পলাশবাড়ির শ্মশানঘাট নিয়ে জটিলতা কাটাতে ময়দানে বিডিও

693

সুভাষ বর্মন, পলাশবাড়ি: চলতি বর্ষায় আলিপুরদুয়ার-১ ব্লকের পলাশবাড়ির মডেল শ্মশানঘাট ‘শেষ খেয়া’র অধিকাংশ ভেঙে যায়৷ স্থানীয়দের অভিযোগ, জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ অপরিকল্পিতভাবে শ্মশানঘাটের পাশে সনজয় নদীতে হিউম পাইপের ডাইভারসন তৈরি করায় শ্মশানঘাটের মারাত্মক ক্ষতি হয়। এদিকে, জলের ধাক্কায় ওই ডাইভারসনটিও ভেঙে যায়। এখন জল কমলেও ডাইভারসন মেরামতের কাজ করতে পারছে না জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ। কারণ, স্থানীয়রা আগে শ্মশানঘাট মেরামত করার দাবি তুলেছেন। এই জটিলতা কাটাতে বুধবার ওই শ্মশানঘাট এলাকায় পরিদর্শনে আসেন আলিপুরদুয়ার ১-এর বিডিও অমরজ্যোতি সরকার। তিনি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত এই জট কাটানোর উদ্যোগ নিয়েছেন।

ফালাকাটা-সোনাপুর জাতীয় সড়কের পলাশবাড়ির সনজয় নদীর পাশে দু’বছর আগে প্রয়াত অনিল অধিকারির বিধায়ক তহবিলের ১৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে একটি মডেল শ্মশানঘাট তৈরি করা হয়। যার নাম দেওয়া হয় ‘শেষ খেয়া’। এই শ্মশানঘাটের পাশেই জাতীয় সড়কে সনজয় নদীর উপর কাঠের সেতু রয়েছে। এদিকে, এই রাস্তায় গত বছর থেকে চার লেনের মহাসড়কের কাজ চলছে। সেতুটি বেহাল থাকায় গত বছর জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ পাশে হিউমপাইপ বসিয়ে ডাইভারসন তৈরি করেছিল। চলতি বর্ষায় ডাইভারসনটি ভেঙে যায়।

- Advertisement -

স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই ডাইভারসনের হিউমপাইপের কারণে নদীর জল বাধা পায় এবং জলের ধাক্কায় শ্মশানঘাট মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এজন্য কয়েক মাস থেকে এখানে শবদেহ দাহ বন্ধ থাকায় এলাকায় ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। গত ২ জুলাই শ্মশানঘাট মেরামতের দাবিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেতৃত্বে এলাকার বাসিন্দারা জাতীয় সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ দেখান। এখন জল কমলেও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ শ্মশানঘাটের মেরামত করছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। সূত্রের খবর, স্থানীয়দের তরফে ডাইভারসন সংস্কারের কাজে বাধা আসার সম্ভাবনা থাকায় সম্প্রতি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানিয়েছে। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এদিন ঘটনাস্থলে আসেন বিডিও।

এদিন শ্মশানঘাট নির্মাণ কমিটির সভাপতি তরণি রায়, সম্পাদক বাদল মুন্সি, কোষাধ্যক্ষ কল্যাণ দাস স্পষ্ট জানান, শ্মশানঘাট মেরামতের কাজ করা না হলে ডাইভারসন সংস্কার করতে দেওয়া হবে না। পূর্ব কাঁঠালবাড়ি গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান সৌরভ পাল বলেন, ‘এই শ্মশানঘাট আগে মেরামত করতে হবে। প্রশাসন ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষকে সেকথা জানানো হয়েছে।’

এদিন বিডিও অমরজ্যোতি সরকার ঘটনাস্থলে এসে স্থানীয় বাসিন্দা ও জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে এনিয়ে আলোচনা করেন। পরে বিডিও বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেছি। শ্মশানঘাটটি যাতে রক্ষা পায় তা দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি জাতীয় সড়ক কর্তৃপক্ষও যাতে কাজ শুরু কর‍তে পারে সেটা দেখা হচ্ছে। দুটি কাজই তাড়াতাড়ি শুরু করা প্রয়োজন। শ্মশানঘাট মেরামতের ক্ষেত্রে প্রয়োজনে ব্লক থেকেও সহায়তা করা হবে।’

এদিকে মহাসড়ক নির্মাণকারী সংস্থার আলিপুরদুয়ার জেলার প্রশাসনিক প্রধান মেহেবুব রহমান বলেন, ‘গত সোমবার বিষয়টি নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করা হয়। বিডিও এদিন সরেজমিনে তদন্ত করেছেন। এখন বিডিওর রিপোর্ট পেলেই বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।’