বিজেপি রামকে নিয়ে ব্যবসা করছে, কটাক্ষ রেচারামের

153

ফালাকাটা: ফালাকাটায় এবার তৃণমূল কংগ্রেসের জেতার মূল ভরসা কৃষক ভোট। এক্ষেত্রে কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচিকে প্রাধান্য দিয়ে বিজেপির ওপর চাপ সৃষ্টির কৌশল নিয়েছে তৃণমূল। তাই আগামী ২ ফেব্রুয়ারি ফালাকাটায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কর্মসূচির আগে শনিবার এই বিধানসভা কেন্দ্রের জটেশ্বরে কৃষক সমাবেশ করেন কিষান ও খেতমজদুর তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি বেচারাম মান্না। এদিনের সমাবেশে কৃষিজীবী মানুষের সমাগম হয়। যুক্তি সহকারে কেন্দ্রের কৃষি আইনের বিরোধীতা ও রাজ্য সরকার যে কৃষকদের পাশে রয়েছে তা বারবার বেচারামবাবুর বক্তব্যে উঠে আসে।

তাঁর দাবি, কৃষি আইন নিয়ে বিজেপি এখন ব্যাকফুটে। তাই এই ইস্যুকে সামনে রেখেই বিজেপির কোমর ভাঙবে বলে প্রকাশ্য সমাবেশে ঘোষণা করেন বেচারাম মান্না। এজন্য তিনি ফালাকাটার কৃষকদের তৃণমূলের সঙ্গে থাকার আহ্বান জানান। তবে তৃণমূলের এই কৌশল ও কৃষক ইস্যুর প্রভাব ফালাকাটায় পড়বে না বলে জানিয়েছেন বিজেপি নেতারা।

- Advertisement -

বেচারাম মান্না বলেন, ‘কৃষি আইন নিয়ে এত আন্দোলনের পরও কেন্দ্রের টনক নড়ছে না। আমরা সিঙ্গুরে কৃষক আন্দোলন চালিয়ে যেমন সিপিএমের কোমর ভেঙে দিয়েছিলাম, একইভাবে এবার লাঠি মেরে বিজেপির কোমরও ভেঙে দেওয়া হবে।’ কৃষকদের সমর্থন আদায়ের জন্য তিনি বলেন, ‘এই আইনে কৃষিপণ্যের সহায়ক মূল্য থাকবে না। দাম ঠিক করবেন পুঁজিপতিরা। শপিং মলে কৃষি পণ্য বিক্রি হবে। চুক্তিচাষের আওতায় কৃষকরা জমি হারাবেন। সরকারি ক্ষতিপূরণ পাবেন না।’ ইংরেজ আমলে নীল চাষ ও নীল বিদ্রোহের সঙ্গে তুলনা করে তিনি বলেন, ‘রক্ত থাকতে এই আইন আমরা মানব না।’ তাঁর দাবি, রাজ্য সরকার কৃষকদের পাশে আছে।

বেচারাম বলেন, ‘আগে ফালাকাটায় ও ধূপগুড়িতে রাস্তায় ফসল ফেলে প্রতিবাদ হত। এখন হয় না।’ এছাড়াও রাজ্যের একাধিক প্রকল্পের প্রচারের পাশাপাশি বিজেপির জয় শ্রীরাম স্লোগানকেও তিনি কটাক্ষ করেন। তিনি বলেন, ‘বিজেপি রামকে নিয়ে ব্যবসা করছে। ওঁরা উন্নয়ন চোখে দেখতে পাচ্ছেন না। কারণ, ওঁদের চোখে ছানি পড়েছে।’ ফালাকাটা আসনটি তপশিলি জাতির জন্য সংরক্ষিত। তাই বিজেপির লোক দেখানো তপশিলি প্রীতিকেও কটাক্ষ করেন বেচারাম।

তিনি আরও বলেন, ‘ফালাকাটায় ওই কালা কৃষি আইন প্রত্যাহারের দাবিতে লাগাতার শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চলতে থাকবে।’ এদিনের সমাবেশে তিনি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের নেতা ঋতব্রত বন্দোপাধ্যায়, মৃদুল গোস্বামী, সুভাষ রায়, সুরেশ লালা, কৃষক সংগঠনের জেলা সভাপতি প্রসেনজিৎ রায়, ব্লক সভাপতি সুনীল রায় প্রমুখ।

তবে বিজেপির কিষান মোর্চার জেলা সভাপতি সুজিত সাহা বলেন, ‘তৃণমূলের সুটেট বুটেট নেতাদের ভাঁওতাবাজি কথায় সাধারণ কৃষকরা প্রভাবিত হবেন না। আর কৃষি আইনের কোনও প্রভাবও ফালাকাটায় পড়বে না। এখানকার কৃষকরা যে বিজেপির সঙ্গেই আছেন, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফলে তৃণমূল তা টের পাবে।’