খেলল মহমেডান, ডুরান্ড জিতল গোয়া

মহমেডান স্পোর্টিং : ০ এফসি গোয়া : ১ (বেদিয়া ১০৫মি)

কলকাতা : ঠোঁট আর কাপের দূরত্ব। সেই ব্যবধান ঘুচল না। আশা জাগিয়েও ডুরান্ড কাপ হাতছাড়া মহমেডানের।

- Advertisement -

ফাইনালে ৯০ মিনিট পর্যন্ত এফসি গোয়ার সঙ্গে সমান তালে পাল্লা দিয়ে লড়লেন সাদা-কালো ফুটবলাররা। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে পর এক্সটা টাইমে বাজিমাত করে গেলেন গোয়ার অধিনায়ক এডু বেদিয়া। ম্যাচের বয়স তখন ১০৫ মিনিট। মহমেডান বক্সের ঠিক বাইরে থেকে ফ্রি-কিক পেয়েছিল গোয়া। বেদিয়ার বাঁ-পায়ে নেওয়া শট সাদা-কালো রক্ষণকে দাঁড় করিয়ে জড়িয়ে গেল জালে। দর্শকঠাসা যুবভারতীর গ্যালারিতে তখন পিনড্রপ সাইলেন্স।

আটবছর পর ডুরান্ড ফাইনালে দল। দুপুর থেকেই মাঠমুখো হয়েছিলেন মহমেডান সমর্থকরা। তাদের সমর্থন জানাতে মাঠে হাজির ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান সমর্থকরা। ফাইনালে হাজির রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড়। সঙ্গী ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। লাল-হলুদ, সবুজ-মেরুন আর সাদা-কালোর মিঁশেলে যুবভারতী তখন বর্ণময়। সেই পরিচিত দৃশ্যের সঙ্গে দারুণ মানানসই মহমেডানের সাবলীল ফুটবল। ফাইনালের মঞ্চে প্রতিপক্ষ এফসি গোয়া বলে গুটিয়ে থাকা নয়, ম্যাচের প্রথম মিনিট থেকে নখদাঁত বার করে ঝাঁপালেন আন্দ্রে চেরনিশভের ছেলেরা।

গোটা টুর্নামেন্টে গোলের ফুলঝুরি ছোটালেও সেমিফাইনালে বেঙ্গালুরু এফসির বিরুদ্ধে কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা চাপে ফেলে দিয়েছিল হুয়ান ফেরান্দোর গোয়াকে। প্রকট হয়ে পড়েছিল রক্ষণের ভুলত্রুটি। এদিনও মহমেডানের উজ্জীবিত ফুটবলের সামনে ত্রাহি মধুসূদন দশা আইএসএলের দলটির। আইএসএল আর আই লিগ দলের ফারাকটুকু সাদা-কালোর নিকোলা স্টোজানোভিচ, ফয়সল আলিরা ঘুচিয়ে দিলেন নিজেদের সপ্রতিভ ফুটবলে।

দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য অন্য ফুটবল। জয়ের ইচ্ছাশক্তি বোধহয় বিরতিতে সাজঘরে রেখে খেলতে নেমেছিলেন দুদলের ফুটবলাররা। মাঝমাঠে আটকে থাকল দুই কোচের ট্যাকটিক্যাল লড়াই। বিরক্তিকর ফুটবলের সঙ্গে দ্বিতীয়ার্ধে পাল্লা দিয়ে বাড়ল ফুটবলারদের মধ্যে চোরাগোপ্তা মার। ফুটবলার থেকে দুদলের ডাগআউটে মেজাজের পারদ চড়ল। তাতলো গ্যালারি। তবে নব্বই মিনিটের পর খেলা অতিরিক্ত সময়ে গড়াতেই ভেল্কি দেখালেন বেদিয়া। তাতেই উচ্ছ্বাসের বাঁধ ভাঙল গোয়ার ডাগআউটে। ম্যাচ শেষে ক্র‌্যাচ নিয়ে সতীর্থদের সঙ্গে উৎসবে সামিল চোটগ্রস্ত জর্জে ওর্টিজ।

যুবভারতীর গ্যালারি যদিও তখন হাজারো স্বপ্নের অপমৃত্যুতে মুহ্যমান।