জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালে থমকে সৌন্দর্যায়নের পরিকল্পনা

99

দিব্যেন্দু সিনহা, জলপাইগুড়ি : প্রথম পর্যায়ে কাজ করা হলেও গত দুবছরের বেশি সময় ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে আছে জলপাইগুড়ি জেলা সদর হাসপাতালে রাজ্য সরকারের ফেস লিফটিং প্রোগ্রামের দ্বিতীয় পর্যায়ের কাজ। জলপাইগুড়ি পুরসভার তত্ত্বাবধানে শুরু করা ওই সরকারি কাজ কেন থমকে রয়েছে তা নিয়ে ধোঁয়াশায় জেলা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সরকারি প্রকল্প এই মুহূর্তে বিশবাঁও জলে বলে হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীদের একাংশ মনে করছেন। এদিকে, কাজ বন্ধ হয়ে থাকায় হাসপাতালের জলাশয়ে ফের নোংরা ফেলছে রাস্তার পাশের হোটেলগুলি। এতে এলাকায় পচা গন্ধ ছড়াচ্ছে বলে স্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ। জেলা হাসপাতাল সুপার গয়ারাম নস্কর বলেন, জলাশয়ে পাশেই রয়েছে ব্লাড ব্যাংক। পচা গন্ধে স্বাস্থ্যকর্মীদের সমস্যা হচ্ছে। হাসপাতালের তরফে পুরসভার সঙ্গে যোগাযোগ করা হবে।

জেলা হাসপাতাল সূত্রে খবর, হাসপাতাল চত্বরের ভেতরে থাকা দুটি জলাশয়ে কারণে হাসপাতালে পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। সারা বছর ধরে কমবেশি জল থাকায় মশার আঁতুড়ে পরিণত হয়েছিল জলাশয়টি। পাশাপাশি ওই জলাশয় ঘিরে ছিল শুয়োরের অত্যাচার। জেলা হাসপাতালের বক্তব্য, হাসপাতালের নিকাশির জল গিয়ে পড়ত ওই জলাশয়ে এছাড়া রাস্তার পাশে থাকা হোটেলগুলি থেকে নোংরা ওই জলাশয়ে ফেলা হত। ফলে হাসপাতালের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছিল। তাই পুরসভার তরফে রাজ্য সরকারের ফেস লিফটিং প্রোগ্রামের মাধ্যমে ব্লাড ব্যাংকের সামনের রাস্তা এবং ওই জলাশয় সংস্কার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়।

- Advertisement -

পরিকল্পনা ছিল, একটি পাকা নিকাশিনালা তৈরি করে হাসপাতালের জল ধরধরা নদীতে ফেলা হবে। পাশাপাশি জলাশয়টির পাড় বাঁধাই এবং সংস্কার করা হবে। সেইসঙ্গে জলাশয়ে পাশে বসার জায়গারও সৌন্দর্যায়ন করা হবে। এজন্য ৭০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়। ২০১৭ সালের শেষের দিকে প্রথম পর্যায়ে ব্লাড ব্যাংকের সামনের রাস্তা এবং জলাশয়ের পাড় বাঁধাইয়ে কাজ শুরু করা হয়। ২০১৮ সালে শেষ করা হয়। ২০১৯ সালে দ্বিতীয় পর্যায়ে নিকাশির কাজ শুরু করা হয়। কিন্তু দ্বিতীয় পর্যায়ে কাজ শুরু করে দুতিন-মাস পরেই কাজ হঠাত্ করে বন্ধ করে দেওয়া হয়। কী কারণে কাজ বন্ধ করা হয়েছে তা হাসপাতালকে জানানো হয়নি। সেই সময় থেকে এখনও ওই কাজ বন্ধ হয়েছে।

এ ব্যাপারে জেলা হাসপাতাল সুপার গয়ারাম নস্কর বলেন, কেন এই সরকারি কাজ বন্ধ হয়ে আছে তা নিয়ে খোঁজ করা হবে। তবে যেভাবে জলাশয়ে আবর্জনা ফেলা হচ্ছে তাতে দূষণ ছড়াচ্ছে। অন্যদিকে, কেন কাজ বন্ধ হয়ে আছে সেই বিষয়ে খোঁজখবর নেবেন বলে পুরসভার প্রশাসনিক বোর্ড সদস্য সৈকত চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন।