দুর্নীতি ঠেকাতে কৃষকদের থেকে ধান কিনবেন বিডিও

চাঁদকুমার বড়াল, কোচবিহার : কৃষকদের কাছ থেকে সহায়কমূল্যে ধান কিনতে এবার বিডিওদের দায়িত্ব দিতে চলেছে রাজ্য সরকার। ধান ক্রয়ে দুর্নীতি বন্ধ করতে এই নয়া ব্যবস্থা। রাজ্যের খাদ্যমন্ত্রী জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক ধান কেনায় যে কিছু ক্ষেত্রে দুর্নীতি হয় তা স্বীকার করে মঙ্গলবার বলেন, ধান কেনার সব দায়িত্ব আগামী মরশুম থেকে বিডিওদের দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর পাশাপাশি এবার থেকে জেলার ধান জেলাতেই রেখে তার থেকে চাল করে সেই জেলায় ব্যবহার করা হবে। খরচা কমাতে গাড়ি ভাড়া করে এক জেলার চাল অন্য জেলায় আনা হবে না বলে খাদ্য দপ্তর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

খাদ্যমন্ত্রী এদিন বলেন, খাদ্য দপ্তর সরাসরি ধান ক্রয়কেন্দ্র খুলে যে ধান কিনছে সেখানে কোনও দুর্নীতি হচ্ছে না। কিন্তু অন্য যেভাবে ধান কেনা হচ্ছে সেখানে কমবেশি দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তাই এই সমস্যা সমাধানে একটি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ১৫ অক্টোবর থেকে নতুন মরশুমে ফের ধান কেনা শুরু হবে। সেখানে সমস্ত সিস্টেম বিডিওদের হাতে দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। বিডিওরা বিভিন্ন আধিকারিকদের দিয়ে ধান কিনবেন। বিডিওর হাতে একাধিক অফিসার রয়েছেন। তাই গোটা প্রক্রিয়াটা বিডিওরাই করবেন। নজরদারিও করবেন বলে জানান তিনি। জ্যোতিপ্রিয়বাবুর মতে, ধান ক্রয়ে কোঅপারেটিভ সহ অন্য ক্ষেত্রে কিছু দুর্নীতি হচ্ছে। তাই বিডিওই সব দেখবেন। আগেও বিডিওদের দায়িত্ব ছিল। কিন্তু এবার ৯৫ শতাংশ দায়িত্ব তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে। তবে খাদ্য দপ্তরের ধান ক্রয়কেন্দ্রগুলো আগের মতোই চালু থাকছে বলে জানান তিনি।

- Advertisement -

দার্জিলিং, উত্তর চব্বিশ পরগনা ও দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলায় ধান কম হয়। তাই এই তিন জেলায় আগের মতোই অন্য জেলা থেকে চাল যাবে। বাকি জেলায় কৃষকদের কাছ থেকে ধান কিনে তা ভাঙিয়ে চাল করে সেই জেলাতেই ব্যবহার করা হবে। এর জন্য ধান কেনার গতি আরও বাড়ানো হবে। আরও বেশি চাল রাখতে প্রয়োজনে আরও বেশি গোডাউন ভাড়া নেওয়া হবে বলে জানান খাদ্যমন্ত্রী। অন্যদিকে, ডিজিটাল র‌্যাশন কার্ড বিলি নিয়ে এদিন খাদ্যমন্ত্রী সমস্ত জেলার জেলা শাসক ও খাদ্য আধিকারিকদের সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্স করেন। সেখানে তাঁদের ১০ জুলাই থেকে ফের নতুন করে ডিজিটাল কার্ডের আবেদন নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।