জবাব দেওয়ার ম্যাচে মুখোমুখি বার্সা-পিএসজি

বার্সেলোনা : লিওনেল মেসির বর্তমান ক্লাব বনাম সম্ভাব্য গন্তব্য।

চুম্বকে এটাই চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বার্সেলোনা বনাম প্যারিস সাঁ জাঁ ম্যাচ। একদিকে রোনাল্ড আর্জুনো, ফিলিপে কুতিনহো, আনসু ফাতিদের পাচ্ছে না বার্সা। অন্যদিকে চোটের জন্য প্রথম পর্ব তো বটেই, সম্ভবত প্রি-কোয়ার্টারেই খেলা হবে না প্যারিসের প্রধান ভরসা নেইমারের। নেই অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া, হুয়ান বের্নেটরাও। এমন অবস্থায় মেসিকে রুখতে গতবারের রানার্সদের ভরসা আরেক আর্জেন্টাইন মাউরিসিও পচেত্তিনো। কোচের স্ট্র্যাটেজিতেই অ্যাওয়ে ম্যাচ থেকে অ্যাডভান্টেজ নিয়ে ফেরার পরিকল্পনা তাদের।

- Advertisement -

 

মাঠে আর মাঠের বাইরে বার্সা-প্যারিস লড়াই সব সময়ই উত্তেজনা তৈরি করে। ২০১৬-১৭ মরশুমে এই পর্যায়ে মুখোমুখি হয়েছিল দুপক্ষ। প্রথম লেগে ৪-০ গোলে এগিয়ে গিয়ে পরের ম্যাচে ৬-১ হারতে হয় ফ্রান্সের দলটিকে। মরশুম শেষে বার্সা থেকে নেইমারকে ছিনিয়ে এনে পাল্টা দিয়েছিল প্যারিসের মালিকরা। এবারও ম্যাচের আবহটা কিছুটা একই।

মরশুম শেষে বার্সার সঙ্গে চুক্তি শেষ হচ্ছে মেসির। নতুন চুক্তিতে এখনও সই করেননি মরশুমের শুরুতে বার্সা ছাড়তে চাওয়া এলএম১০। তাঁর সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে বারবার উঠে আসছে প্যারিসের নাম। তবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে প্রতিপক্ষ হিসেবে প্যারিসের সঙ্গে মেসির সম্পর্ক বেশ অম্লমধুর। বছর চারেক আগের অতিনাটকীয় জয় সহ শেষ চার সাক্ষাতে তিনবারই প্যারিসকে হারিয়েছেন। অথচ এই চার ম্যাচে মাত্র একবার গোল করেছেন।

বার্সার এই ম্যাচ পচেত্তিনোকে জবাব দেওয়ারও। বছর তিনেক আগে বার্সার কোচ হওয়ার থেকে আর্জেন্টিনায় ফিরে চাষবাস করবেন বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি। লা লিগায় প্রতিপক্ষ এসপ্যানিওলের জার্সিতে ফুটবলার পচেত্তিনো বহুবার বার্সাকে বিপাকে ফেলেছেন। আবার ২০০৯ সালে সেই এসপ্যানিওলের কোচ হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই পেপ গুয়ার্দিওলার স্বপ্নের বার্সা দলকে ২-১ গোলে হারিয়ে বাস্তবের মাটিতে ফিরিয়ে এনেছিলেন।

তবে বার্সার বিরুদ্ধে এবার একটু ব্যাকফুটে থেকেই নামবেন পচেত্তিনো। প্রথম একাদশের কয়েকজনকে ছাড়াই পরপর ম্যাচ জিতছেন মেসিরা। তারউপর নিজের দুই অস্ত্রের একজন নেইমার নেই, অপরজন কিলিয়ান এমবাপ্পে ফর্ম হারিয়েছেন। যদিও এই ম্যাচ নিয়ে তাঁর বক্তব্য, ৪০ দিনের মধ্যে একটা দলের সমস্ত সমস্যার সমাধান করা সম্ভব নয়। তবে আমাদের তৈরি হতে হবে। আমার বিশ্বাস দল তৈরি হয়ে যাবে।

মঙ্গলবার রাতে অন্য ম্যাচে আর লিপজিগের মুখোমুখি হবে লিভারপুল। হারের হ্যাটট্রিক করলেও জুরগেন ক্লপের দলকে হাল্কা ভাবে নিতে রাজি নয় জার্মানির দলটি। তবে চলতি ফর্মে তারাই এগিয়ে থাকবে। শেষ তিন ম্যাচে এক গোল হজম করেছে তারা, সেখানে ক্লপরা খেয়েছেন ৮ গোল। করোনা সংক্রমণের জন্য এই ম্যাচ হাঙ্গেরির রাজধানী বুদাপেস্টে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।