নির্ভয়ে ভোট দিতে যাওয়ার আবেদন বিডিও-র, কেন্দ্রীয় বাহিনী দেখে স্বস্তিতে আমজনতা

169

রাঙ্গালিবাজনা: হাঁফ ছেড়েছেন ওরা! কে কাকে ভোট দেবেন তা নিয়ে মন্তব্য না করলেও কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের টহল ও রুট মার্চ দেখে মাদারিহাটের সাধারণ ভোটারদের অনেকেরই বক্তব্য, এবার অন্ততপক্ষে শান্তিতে ভোট দেওয়া যাবে। কারণ, ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে ওদের তিক্ত অভিজ্ঞতা হয়েছে, বলছেন অনেকেই। ওদের অনেকেরই অভিযোগ, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে যেভাবে মাদারিহাট বীরপাড়া ব্লকে সন্ত্রাস হয়েছে তা আগে কখনও হয়নি। এ ব্যাপারে তাদের অভিযোগ শাসক দলের দিকেই। তবে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দেখে মাদারিহাটের সাধারণ ভোটাররা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন। এলাকায়  কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দেখে কেউ কেউ এগিয়ে গিয়ে কথাও বলছেন। বৃহস্পতিবারও মাদারিহাটের বিভিন্ন এলাকায় রুট মার্চ করেন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা। এদিন ওই ব্লকের ১৫ টি পোলিং স্টেশন এলাকায় গিয়ে ভোটারদের সাথে কথা বলেন মাদারিহাটের বিডিও শ্যারণ তামাং। প্রশাসন সূত্রের খবর, সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান বিডিও। বিডিও অবশ্য বলেন, ‘এখনও পর্যন্ত কেউ ভয় বা প্রলোভন  দেখানোর অভিযোগ করেননি।’

প্রসঙ্গত, গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তের মতোন মাদারিহাটেও শাসকদলের বিরুদ্ধে বিরোধী দলের ভোটারদের ভয় দেখানো, রাস্তা আটকে দাঁড়ানো, বুথ জ্যাম,  ছাপ্পা ভোট সহ বিভিন্ন বেআইনি কাজের অভিযোগ তুলেছিল বিরোধী দলগুলি। এমনকি মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনই মাদারিহাট বিডিও অফিসের চত্বরে তৃণমূল কর্মীদের হাতে সিপিএমের এক নেতা বশির আহমেদকে নিগৃহীত হতে হয় বলে অভিযোগ উঠেছিল। বিরোধী দলগুলির অভিযোগ, সেবার পুলিশ ও প্রশাসনের কর্তাদের  কার্যত অকেজো করে রেখে নিজেদের ইচ্ছেমতো ভোট করায় তৃণমূলের নেতা কর্মীরা। প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রে ২২ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে বিজেপি প্রার্থী মনোজ টিগ্গা জয়লাভ করলেও ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে মাদারিহাটের বেশ কিছু আসনে প্রার্থীই দিতে পারেনি বিজেপি। মনোনয়নপত্র জমা দিয়েও পরে তা প্রত্যাহার করেন বিজেপির বেশ কয়েকজন প্রার্থী। বিজেপির অভিযোগ, ভয় দেখিয়ে ও হুমকি দিয়ে বিজেপি প্রার্থীদের মনোনয়ন প্রত্যাহারে বাধ্য করে তৃণমূল। সেবার মাদারিহাটে পঞ্চায়েত সমিতি ও গ্রামপঞ্চায়েতের বোর্ডগুলি তৃণমূল দখল করলেও ২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে আলিপুরদুয়ার লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত মাদারিহাট বিধানসভা কেন্দ্রে ৪৩ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে বিজেপি। তৃণমূলের নেতা কর্মীরা  অবশ্য তাদের বিরুদ্ধে ওঠা যাবতীয় অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন।

- Advertisement -

বীরপাড়ার বাসিন্দা তথা আরএসপির আলিপুরদুয়ার জেলা সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য গোপাল প্রধান বলেন, ‘আশা করি পঞ্চায়েত নির্বাচনের মতো পরিস্থিতি এবার তৈরি হবে না। কারণ এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের দেখে বুকে সাহস পাচ্ছেন সাধারণ ভোটাররা।’ সিপিএমের মাদারিহাট কালচিনি এরিয়া কমিটির সদস্য বশির আহমেদ বলেন, ‘মানুষ নিরাপদে ও নিজের ইচ্ছেমতো ভোট দিতে পারলেই গণতন্ত্রের পক্ষে মঙ্গল। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে ব্যাপক সন্ত্রাস করেছিল তৃণমূল।’ বিজেপি নেতা তথা মাদারিহাটের বিদায়ি বিধায়ক মনোজ টিগ্গা বলেন, ‘গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে লাগামছাড়া সন্ত্রাস চালিয়েছিল তৃণমূল। ভোটের নামে ছেলেখেলা করেছিল তৃণমূল। কিন্তু এবার কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে।’ মাদারিহাট বীরপাড়া পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ তথা তৃণমূলের আলিপুরদুয়ার জেলা কমিটির সম্পাদক রশিদুল আলম বলেন, ‘পঞ্চায়েত ভোটে কোনো সন্ত্রাস হয়নি। এছাড়া মানুষ মমতা ব্যানার্জির পাশেই রয়েছেন। জিতবে তৃণমূলই। এখানে ভোটার পিছু একজন কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ান থাকলেও জিতবে তৃণমূলই।’