আই লিগে বিরল নজিরের সামনে বেইতিয়া

শিলাজি সরকার, কলকাতা : পয়েন্টের বিচারে এখন লিগে দুনম্বরে। তবে জানেন, চ্যাম্পিয়নশিপ পর্বে ভালো না খেললে শেষ ৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকা বেকার হয়ে যাবে। তাই লিগের বাকি পাঁচটা ম্যাচে ফোকাস করছেন পাঞ্জাব এফসির জোসেবা বেইতিয়া।

গত মরশুমে মোহনবাগানের জার্সিতে নজর কেড়েছেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার। মেরিনার্সদের লিগ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পেছনে বেইতিয়া অন্যতম কারণ। এবছরও ফর্মে আছেন। অ্যারোজ আর নেরোকা ম্যাচে তাঁর পাস থেকেই জয়সূচক গোলটি এসেছিল। আর রিয়াল কাশ্মীরের বিরুদ্ধে পেনাল্টিতে এনেছেন এক পয়েন্ট। তবে নিজের ফর্মের থেকেও টিমগেমকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। একইসঙ্গে প্রতিপক্ষ সম্পর্কেও সাবধানী, ‘চ্যাম্পিয়নশিপ পর্বের দলগুলির মধ্যে পার্থক্য সামান্যই। নিজেদের দিনে যে কেউ জিততে পারে। তবে আমরা স্বাভাবিক ভাবে খেলতে পারলে আমাদের আটকানো অসম্ভব।’

- Advertisement -

চলতি বছর কলকাতার দুই প্রধান না খেললেও আই লিগের চরিত্র বদলায়নি বলেই মত বেইতিয়ার। তাঁর কথায়, ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের ঐতিহ্য, সমর্থক বা ভারতীয় ফুটবলে অবদান নিয়ে নতুন কিছু বলার নেই। তবে এটাও সত্যি যে ওরা প্রতিবার চ্যাম্পিয়ন হয়নি। আই লিগে প্রতিবছর চমক অপেক্ষা করে। এই লিগে কেউ কাউকে জায়গা ছাড়ে না। সেটা এবছরও একই আছে। পরিবারকে ছেড়ে জৈব সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে থাকাটা চাপের, স্বীকার করছেন। তবে মাসখানেক পরেই মুক্তি, এটাই আশাবাদী করছে রিয়াল সোসিয়েদাদের যুব দল থেকে উঠে আসা বেইতিয়াকে।

পরপর দুবছর দুই দলের হয়ে আইলিগ জেতার বিরল নজির গড়ার সুযোগ রয়েছে বেইতিয়ার সামনে। এমন অবস্থায় মোহনবাগানের সতীর্থ পাপা দিওয়ারাকে পাশে পেয়ে খুশি তিনি। তাঁর কথায়, আমরা দুজনে একই ভাষায় কথা বলি, একে অপরের খেলার ধরণ জানি। তাই আমাদের আলাদা করে মানিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন হয়নি। ফলে কাজটা সহজ হয়ে গিয়েছে। নিজের পাশাপাশি পাপা, চেঞ্চো গেলৎসেন, আফোবা সিং ও সুমিত পাসির কথা উল্লেখ করে বললেন, আমাদের মধ্যে দারুণ বোঝাপড়া গড়ে উঠেছে। যার জেরে আক্রমনে জোর বাড়ে।

আই লিগ জেতার পরও পুরোনো দলে জায়গা না হওয়া নিয়ে কোনও খারাপ লাগা নেই। বললেন, মোহনবাগানে গত বছরটা দারুণ গিয়েছে। তবে বিভিন্ন কোচের পরিকল্পনা এক-এক রকম। আমি পেশাদার। এই নিয়ে খারাপ বা ভালোলাগার কিছু নেই। নিজের দল খেলছে না, তাই আইএসএলও দেখছেন না। বরং মোহনবাগানের পর পাঞ্জাবকেও চ্যাম্পিয়ন করার উপরেই জোর দিচ্ছেন তিনি।