বসিরহাট, ২৯ জুলাইঃ নাহ, কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা “মোরা এক বৃন্তে দুটি কুসুম, হিন্দু মুসলমান, মুসলিম তার নয়ন মনি, হিন্দু তাহার প্রাণ” সেই পঙক্তিটি যে একদমই ভুল নয়, সেটিকে ফের একবার প্রমাণ করলো বসিরহাটের মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। বসিরহাট মহকুমার বাদুড়িয়া ব্লকের জগন্নাথপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের মহেশপুর গ্রামের সাধারণ মানুষ এমনই এক ঘটনার সাক্ষী থাকল। জানা গিয়েছে, বসিরহাট বনগাঁ রোডের ধারে অবস্থিত মহেশপুর গ্রামে ষাটোর্ধ্ব বৃদ্ধা যশোদা দাস রবিবার বিকেলে বার্ধক্যজনিত কারণে মারা যান। এরপরই ওই বৃদ্ধার সব দায়ভার মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষরাই নিজেদের ঘাঁড়ে নিয়ে নেন। নিজেরাই অর্থ সংগ্রহ করে গায়ের রামাবলি এনে, বাঁশের দোলায় চাপিয়ে মুসলিম ভাইরা কাঁধে চাপিয়ে, প্রায় পাঁচ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে হরিনাম গেয়ে বাদুড়িয়া মহাশ্মশানে নিয়ে গিয়ে, তার শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন।

জানা গিয়েছে, ওই বৃদ্ধার স্বামী নিলু দাস বিগত দশ বছর আগে মার যান। এরপর দুই ছেলের আর্থিক অবস্থা ভালো না থাকায়, বৃদ্ধা মাকে ফেলে পেটের টানে বাইরে চলে যান। যশোদার জীবন সংগ্রামে মূল উপার্জনের পথ ভিক্ষাবৃত্তি। আর তা দিয়েই রাস্তার ধারে বাঁশের বেড়ার দেওয়াল এবং কাগজের চালওয়ালা ঘরে জীবন কাটাচ্ছিলেন। যে ঘরে একটু জোরে বৃষ্টি এলেই, চাল ফুটো হয়ে ঘরে জল পড়তো। কোনো রকম ভাবে পথ চলতি মানুষ এবং গ্রামে গ্রামে গিয়ে মানুষের কাছে কিছু সাহায্য নিয়ে কোনরকমে দিন কাটাচ্ছিলেন। অবশেষে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের একটা বিরাট অংশ এবং কিছু হিন্দু মানুষ মিলে রবিবার বিকেল বেলায় বৃদ্ধার শারীরিক অসুস্থতা দেখে হাসপাতালে নিয়ে যান। এরইমধ্যে বার্ধক্যজনিত কারণে রবিবার সেখানেই তার মৃত্যু হলে, মুসলিম ভাইয়েরা মিলে বাড়িতে এসে বৃদ্ধার শেষকৃত্য সম্পন্ন করার দৃঢ় সংকল্প গ্রহণ করে। কয়েকটি হিন্দু পরিবার ছাড়া বাকি সব মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ শেষকৃত্য সম্পন্ন করেন। আর ওই বৃদ্ধার সেই শবদাহ যাত্রা দেখতে রাস্তার দুই ধারে মানুষের ঢল নেমে আসে।

আর এই ঘটনা শুধু স্থানীয় মানুষ নয়, সারা ভারতবাসীর কাছে এক অনন্য নজির হিসেবে উঠে এল, তা নিঃসন্দেহে বলাই যায়।