বরাকরে ধস, বিধ্বস্ত ৫ বাড়ি

148

আসানসোল: বুধবার আবার ধস নামল আসানসোলের কুলটির বরাকরে। বিসিসিএলের মধ্যে থাকা বরাকরের আরাডাঙার নবিনগর এলাকায় বুধবার সকালে এই ধসের ঘটনায় অন্তত পাঁচটি বাড়িতে ফাটল দেখা দেয়। ধসে ভেঙ্গে যায় গোটা একটি বাড়ি। এদিনের এই ঘটনার জেরে গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ভেঙে মাটিতে প্রায় তলিয়ে যাওয়া একটি বাড়ির প্রায় ১৫ ফুট নিচে থেকে বেঁচে ফিরে আসে এক যুবক। আতঙ্কে বাড়ি ছাড়া সবকটি বাড়ির পরিবারের সদস্যরা। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে দাবি করা হয়, কয়লাখনি জাতীয়করণের আগে এই এলাকায় কোম্পানি আমলে কয়লা তোলার পরে মাটির তলা ভরাট না হওয়ার জন্যই এইভাবে বারবার ধস নামছে।

এদিন ধসের ঘটনার খবর পেয়ে কুলটির বিধায়ক উজ্জ্বল চট্টোপাধ্যায়, আসানসোল পুরনিগমের পুর প্রশাসক বোর্ডের সদস্য দিব্যেন্দু ভগৎ, প্রাক্তন ডেপুটি মেয়র তবস্সুম আরা ও প্রাক্তন কাউন্সিলর পাপ্পু সিং এলাকায় আসেন। তবস্সুম আরা ও পাপ্পু সিং বিসিসিএলের জেনারেল ম্যানেজার সিদ্ধার্থ দাসের সঙ্গে দেখা করে তাকে গোটা বিষয়টি বলে ক্ষতিগ্রস্থ বাড়িগুলির পরিবারের সদস্যদের অবিলম্বে বিকল্প বাসস্থানের ব্যবস্থা করার দাবি জানান। জেনারেল ম্যানেজার সিদ্ধার্থ দাস সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় আসেন। তিনি আপাতত ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি পরিবারের সদস্যদের খনির আবাসনের থাকার ব্যবস্থা করার প্রতিশ্রুতি দেন। সবাইকেই অস্থায়ীভাবে বিসিসিএল কর্তৃপক্ষ এলাকা থেকে সরিয়ে অন্যত্র রাখার ব্যবস্থা করুক।

- Advertisement -

বরাকরের আরাডাঙার নবিনগরে গলির মধ্যে থাকা বাড়িগুলির মধ্যে একটি বাড়িতে থাকেন রুকসানা খাতুন স্বামী তাসনিম খান ও ছেলে শাহনওয়াজ খান। রুকসানা খাতুন বলেন, ‘এদিন সকাল সাতটা নাগাদ বাড়ির সামনের গলিতে জল নেওয়ার জন্য কলের সামনে দাঁড়িয়েছিলাম। হঠাৎই ভয়ঙ্কর একটা আওয়াজ শুনতে পাই। দেখি বাড়ির সামনে ফাটল শুরু হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে ভেতরে শুয়ে থাকা আমার ছেলেকে চিৎকার করে বলি বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসতে। সে  মোবাইল নিয়ে বেরোচ্ছি বলে সেই মোবাইল আনতে যেতেই গোটা ঘরটি মাটির নীচে প্রায় ১৫ থেকে ২০ ফুট ঢুকে যায়। ছেলেটাও বাড়ির সঙ্গে তলিয়ে যায়।‘

তিনি আরও বলেন, ‘এরপরই আমার চিৎকার শুনে আমার স্বামী ও পাশের বাড়ির নিশাদ খান দৌড়ে এসে বাঁশ সেই গর্তে ঢুকিয়ে ছেলেকে উপরে উঠে আসতে বলেন। সেই বাঁশ ধরে সে কোনমতে সেই গর্ত থেকে উপরে উঠে এসে নিজের প্রাণে বাঁচায়।‘ যদিও বাড়িতে থাকা মোবাইল, বাসনপত্র সহ অন্যান্য জিনিস মাটির নিচে তলিয়ে যায়।

বিসিসিএলের জেনারেল ম্যানেজার সিদ্ধার্থ দাস বলেন, ‘২০২০ সালে সর্বশেষ বরাকরের ধ্বস কবলিত এলাকা গুলি নিয়ে সমীক্ষা করা হয়েছে। দীর্ঘ দুই দশক আগে এই এলাকাটিকে বিপজ্জনক বলে চিহ্নিত করে নির্মাণ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। তবে এই ঘটনার পরে মানবিক কারণে ক্ষতিগ্রস্থদের পাঁচটি ঘর দেওয়ার জন্য প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। দ্রুত তা করা হবে।‘

এদিনের ধসের পরে গোটা এলাকাটি পুলিশ চারিদিকে ব্যারিকেড করে দেয়। যদিও খবর পেয়ে অনেক মানুষ ধসে যাওয়া বাড়িগুলো দেখতে আসছেন। কিন্তু যাদের বাড়ি নেই, খাবার নেই, কোথায় কখন যাবেন তা নিয়েও সংশয় রয়েছে, তাঁরা ক্ষোভ দেখান শাসকদলের নেতাদের সামনেই।