শুভজিৎ পণ্ডিত, বারবিশা : দুর্ঘটনা রুখতে ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের দুপাশে ব্যারিয়ার লাগানো হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন থেকে সেই ব্যারিয়ার ভেঙে পড়ে রয়েছে কুমারগ্রাম ব্লকের বারবিশায়। কুমারগ্রাম ব্লকের অন্যতম বাণিজ্যিক কেন্দ্র হল বারবিশা। পাশেই রয়েছে অসম। বারবিশা চৌপথির ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক দিয়ে প্রতিদিনই হাজার হাজার বড়ো থেকে ছোটো পণ্যবাহী গাড়ি চলাচল করে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বারবিশা চৌপথির অস্থায়ী বাসস্ট্যান্ডের পাশেই প্রায় ৫০ মিটারেরও বেশি জায়গায় জাতীয় সড়কের ব্যারিয়ার ভাঙা অবস্থায় পড়ে রয়েছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তাঁদের আশঙ্কা। ভাঙা অংশের পাশেই রয়েছে বারবিশা উচ্চতর বিদ্যালয়। স্কুলে যাওয়ার জন্য ওই ব্যারিয়ারের পাশে জাতীয় সড়কের সার্ভিস রোডই ব্যবহার করে ছাত্রছাত্রীরা। ফলে আতঙ্কে থাকতে হয় পড়ুয়াদেরও।

২০০৮-০৯ সালে ৩১সি জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের সময় দুর্ঘটনা রুখতে জাতীয় সড়কের দুপাশেই ব্যারিয়ার লাগানো হয়। কিন্তু বছরকযে আগে একটি দুর্ঘটনায় চৌপথির পাশে থাকা ব্যারিয়ার ভেঙে যায়। তারপর থেকে আর সেই ব্যারিয়ার মেরামত করা হয়নি। ভাঙা অংশের ঠিক পাশেই সার্ভিস রোডে অস্থাযীভাবে বাসস্ট্যান্ড রয়েছে। গাড়ির জন্য সেখানে বহু যাত্রী অপেক্ষা করেন। ৩১ নম্বর জাতীয় সড়কের বারবিশা চৌপথিতে দুর্ঘটনা ঘটলে সার্ভিস রোডে থাকা যাত্রীরাও দুর্ঘটনার কবলে পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সাধারণ মানুষ। এই বিষযে স্থানীয় বাসিন্দা ও কলেজ ছাত্র নন্দু মণ্ডল বলেন, প্রতিদিন কলেজে যেতে বারবিশা চৌপথিতে গাড়ির জন্য অপেক্ষা করতে হয়। ব্যারিয়ার ভাঙা থাকায় আমাদের সবসময় দুর্ঘটনার আতঙ্কে থাকতে হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, জাতীয় সড়কে ব্যারিয়ার ভাঙা থাকায় আতঙ্কে থাকতে হয়। কারণ পাশেই আমাদের অনেকের দোকান। দুর্ঘটনা ঘটলে আমাদের দোকানের ক্ষতি হতে পারে। প্রশাসনকে এই বিষয়ে উদ্যোগী হতে হবে। শুধু বারবিশা চৌপথি নয়, জাতীয় সড়ক সম্প্রসারণের পর অসম সীমান্ত এলাকা পাকড়িগুড়ি থেকে সলসলাবাড়ি পর্যন্ত  বিভিন্ন জায়গায় দুর্ঘটনার পর ব্যারিয়ার ভেঙে গিয়েছে। কিন্তু মেরামত করা হয়নি। এছাড়া কোথাও কিছু ব্যবসাযীদের সুবিধা দিতে ব্যারিয়ার খুলে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ। এই বিষয়ে জাতীয় সড়কের প্রকল্প আধিকারিক প্রদ্যুৎ দাশগুপ্ত বলেন, আমি গিয়ে ওই এলাকায় ভাঙা জায়গাগুলি পরিদর্শন করব। যেখানে মেরামত করা সম্ভব সেগুলি দ্রুত মেরামত করা হবে। না হলে ছমাসের মধ্যে নতুন করে ব্যারিয়ার লাগানো হবে।