মেখলিগঞ্জের অনেক জায়গায় শৌচাগার নেই

330

গৌতম সরকার, মেখলিগঞ্জ : ব্লক নির্মল হয়ে গিয়েছে বছরতিনেক আগেই। কিন্তু এখনও নির্মল ব্লকের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় শৌচাগার তৈরি হয়নি। এমনই অবস্থা কোচবিহার জেলার মেখলিগঞ্জ ব্লকের। প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলাদেশ সীমান্তঘেঁষা এই ব্লকের বেশ কয়েটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও শৌচাগার নেই। এর মধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ও রয়েছে। এছাড়াও চ্যাংরাবান্ধা আন্তর্জাতিক স্থলবন্দর এলাকাতেও পর্যাপ্ত শৌচাগার নেই। অথচ এই সীমান্তে নিয়মিত প্রায় হাজার দেড়েক ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকছে। প্রতিটি ট্রাকে দুজন করে কর্মী থাকলেও তাঁদের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়ে যাচ্ছে। এতগুলি লোকের জন্য শৌচাগার নেই। তাই স্বাভাবিকভাবেই তাঁরা কোথায় মলমূত্র ত্যাগ করছেন সেটা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখার দাবি তুলেছেন অনেকেই। যদিও প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, ট্রাক টার্মিনাসের ভিতরে শৌচাগার রয়েছে। কিন্তু টার্মিনাসের বাইরেও প্রচুর ট্রাক থাকছে। সকলেই যাতে নিয়মিত শৌচাগার ব্যবহার করেন সে বিষয়ে নিয়মিত প্রচারাভিয়ান এবং সচেতনতা শিবিরও করা হচ্ছে। এতে সুফলও মিলেছে। যেসব জায়গায় শৌচাগারের প্রযোজন, তার তালিকা তৈরি করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। বেশ কয়েকটি জায়গায় জরুরি ভিত্তিতে শৌচাগার নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও প্রশাসন জানিয়েছে।

জানা গিয়েছে, ব্লকের মৃগীপুর এলাকার একটি প্রাথমিক স্কুলেও শৌচাগার নেই। কুচলিবাড়ি বাজারের নিয়ন্ত্রিত বাজার সমিতির জায়গাতেও শৌচাগার বছরের পর বছর ধরে ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ে রয়েছে। য়ার কারণে বাজারে আসা মানুষের সমস্যা হচ্ছে। পরিবেশ দূষিত হচ্ছে। চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তের ট্রাককর্মীদের জন্য আরও শৌচাগারের দরকার। উল্লেখ্য, বাংলাদেশে রপ্তানির উদ্দেশ্যে প্রতিদিন বাইরে থেকে প্রচুর ট্রাক চ্যাংরাবান্ধায় আসছে। সীমান্তের একমাত্র ট্রাক টার্মিনাসে তিন শতাধিক ট্রাক দাঁড় করিয়ে রাখা য়ায়। কিন্তু ট্রাকের সংখ্যা বেশি থাকার কারণে অনেককেই অন্যত্র ট্রাকগুলিকে দাঁড় করিয়ে রেখে সেখানে কয়েদিন কাটাতেও হচ্ছে। ট্রাক টার্মিনাস চত্বরে টয়লেট ব্লক থাকলেও রাস্তার ধারে কোনোও শৌচাগার নেই। বাধ্য হয়ে অনেক ট্রাককর্মীকে শৌচকর্ম করার জন্য খোলা মাঠ কিংবা নদী, খাল, বিলের পাড়ে যাওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকছে না। স্বাভাবিকভাবেই নির্মল ব্লকের পরিবেশ দূষণের অভিযোগ উঠছে। তবে চ্যাংরাবান্ধা সীমান্তে আরও শৌচাগার তৈরির দাবিকে গুরুত্ব দিচ্ছে চ্যাংরাবান্ধা উন্নয়ন পর্ষদও। পর্ষদের চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র অধিকারী জানিয়েছেন, বিষয়টি ইতিমধ্যে তাঁকেও অনেকে জানিয়েছেন। সমস্যা মেটানোর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে বলে ব্লক প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে।

- Advertisement -