংকগুলি। চলতি আর্থিক বছরের ছয মাস হাতে রযেছে। এই সমযে মধ্যে ঋণ মেলা করে স্বনির্ভর গোষ্ঠীগুলিকে ঋণ দিতে তৎপর হবে ব্যাংকগুলি।’

কৃষি, শিল্প, শিক্ষা, স্বনির্ভর কর্মসূচি, বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর উন্নযন, হাউজিং সহ বিভিন্ন খাতে লক্ষ্যমাত্রা অনুসারে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে জলপাইগুড়ি জেলায় ব্যাংকগুলির পারফরম্যান্স ভয়াবহ। অভিযোগ উঠেছে, রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে গড়িমসি করছে। পরিণতিতে সরকারি কর্মসূচির সুফল থেকে তফশিলি জাতি, আদিবাসী সহ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বঞ্চিত হচ্ছেন। জেলা পর্যায়ে ব্যাংকার্স কমিটির বৈঠকে প্রশাসনের আধিকারিকরা এই নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। দেবজিৎবাবু জানান, গত এপ্রিল মাসে ব্যাংকগুলিতে ক্লোজিং এবং মে মাসে নির্বাচন থাকার কারণে ঋণদান প্রকল্পের কাজ বিঘ্নিত হয়েছে। ব্যাংকগুলিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কর্মী নেই। ফলে এমন পরিস্থিতি হয়েছে।

- Advertisement -

সিপিএমের জলপাইগুড়ি জেলা সম্পাদক সলিল আচার্য অভিযোগ করেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলিতে ঋণ প্রার্থীদের হযরানি করা হচ্ছে। ঋণের জন্য মোটা অঙ্কের টাকা বরাদ্দ করলেও ব্যাংকের এক শ্রেণির অফিসার এবং কর্মীদের জন্য সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়ছেন।’

জলপাইগুড়ি জেলা কংগ্রেসের সভাপতি নির্মল ঘোষদস্তিদার বলেন, ‘কেন্দ্রীয় সরকার সরকারি প্রচার মাধ্যমকে হাতিযার করে ফলাও প্রচার করছে গরিব এবং সাধারণ মানুষকে স্বনির্ভর করবার জন্য ঋণ দেওয়া হচ্ছে। ঋণ দেওয়ার কী হাল তা জলপাইগুড়ি জেলার বাসিন্দারা হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছেন।’

জলপাইগুড়ি জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা তথা জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি দুলাল দেবনাথ বলেন, ‘আর্থিক বছরে ছয় মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। ছয় মাস সময়সীমার মধ্যে নির্ধারিত ঋণের মাত্র আট শতাংশ ব্যাংক কর্তৃপক্ষ দিয়েছে।  জলপাইগুড়ি জেলার আর্থ সামাজিক অবস্থার প্রত্যাশিত উন্নযন হচ্ছে না।’

বিজেপির জলপাইগুড়ি জেলার সাধারণ সম্পাদক বাপি গোস্বামী বলেন, ‘ব্যাংকের ঋণদান প্রকল্পের বিষযে বিস্তারিতভাবে তথ্য সংগ্রহ করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।’

ঋণ বরাদ্দের খতিয়ান

১।   কৃষি ঋণ ১৫০৭ কোটি ৯৮ লক্ষ টাকা

২।   ক্ষুদ্র ও ছোট শিল্পের জন্য ঋণ ১৮৫৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা

৩।  রপ্তানি বাণিজ্যের পরিকাঠামো উন্নযনের ঋণ ২ কোটি ৫৯ লক্ষ টাকা

৪।   শিক্ষা ক্ষেত্রে ঋণ ৬ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা

৫।  আবাসনের জন্য ঋণ ১২৬ কোটি ২৩ লক্ষ টাকা

৬।  সামাজিক উন্নয়নে পরিকাঠামো বিকাশে ঋণ ৭ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা

৭।   অচিরাচরিত বিদ্যুৎ পরিকাঠামোর জন্য ঋণ ৭ কোটি ৪৯ লক্ষ টাকা

৮।  অন্যান্য ঋণ ৩৩ কোটি ২৮ লক্ষ টাকা।

তথ্য- জ্যোতি সরকার