বেহাল তুরীপুকুর শ্মশান, সংস্কারের দাবি

296

রায়গঞ্জ: শহর লাগোয়া রায়গঞ্জ সিজগ্রাম তুরীপুকুর শ্মশানটির অবস্থা বেহাল। গ্রাম পঞ্চায়েতের সহযোগিতা ছাড়াই স্থানীয়রা কোনও রকম চালাচ্ছে। পরিকাঠামোহীন শ্মশানটি গ্রাম পঞ্চায়েতের নথিভূক্ত না হওয়ায় কোনও রকম উন্নয়ন করা যাচ্ছে না বলে স্বীকার করে নিয়েছেন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান। এদিকে শ্মশানে থাকা টিউবওয়েলটি অকেজো, নেই আলোর ব্যবস্থা, নেই শ্মশান বন্ধুদের জন্য বিশ্রামঘর। ফলে মৃতদেহ দাহ করতে নিয়ে এসে সমস্যায় পড়েন শ্মশানযাত্রীরা।

রায়গঞ্জ শহর লাগোয়া বরুয়া গ্রাম পঞ্চায়েতের সিজগ্রামের এই শ্মশানে প্রতিদিন নোয়াপাড়া, রাড়িয়া, সিজগ্রাম, গোয়াললপাড়া, ভাগডুমুর সহ বিভিন্ন গ্রাম ও রায়গঞ্জ শহর থেকে মৃতদেহ দাহ করতে নিয়ে আসেন বাসিন্দারা। শ্মশানের উন্নয়নের দাবিতে সোচ্চার হয়েছেন গ্রামবাসীরা। বৃদ্ধ এক গ্রামবাসী বৌদ্ধ বর্মণ জানান, শ্মশানে নেই জলের ব্যবস্থা, নেই আলোর ব্যবস্থা। বিশ্রামঘর না থাকায় রৌদ ও জলে ভিজতে হয় শ্মশান যাত্রীদের। গ্রাম পঞ্চায়েতের মেম্বার থেকে প্রধান সবাইকে জানিয়েও কোনও লাভ হচ্ছে না। সবাই শুধু প্রতিশ্রুতি দেয় হচ্ছে আর হবে। কিছু বলতে গেলে শত্রুতা হবে তাই চুপচাপ থাকতে হয়।

- Advertisement -

তিনি আরও বলেন, দু’বেলা এসে শ্মশান পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখি। আর শ্মশানে এসে ভগবানকে ডাকি। শ্মশান দেখা শোনা করে রাখেন স্থানীয় যুবকদের মধ্যে অন্যতম চন্দন বর্মন। তিনি বলেন, আমরা নিজেরা চাঁদা তুলে শ্মশানটি ঠিকঠাক রাখছি। অনেক সমস্যা এই শ্মশানের। গ্রাম পঞ্চায়েতের কোনও সহযোগিতা না পাওয়ায় টিউবওয়েল, আলো ও শেডের ব্যবস্থা করা যায়নি। শ্মশানে নেশার ঠেক যাতে না হয় সেদিকে নজর রাখি। গ্রামবাসীদের অভিযোগ, এখানে দাহ করার পর মৃতের নাম নথিভূক্ত করার কোনও ব্যবস্থা না থাকায় সমস্যায় পড়তে হয়। তাই তারা এখানে রেজিস্টার রাখারও দাবি জানিয়েছেন।

নোয়াপাড়া সংসদের সদস্য মানিক বর্মন জানান, শ্মশানের উন্নয়নের চিন্তা ভাবনা রয়েছে পঞ্চায়েতের। যুবকরা কেন দেখবে আমরাই দেখি। আলো, জল, শেডের ব্যবস্থা করা হবে। যে টিউবওয়েলটি অকেজো আছে সেটি নিশ্চয় মেরামত করে দেওয়া হবে।

গ্রাম পঞ্চায়েত প্রধান ধনেশ্বর বর্মন জানান, এই অঞ্চলে চারটি নথিভূক্ত শ্মশান রয়েছে। অনেকগুলি সরকারি জমিতে থাকলেও নথিভূক্ত নয়। তবে একশো দিনের কাজের প্রকল্পে স্থানীয় গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্য উদ্যোগ নিয়ে সেই শ্মশানগুলির উন্নয়ন করতে পারেন। তিনি বলেন, তুরীপুকুর শ্মশানটি স্থানীয় কয়েকজন যুবক দেখাশোনা করেন। ওখানে মন্দির তৈরি করেছেন। জল, আলো ও শেডের ব্যবস্থা করা হবে।