কোচবিহার, ১৮ মার্চঃ লোকসভা নির্বাচনের আগে কোচবিহার জেলায় বাড়তি নিরাপত্তার জন্য নাকা পযে্টগুলিতে লাগানো হয়েছে সিসিটিভি ক্যামেরা। জেলায় ৭টি নাকা পয়েন্টে ২৬টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে। নির্বাচনের আগে মোট ২৮টি নাকা পয়েন্ট তৈরি করা হবে। সেখানে ১১০টি সিসিটিভি ক্যামেরা লাগাবে জেলা পুলিশ। জেলা পুলিশ সুপার নিজের মোবাইল থেকেই সেই সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সব সময় নজরদারি চালাবেন। পুলিশ সুপার অভিষেক গুপ্তা বলেন, সীমান্ত এলাকাগুলিতে বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নাকা পয়েন্ট গুলিতে নিয়মিত চেকিং চলছে। পাশাপাশি, নিজের মোবাইল থেকেই সিসিটিভি ক্যামেরায় মনিটরিং চলছে।

নির্বাচন এগিয়ে আসতেই অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে উঠেপড়ে লেগেছে জেলা প্রশাসন। মাঝেমধ্যেই চলছে উচ্চপর্যায়ে বৈঠক। বাইরে থেকে যাতে অবৈধ আগ্নেযাস্ত্র জেলায় ঢুকতে না পারে সেজন্য বালাভূত, কাশিযাবাড়ি, নিউ চ্যাংরাবান্ধা, পাতলাখাওয়া, সংকোশ সহ মোট ৭টি নাকা পয়েন্টে চলছে বিশেষ তল্লাশি। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পুলিশের প্রহরাও বাড়ানো হয়েছে। সাফল্যও মিলছে। রবিবারও কাশিয়াবাড়ি থেকে প্রচুর পরিমাণে গাঁজা সহ বিহারের দুই যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। শনিবারও নিউ চ্যাংরাবান্ধা নাকা পয়েন্ট থেকে দুটি আগ্নেযাস্ত্র সহ এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, জেলার বিভিন্ন প্রান্তে এখনও যে বেশকিছু অবৈধ অস্ত্র রয়েছে তা একপ্রকার নিশ্চিত পুলিশ। সেই আগ্নেয়াস্ত্রগুলি উদ্ধার করতে তৎপরতা শুরু হয়েছে। নির্বাচনি প্রচার নিয়ে একদিকে যেমন রাজনৈতিক দলগুলির ব্যস্ততা তুঙ্গে তেমনি নিরাপত্তা ব্যবস্থায় যাতে কোনোরকম গলদ না থাকে সেজন্য পুলিশও উদ্যোগ নিয়েছে। আন্তঃরাজ্য ও আন্তঃজেলা সীমান্তে নজরদারি চলছে বেশি। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সাম্প্রতিককালে কোচবিহার জেলা থেকে উদ্ধার হওয়া আগ্নেযাস্ত্রগুলি রাজ্যের বাইরে থেকেই আমদানি হয়েছে। গত দুমাসে জেলায় ২৭টি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। যার মধ্যে বেশ কযেটি অত্যাধুনিক। চোরাপথে সীমান্তবর্তী এলাকাগুলি দিয়ে জেলায় অস্ত্র ঢুকতে পারে বলে পুলিশের ধারণা। ইতিমধ্যেই নির্বাচনের আগে জেলাকে অবৈধ অস্ত্রমুক্ত করা হবে বলে পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে। জেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সঠিক রাখতে যেমন চলছে নাকা চেকিং তেমনই প্রযুক্তির সাহায্য নিযে চলছে নজরদারি। নানা যন্ত্রপাতি দিযে সাজানো মোবাইল ওয়াচ টাওয়ার রাস্তায় ঘুরে ঘুরে নজরদারি চালাচ্ছে। গাড়িটিতে এলইডি স্ক্রিন, ক্যামেরা, কম্পিউটার সহ উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিডার রয়েছে। তাই সহজেই সন্দেহজনক যানবাহনের উপর নজর রাখতে পারছে পুলিশ। গত পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্তে সন্ত্রাসের অভিযোগ তুলেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলি। অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে নির্বাচনের দিনেও। এবার সে ধরনের ঘটনা এড়াতে নির্বাচনের দিনক্ষণ ঘোষণার পর থেকেই নিরাপত্তায় জোর দিয়েছে পুলিশ।