আতঙ্ক নয়, জলপাইগুড়ির আদরের প্রাণী বাদুড়

484

জলপাইগুড়ি : জলপাইগুড়ি শহরে ১০ হাজারেরও বেশি বাদুড়ের আস্তানা রয়েছে আদরপাড়ায়। এই পাড়ায় সার বেঁধে দাঁড়িয়ে আছে ২০টি ইউক্যালিপ্টাস গাছ। শহর তো বটেই, শহরের বাইরে থেকেও বহু মানুষ আসেন বাদুড়ের এই আস্তানা দেখতে। বাদুড়ের শরীরে করোনা ভাইরাস রয়েছে বলে আগেই জানা গিয়েছে। এই রকম দুধরনের ভাইরাসের খোঁজ মিলেছে ভারতে। তবে বাদুড় থেকেই মানুষের শরীরে করোনা সংক্রমণ হচ্ছে কি না তা নিয়ে অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। এ সম্পর্কে যাঁরা তথ্য রাখেন তাঁদের কথায়, করোনা ভাইরাস বাদুড়ের শরীরে রয়েছে। চিনের গবেষণায় তা জানা গিয়েছে। কিন্তু বাদুড় যে ধরনের করোনা ভাইরাসের বাহক তার থেকে চলতি করোনা ভাইরাসের চরিত্র অনেকটাই আলাদা। জিনের গঠনের বদল ঘটিয়ে এই ভাইরাস আরও বেশি সংক্রামক হয়ে উঠেছে। এমন হতেই পারে বাদুড়ের মধ্যেই বারে বারে মিউটেশন হয়েছে বা জিনের গঠন বদলে গিয়েছে এই ভাইরাসের। এর পরিবর্তিত রূপ হয় বাদুড়ের থেকে সরাসরি মানুষের মধ্যে অথবা মধ্যবর্তী কোনও বাহকের মাধ্যমে মানুষে ছড়িয়েছে। তবে করোনার বাহক হোক বা না হোত। বাদুড় নিয়ে কোনও আতঙ্ক নেই আদরপাড়ায়।

আদরপাড়ায় প্রায় চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নিরাপদ আশ্রয়ে রয়েছে এই নিশাচর প্রাণীর দল। শহরবাসীর অনেকেই বলেন, রেলের জমিতে বাদুড়ের অভয়ারণ্য। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে বাদুড় নিয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করার ক্ষেত্রে স্থানীয় ইউরেকা ক্লাবের সদস্যরা এবং আদরপাড়ার বাসিন্দারা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা গ্রহণ করেছেন। জলপাইগুড়ি সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাব বাদুড়ের পাল যাতে নিরাপদে থাকতে পারে তার জন্য প্রশাসনিক স্তরে দরবারও করেছে। কারণ এর আগে বাদুড়ের পালকে উত্ত্যক্ত করা হত। স্থানীয় বাসিন্দারা তা বন্ধ করেছেন। আদরপাড়ার বাসিন্দা অভিজিৎ নাহা বলেন, সারি দেওয়া গাছগুলিতে বাদুড়ের ঝুলে থাকা দেখতে ভালো লাগে। বাস্তুতন্ত্রের স্বার্থে বাদুড়ের অস্তিত্ব রক্ষা করা খুবই জরুরি। অভিজিৎবাবু বলেন, বেশ কিছু গাছ হেলে পড়েছে। এই গাছগুলির গোড়ায় মাটি দেওয়া দরকার। সায়েন্স অ্যান্ড নেচার ক্লাবের সম্পাদক ডঃ রাজা রাউত বলেন, বাদুড়ের পাল শহরের আদরপাড়ায় দীর্ঘদিন ধরে বাস করছে। আমাদের সংগঠনের তরফে তারা যাতে নিরাপদে বাস করতে পারে  সে ব্যাপারে বন দপ্তরের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে আদরপাড়ার বাসিন্দাদের ভূমিকাও প্রশংসনীয়।

- Advertisement -