মেসিদের অবাক হারে লা লিগা জমজমাট

বার্সেলোনা : তীরে এসে ডুবল তরী। ডুবল বার্সেলোনা।

ঘরের মাঠে গ্রানাডাকে হারাতে পারলে লা লিগার শীর্ষে ওঠার আসার সুযোগ ছিল রোনাল্ড কোয়েম্যানের দলের সামনে। তা হেলায় হারালেন কাতালান জায়ান্টরা। ন্যু ক্যাম্পে গ্রানাডার গ্রেনেডে ঘায়েল হল বার্সেলোনা। লিওনেল মেসির গোলে এগিয়ে গিয়ে তারা ম্যাচ হারল ১-২ ব্যবধানে। কাটা ঘায়ে নুনের ছিটের মতো যোগ হল ডাগআউটে কোয়েম্যানের লাল কার্ড দেখা। চতুর্থ রেফারির সঙ্গে ঝামেলায় জড়িয়ে বিতর্কবিদ্ধ বার্সার ডাচ কোচ।

- Advertisement -

দিনটা যে মেসিদের ছিল না, সেটা পরিষ্কার। ৩৩ ম্যাচে ৭১ পয়েন্ট নিয়ে তিনেই আটকে আঁতোয়া গ্রিজম্যানরা। বার্সার হারে স্বস্তির নিশ্বাস এক ও দুই নম্বরে থাকা অ্যাটলেটিকো ও রিয়াল মাদ্রিদের। লা লিগায় তিন দলের বাকি আর পাঁচ ম্যাচ। অ্যাটলেটিকো কিংবা রিয়াল পয়েন্ট নষ্ট না করলে খেতাবি দৌড়ে ফেরা সম্ভব নয় কাতালান জায়ান্টদের।

শুরুটা অবশ্য দুরন্তই করেছিল বার্সেলোনা। করেছিলেন লিওনেল মেসি। ২৩ মিনিটে তাঁর গোল আশা জাগিয়েছিল। কিন্তু রক্ষণের গোলহজমের রোগ ফিরতেই মুখ থুবড়ে পড়ল বার্সেলোনা। গ্রানাডার বিরুদ্ধে জেরার্ড পিকে, স্যামুয়েল উমতিতিকে ডিফেন্সে ব্যবহার করেছিলেন। সময়ে সঙ্গে তাঁরা যে এখন অচল আধূলি সেটা ফের একবার প্রমাণ করলেন। ব্যর্থ অস্কার মিঙ্গুয়েজাও। গ্রানাডার ডারউইন মাচিস কিংবা জর্জ মোলিনার গোলের সময় পুরো নীরব দর্শক হয়ে রইল বার্সা রক্ষণ।

ম্যাচের পর ক্ষোভের আগুনে ফুটতে দেখা গেল কোয়েম্যানকে। গ্রানাডার কাছে অপ্রত্যাশিত হার সঙ্গে লাল কার্ড দুটোই মেনে নিতে পারছিলেন তিনি। ৬৩ মিনিটে ডারউইনের গোলের আগে গ্রিজম্যানকে ফাউল করা হয়েছিল দাবি করেন কোয়েম্যান। ফোর্থ অফিশিয়ালের কাছে প্রতিবাদ করাতেই ম্যাচ রেফারি লাল কার্ড দেখিয়ে ডাগআউট থেকে বের করে দেন ডাচ কোচকে। সেই প্রসঙ্গ উঠতেই কোয়েম্যানের বিস্ফোরণ, আমি চতুর্থ রেফারিকে কোনও অসম্মানজনক মন্তব্য করিনি। বরং উল্টে উনি আমায় অপমান করেছেন। আমি যে ভুল বলছি না তার বড় প্রমাণ ম্যাচ অফিশিয়ালের রিপোর্ট। ওখানে আমার বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ নথিবব্ধ নেই।

এই পরিস্থিতিতে লিগ জয়ের আশা ছাড়ছেন কোয়েম্যান। হতাশ গলায় মেনে নিলেন, দ্বিতীয়ার্ধে ছেলেদের ফোকাস হারিয়ে গিয়েছিল। তারপর একটার পর একটা ভুল হয়েছে। এখনও পাঁচটা ম্যাচ বাকি। তবে খেতাব জয়ের সম্ভাবনা আমাদের ওপরে আর নির্ভর করছে না।