বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্ত’র জন্মদিবস পালন

88

বর্ধমান: ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামের অন্যতম পথিকৃত বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্ত। বৃহস্পতিবার তাঁর জন্মদিবস পালিত হল বিপ্লবীর জন্মভিটা পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষের ওঁয়ারি গ্রামে। দেশ মাতৃকার এই সন্তানের প্রতিকৃতিতে মাল্যদান করে শ্রদ্ধা নিবেদনের পাশাপাশি বিপ্লবীর জন্মভিটায় এদিন জাতীর পতাকা উত্তোলন করা হয়। দেশের স্বাধীনতার জন্য বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্ত’র লড়াই ও সংগ্রামের কথা এদিন স্মরণ করেন বর্ধমান দক্ষিণের মহকুমা শাসক, খণ্ডঘোষের বিডিও, বিধায়ক নবীনচন্দ্র বাগ, বটুকেশ্বর স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মধুসূদন চন্দ্র সহ এলাকার বাসিন্দারা।

ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা রয়েছে বিপ্লবী বটুকেশ্বর দত্ত’র নাম। বিপ্লবী ভগৎ সিংয়ের ভাবশিষ্য বটুকেশ্বর দত্ত ১৯১০ সালের ১৮ নভেম্বর খণ্ডঘোষের ওঁয়ারি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ভগৎ সিং ও বটুকেশ্বর দত্ত বোমা নিক্ষেপ করে ১৯২৮ সালের ১৭ ডিসেম্বর লাহোরে অত্যাচারী ইংরেজ পুলিশ অফিসার স্যাণ্ডারসনকে হত্যা করেন। এরপর থেকে দুই বিপ্লবীকে ধরতে শুরু হয় চিরুনি তল্লাশি। গ্রেপ্তারি এড়াতে ইংরেজ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে ভগৎ সিংকে সঙ্গে নিয়ে ওঁয়ারি গ্রামে চলে আসেন বটুকেশ্বর দত্ত। সেই খবর পেয়ে ইংরেজ পুলিশ ওঁয়ারি গ্রামে বটুকেশ্বর দত্ত’র বাড়ি ঘিরে ফেলে। তখন তাঁরা আত্মগোপন করেন প্রতিবেশী নগেন্দ্রপ্রসাদ ঘোষের বাড়ির পাতাল ঘরে। দুই বিপ্লবী ১৮ দিন ওই পাতাল ঘরে আত্মগোপন করেছিলেন। পাতাল ঘরে বসেই তাঁরা পার্লামেন্টে বোমা নিক্ষেপের পরিকল্পনা করেন। এরপরে ফের ইংরেজ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে অকুতোভয় এই দুই বিপ্লবী মহিলার ছদ্মবেশে ওঁয়ারি গ্রাম ছেড়ে বেরিয়ে যান। এদিন বটুকেশ্বর দত্ত’র স্মৃতিচারণায় অংশ নিয়ে নগেন্দ্রনাথের উত্তরসূরি প্রণব ঘোষ জানান, তিনি তাঁর ঠাকুমা পঙ্কজিনী ঘোষের মুখ থেকে শুনেছিলেন দুই বিপ্লবীর এই রোমহর্ষক পরিকল্পনার কথা।

- Advertisement -

দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে দীর্ঘ সময় অনাদরে পড়েছিল বিপ্লবীর বসতবাড়ি ও ভিটা। ওঁয়ারি গ্রামের বাসিন্দা ও বটুকেশ্বর দত্ত স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটি দীর্ঘদিন ধরে বিপ্লবীর বসতবাড়ি ও ভিটা সংরক্ষণের দাবি জানায়। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার পর বটুকেশ্বর দত্ত’র বসতবাড়ি, ভিটা ও তার লাগোয়া নগেন্দ্রনাথ ঘোষের সেই পাতাল ঘর ‘হেরিটেজ’ স্থান হিসাবে ঘোষণা করা হয়। এরপর ২০১৩ সালে রাজ্যের পর্যটন দপ্তর বটুকেশ্বর দত্ত’র জন্মভিটা ও পৈতৃক বাড়ি এবং ওই পাতাল ঘর সংস্কারের উদ্যোগ নেয়। বসতভিটা ও টিনের চালার বাড়ির কাঠামো অক্ষুন্ন রেখে হয় সংস্কার কাজ। বটুকেশ্বর দত্ত’র একমাত্র কন্যা ভারতি বাগচী এরপর তাঁর বাবার জন্মভিটা ঘুরে দেখে যান। বটুকেশ্বর দত্ত স্মৃতি সংরক্ষণ কমিটির সভাপতি মধুসূদন চন্দ্র জানিয়েছেন, বিপ্লবীর বসতবাড়ির পাশেই তৈরি হচ্ছে সংগ্রহশালা। সেই কাজ সম্পূর্ণ হেয়ে গেলে বটুকেশ্বর দত্ত ও ভগৎ সিংয়ের বিপ্লবী কর্মকাণ্ড সম্পর্কিত অনেককিছু সেখানে সাজিয়ে রাখা হবে।