দীর্ঘদিন বন্ধ স্বাস্থ্যকেন্দ্র, জানেন না বিডিও

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ : তিন বছর ধরে বন্ধ পশু চিকিৎসাকেন্দ্র। মার্চ মাসে লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে বন্ধ হোমিয়োপ্যাথ চিকিৎসাকেন্দ্রও। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বলছেন বিষয়টি তিনি বিডিওকে জানিয়েছেন। অথচ বিডিও বলছেন এসব তিনি জানেনই না। ৯ নম্বর গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েতের এই ঘটনায় একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। একদিকে পঞ্চায়েতের প্রধান বলছেন, প্রাণীসম্পদ বিকাশ কেন্দ্রটি বন্ধ থাকার বিষয়টি তিনি বিডিওকে জানিয়েছেন। অন্যদিকে বিডিও বলছেন তিনি এ ব্যাপারে কিছুই জানেন না। আবার আট মাস ধরে হোমিয়োপ্যাথ চিকিৎসাকেন্দ্র বন্ধ। এ ব্যাপারে প্রধান ও উপপ্রধান বলছেন, হোমিয়োপ্যাথ চিকিৎসক করেনার ডিউটিতে থাকায় ওই কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। ওখানকার ডিউটি শেষ হলেই তিনি এখানে জয়েন করবেন। অথচ বিডিও বলছেন, হোমিয়োপ্যাথ স্বাস্থ্য কেন্দ্রটি কোভিডের সময় খোলা ছিল। কারণ পঞ্চায়েত ভিজিট করতে গিয়ে তিনি সেখানে চিকিৎসককে চিকিৎসা করতে দেখেছেন।

গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান সীমা মণ্ডল বলেন, আমরা ২০১৮ সালের অগাস্ট মাসে ক্ষমতায় এসেছি। তার আগে থেকেই প্রাণীসম্পদ বিকাশ কেন্দ্রটি বন্ধ। আমরা বিডিওকে জানিয়েছি। ওঁরা পশু চিকিৎসক পাঠালেই ওই কেন্দ্রটি চালু হবে। আর হোমিয়োপ্যাথ চিকিৎসক করোনার ডিউটিতে থাকায় ওই কেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে। ওখানকার ডিউটি শেষ হলেই তিনি এখানে জয়েন করবেন। উপপ্রধান শেখ তৈয়ব আলি বলেন, আমরা চাই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি খুলুক। স্টাফ না থাকলে কীভাবে চলবে? তবে হোমিয়োপ্যাথ চিকিৎসাকেন্দ্রের চিকিৎসককে মাঝেমধ্যে দেখা যায়। কোভিডে ডিউটি করছেন বলে তিনি নিয়মিত আসেন না। বিডিওকে এ ব্যাপারে বলব। বিডিও রাজু লামা বলেন, ওখানে তিন বছর ধরে পশু চিকিৎসক নেই এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র বন্ধ, এটা আমাকে তো জানানো হয়নি। আমি জানি একজন চিকিৎসক ওখানে যান। বিষয়টি নিয়ে ব্লক প্রাণী বিকাশ দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। তবে হোমিয়োপ্যাথ স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি কোভিডের সময় তো খোলা ছিল। কারণ পঞ্চায়েত ভিজিট করতে গিয়ে চিকিৎসককে চিকিৎসা করতে দেখেছি। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখব।

- Advertisement -

রায়গঞ্জ থেকে প্রায় ১২ কিলোমিটার দূরে শ্যামপুরে ৯ নম্বর গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তর। ২০টি সাংসদ নিয়ে এই গ্রাম পঞ্চায়েত। অধিকাংশ মানুষ কৃষিজীবী এবং দিনমজুর। অনেকেই এখানে গবাদিপশু পালন করে জীবিকানির্বাহ করেন। পশুপাখির চিকিৎসার পাশাপাশি গরিব মানুষের চিকিৎসার জন্য বাম আমলে গৌরী গ্রাম পঞ্চায়েত দপ্তরের ভেতর তৈরি করা হয় পশু চিকিৎসাকেন্দ্র ও হোমিয়োপ্যাথ চিকিৎসাকেন্দ্র। কিন্তু পঞ্চায়েত প্রধান ও উপপ্রধানের ঘর লাগোয়া প্রাণীসম্পদ বিকাশ কেন্দ্র ও হোমিয়োপ্যাথ চিকিৎসাকেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে তালাবন্ধ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। চিকিৎসকের পাশাপাশি নেই কোনও স্বাস্থ্যকর্মী। তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে পশু চিকিৎসাকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। হোমিয়োপ্যাথ চিকিৎসাকেন্দ্রটি বন্ধ রয়েছে আট মাস ধরে। ফলে দপ্তরে জমে আছে আবর্জনা। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, চিকিৎসক আসেন না বহুদিন। গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ও উপপ্রধান স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি খোলার ব্যাপারে উদ্যোগী হননি বলেও তাঁদের অভিযোগ।

স্থানীয় গ্রামবাসী প্রসেনজিৎ দাস বলেন, পশু চিকিৎসাকেন্দ্রটি বন্ধ থাকায় সামান্য চিকিৎসার জন্য বাড়ির গোরু ও ছাগল নিয়ে রায়গঞ্জে যেতে হয়। অনেকবার বলেছি, কিন্তু কোনও উদ্যোগ নেই। আরেক বাসিন্দা গাজু মহম্মদ বলেন, এই গ্রাম পঞ্চায়েত সাধারণ মানুষের জন্য কোনও কাজ করে না। ঠিকাদারির ভাগ বাঁটোয়ারা নিয়ে দুবছর ধরে ব্যস্ত। আর আছে নিজেদের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। হোমিয়োপ্যাথ চিকিৎসাকেন্দ্র ও পশু চিকিৎসা কেন্দ্রটি খোলার ব্যাপারে কোনও উদ্যোগ চোখে পড়ছে না। স্থানীয় বাসিন্দা মণিরুল ইসলাম বলেন, আমরা বাড়িতে গবাদিপশু পালন করি। কিন্তু কোনওদিনই এই প্রাণীসম্পদ বিকাশকেন্দ্র থেকে ডাক্তারের সহযোগিতা পাইনি। আরেক বাসিন্দা সুজন মণ্ডল বলেন, লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই হোমিয়ো চিকিৎসা কেন্দ্র বন্ধ। ডাক্তারবাবু কোভিডের ডিউটিতে গিয়েছেন শুনেছি। আমরা চিকিৎসা নিতে এসে ফিরে যাই।