সঞ্চয়ে অর্থ ত্রাণ তহবিলে দিয়ে খাবার জুটছে না ভিক্ষুকদের

254

তমালিকা দে, শিলিগুড়ি : নিজেরা কী খাবেন, তার ঠিক থাকে না কোনওদিন। কেউ হাত বাড়িয়ে কিছু দিলে তবেই খাবার জোটে। তাতে কোনওদিন পেট ভরলেও অধিকাংশ দিনই খিদের জ্বালা চেপে কাটাতে হয়। তবু ওঁরা এগিয়ে এসেছিলেন। করোনা টলমল সারা দেশের পাশে নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী ওঁরা দাঁড়িয়েছেন। নিজেদের জমানো টাকা উজাড় করে ওঁরা তুলে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। কিন্তু শেষ সম্বল বিলিয়ে দিয়ে ওঁদের এখন আক্ষরিক অর্থেই অভুক্ত থাকতে হচ্ছে।

মায়ের ইচ্ছা কালীমন্দিরের সামনে জন পঁচিশেক ভিক্ষুক বসেন। করোনা ভাইরাসের আক্রমণে জটিল পরিস্থিতিতে এক স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার মারফত নিজেদের ভাঁড়ে জমানো সব টাকা তাঁরা পাঠিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে। সেই অঙ্কটা বিশাল না হলেও ভিক্ষুকদের এই মানবিক মুখ দেখে শিলিগুড়ি শহরের মানুষ তাঁদের অকুণ্ঠ সাধুবাদ দিয়েছেন। কিন্তু কদিন যেতে না যেতেই ওই ভিক্ষুকদের দিকে আর কেউ ফিরে তাকাচ্ছেন না। এমনিতেই লকডাউনে মন্দিরে ভক্তদের ভিড় নেই। পরিস্থিতি এখন এমন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে ওই ভিখারিদের দুবেলা খাবার জুটছে না। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শুকনো মুখে তাঁরা বসে থাকছেন মায়ের ইচ্ছা কালীমন্দিরের সামনে। কখনও-সখনও দুপুরের খাবার জুটলেও প্রতি রাতই কাটছে না খেয়ে। মন্দিরের মায়ের ভোগ বিলি বন্ধ থাকায় সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠেছে।

- Advertisement -

মন্দিরের সামনে বসে থাকা অঞ্জনা মণ্ডল বলেন, বহু বছর ধরে মন্দিরের সামনে বসে ভিক্ষা করি। আমার কোনও সন্তান নেই। তাই মন্দিরের সামনে বসে যা আয় হয় তা দিয়ে পেট চলে। মন্দিরের ভোগ এখন বন্ধ। লোকজন নেই বলে ভিক্ষার ঝুলিও ফাঁকা। প্রায়দিনই না খেয়ে কাটাচ্ছি। আরেকজন ভিক্ষুক ফুলমালা সরকার বলেন, আমরা নিজেদের জমানো টাকা ত্রাণ তহবিলে দিয়েছিলাম। কিন্তু আমাদের নিজেদেরই অবস্থা খারাপ। বাকি দিনগুলো কীভাবে চলবে জানি না। কোনওদিন দুপুরে খাবার জুটলে সেটাও পেট ভরে খেতে পারি না। রাতের জন্য বাঁচিয়ে রাখতে হয়। আমাদের অবস্থা খুবই খারাপ। দুই সন্তান নিয়ে মন্দিরের সামনে খাবারের জন্য বসে থাকা মিতালি চক্রবর্তী জানান, সন্তানের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার জন্যই প্রতিদিন এখানে বসে থাকি। সেই খাবারটুকুও এখন জুটছে না। ভিক্ষুকদের অবস্থার কথা শুনে মন্দিরের পক্ষে রঞ্জন শা বলেন, এখন এক ঘণ্টার জন্য মন্দির খোলা হয়ে থাকে। পুজো হয়ে গেলেই মন্দির বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন মায়ের ভোগ রান্না করা হচ্ছে না। তাই ভিক্ষুকরা তা পাচ্ছেন না।