ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় রণক্ষেত্র এলাকা, আহত ২

683

হলদিবাড়ি: নাবালিকা ধর্ষণের প্রতিবাদ করায় রণক্ষেত্র এলাকা। ঘটনাটি ঘটেছে, শুক্রবার হলদিবাড়ি ব্লকের উত্তর শান্তিনগর এলাকায়। জানা গিয়েছে, এদিনের সংঘর্ষে আহত হয় দুইজন। আহতদের মধ্যে একজনকে সঙ্কটজনক অবস্থায় উদ্ধার করে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠান হয়েছে।

জানা গিয়েছে, এদিন গভীর রাতে চারজনের বিরুদ্ধে হলদিবাড়ি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। অভিযোগ পাওয়ার সঙ্গে হলদিবাড়ি থানার আইসি দেবাশিস বসুর নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। এদিন তিনজনকে গ্রেপ্তার করে মেখলিগঞ্জ মহকুমা আদালতে পাঠায়। অন্যদিকে, ধর্ষণে অভিযুক্ত তপন রায় আজও ফেরার। পুলিশ তাঁর খোঁজ চালাচ্ছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।

- Advertisement -

ঘটনা প্রসঙ্গে উত্তর শান্তিনগর এলাকার বাসিন্দা হরিশচন্দ্র রায়ের অভিযোগের সুরে বলেন, ‘প্রতিবেশী যুবক তপন রায় দীর্ঘদিন যাবৎ তাঁর নাবালিকা খুড়তুতো বোনকে উত্ত্যক্ত করে আসছে। এই বিষয়ে তাকে একাধিকবার সাবধান করা হয়। শুক্রবার সন্ধ্যায় ফাঁকা বাড়ির সুযোগ নিয়ে তপন ওই নাবালিকাকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায়।‘

তিনি আরও বলেন, ‘বাড়িতে বিষয়টি জানাজানি হতেই অভিযুক্তের বাড়িতে যাওয়া হয়। আর সেখানে উপস্থিত অভিযুক্তের বাবা ঘটনাটি বিশ্বাস না করে আমাদের গালিগালাজ শুরু করেন। আমরা তার প্রতিবাদ করলে তিনি আইনের আশ্রয় নেওয়ার হুমকি দেন। এরপর হঠাৎই ধারালো কুড়োল দিয়ে আমার বাবার মাথায় সজোরে আঘাত করে। সঙ্গে সঙ্গে বাবার মাথা ফেটে অঝরে রক্ত বেরতে থাকে। তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আমি বাবাকে বাঁচাতে গেলে আমার ঘাড়েও সেই কুড়োলের পেছনের দিক দিয়ে আঘাত করা হয়। ফলে আমিও মাটিতে পড়ে গিয়ে চিৎকার করতে শুরু করি। আর সেই চিৎকার শুনেই এলাকার প্রতিবেশীরা ছুটে এসে আমাদের উদ্ধার করেন এবং হলদিবাড়ি গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যায়।‘

অন্যদিকে, প্রাথমিক চিকিৎসার পর হরিশ বাবুকে ছেড়ে দিলেও সুভাষবাবুর মাথায় চারটি সেলাই করা হয়েছে। কিন্তু তাঁর অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে রেফার করা হয় বলে সুভাষবাবুর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে।

পাশাপাশি হলদিবাড়ি থানার আইসি দেবাশিস বসু বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইপিসি ৩২৬ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। অন্য এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের জন্য তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।