অনুমতি ছাড়াই চা বাগানে বাড়ি বারলার

80

পূর্ণেন্দু সরকার, জলপাইগুড়ি : চা বাগানের জমিতে কোনওরকম নির্মাণকাজ করতে আলিপুরদুয়ারের সাংসদ তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জন বারলাকে কোনও অনুমতিই দেওয়া হয়নি। লক্ষ্মীপাড়া চা বাগান কর্তৃপক্ষ জলপাইগুড়ি জেলা প্রশাসনকে এমনটাই জানিয়েছে।

লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানে তাঁর প্রাসাদোপম বাড়ির পাশাপাশি বানারহাটের চামুর্চি মোড়ে পূর্ত দপ্তরের জমিতে নির্মীয়মাণ মার্কেট কমপ্লেক্স নিয়ে সম্প্রতি কম হইচই হয়নি। বারলা কী করে চা বাগানের পাশাপাশি সরকারি জমিতে নির্মাণকাজ করেছেন তা জানতে জলপাইগুড়ির জেলা শাসক দিনকয়েক আগেই সংশ্লিষ্ট চা বাগানের পাশাপাশি পূর্ত দপ্তরকে চিঠি দেন। চিঠির উত্তর দেওয়ার জন্য সাতদিন সময় বেঁধে দেওয়া হয়। ওই সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই লক্ষ্মীপাড়া চা বাগান কর্তৃপক্ষ জেলা শাসককে তাদের উত্তর দিল। সোমবার চা ব্যবসায়ীরা জেলা শাসকের সঙ্গে দেখা করে জেলা শাসকের হাতে বাগান কর্তৃপক্ষের লিখিত জবাব তুলে দেন। পূর্ত দপ্তর অবশ্য এদিন পর্যন্ত জেলা শাসককে কোনও উত্তর দেয়নি। মোবাইল ফোনে ধরার জন্য বহুবার চেষ্টা করা হলেও বারলা এদিন সাড়া দেননি।

- Advertisement -

চা বাগান মালিকদের সংগঠন ডুয়ার্স ব্রাঞ্চ অফ ইন্ডিয়ান টি অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিআইটিএ)-এর সচিব সঞ্জয় বাগচী বলেন, আমাদের সংগঠনের সদস্যভুক্ত লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানে সাংসদ তথা মন্ত্রীর কোয়ার্টার আছে। তবে চা বাগানের জমিতে কোনও নির্মাণকাজ করতে তাঁকে কোনও অনুমতি দেওয়া হয়নি। চা বাগানের জমি লিজে নেওয়া হয়। তাই কোনও চা বাগান এই অনুমতি দিতেও পারে না। চা বাগানের কাজ ছাড়া চা বাগানের জমিতে কোনও নির্মাণকাজ করতে হলে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরের অনুমতি প্রয়োজন। লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানে সাংসদের নির্মাণকাজের জন্য এমন কোনও অনুমতি নেওয়া হয়নি। জলপাইগুড়ির জেলা শাসক মৌমিতা গোদারা বসু বলেন, লক্ষ্মীপাড়া চা বাগান কর্তৃপক্ষ তাদের লিখিত জবাব দিয়েছে। চা বাগানে নির্মাণকাজের জন্য তারা সাংসদ তথা মন্ত্রী জন বারলাকে কোনও অনুমতি দেয়নি বলে জানিয়েছে। পূর্ত দপ্তরের জমিতে নির্মীয়মাণ কমপ্লেক্সের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর এখনও কিছু জানায়নি। তাদের জবাব পাওয়ার পর সবকিছু একসঙ্গে ওপরমহলকে জানাব।

কিছুদিন আগে আলাদা রাজ্যের দাবি তোলার পর থেকেই বারলা রাজ্য-রাজনীতিতে ব্যাপক শোরগোল ফেলে দেন। এর কিছুদিন বাদে তাঁর বিরুদ্ধে সরকারি জমি দখল করে নির্মাণকাজ চালানোর অভিযোগ সামনে আসে। তৃণমূল কংগ্রেসের জলপাইগুড়ির সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী এনিয়ে জেলা শাসকের কাছে অভিযোগ করেন। জেলা শাসক এবিষয়ে ভূমি ও ভূমি সংস্কার দপ্তরকে তদন্ত করতে বলেন। লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানে বাগানের এবং বানারহাটের চামুর্চি মোড়ে পূর্ত দপ্তরের জমি দখল করেই বাড়ি ও মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট দপ্তর জেলা শাসককে রিপোর্ট দেয়। কেন চা বাগানের জমিতে বাড়ি এবং পূর্ত দপ্তরের জমিতে মার্কেট কমপ্লেক্স গড়তে বারলাকে অনুমতি দেওয়া হল বলে জানতে চেয়ে জেলা শাসক এরপর চা বাগান ও পূর্ত দপ্তরকে চিঠি দেন।

লক্ষ্মীপাড়া চা বাগানের ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার সুমন দাস, গুডরিক গ্রুপের পক্ষে জেসি পান্ডে এবং ডিবিআইটিএর পক্ষে সঞ্জয়বাবু মিলে জেলা শাসকের সঙ্গে দেখা করে তাঁর হাতে বাগান কর্তৃপক্ষের লিখিত বক্তব্য তুলে দেন। পূর্ত দপ্তর কী রিপোর্ট দেয় সেদিকে সবার নজর রয়েছে।