বিশ্বজিৎ সরকার, রায়গঞ্জ : বাজারহাটই হোক কিংবা স্কুল, যাতায়াতের জন্য প্রায় দেড় লক্ষ বাসিন্দার একমাত্র ভরসা বাঁশের একটি নড়বড়ে সাঁকো। সারাবছরই প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হয় স্থানীয বাসিন্দাদের। আর নদীতে বান এলে তো কথাই নেই! উপচে পড়া জলে ভেসে যায় সাঁকো। সেসময় সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় এপার-ওপারের যোগাযোগ। দ্বীপের মতো জীবন কাটাতে হয় আটটি গ্রামের মানুষকে।

রায়গঞ্জ শহর থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরে ভাতুন গ্রাম পঞ্চায়েত। মাঝখান দিয়ে বয়ে গিয়েছে নোনা নদী। ওপারে সুরুয়াপাড়া, তাজপুর, মোহনপুর, গোপালপুর, খুলিয়ারা, ঝিনুকপুর গ্রাম মিলে প্রায় দেড় লক্ষ মানুষের বসবাস। নোনা নদীর ওপর পাকা সেতুর দাবিতে বহুবার আন্দোলনে সরব হয়েছেন গ্রামবাসীরা। কিন্তু স্বাধীনতার এত বছর পরেও তার কোনো সুরাহা হয়নি। নোনা নদীর সাঁকো পেরিয়ে ওপারে সুরুয়াপাড়া। সেখানকার বাসিন্দা বছর পঞ্চাশের মমতা বেগম এবং সেকেন্দার আনসারের অভিযোগ, পঞ্চায়েতের লোকজন এসে বারবার সেতু নির্মাণের জন্য আশ্বাস দিয়ে গিয়েছেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই রাতে রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে যেতেই সব শেষ হয়ে যায়। এভাবে কত মানুষ বিনা চিকিৎসায় এখানেই মারা গিয়েছেন তার কোনো ইয়ত্তা নেই!

বছর ষোলোর নূর ইসলাম সামনের বছরের মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী। সে জানায়, ওই সাঁকো পেরিয়ে রোজ বাটলের সেবাগ্রাম হাইস্কুলে যাতায়াত করতে হযয় স্কুল আর বাড়ি করতে করতেই সময শেষ। আর বর্ষাকাল এলে তো কথাই নেই। সেসময় স্কুলে যাওয়া প্রায় বন্ধই হয়ে যায়। এপ্রসঙ্গে ভাতুন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, সেতুর জন্য টাকা বরাদ্দ না হলে আমাদের কী করার আছে? অন্যদিকে, বিজেপির জেলা সাধারণ সম্পাদক বিশ্বজিৎ লাহিড়ি বলেন, আসলে ওইসব গ্রামের বাসিন্দাদের ভোটের যন্ত্র হিসেবে রেখে দিয়েছে বাম আর তৃণমূল। তাই এত বছরেও সেতুর অভাবে অন্ধকারে রয়ে গিয়েছেন ওঁরা। জেলাপরিষদের সভাধিপতি কবিতা বর্মন বলেন, নদীর ওপর সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এলাকায় জমি মাপার কাজ চলছে।