ইউরোয় রোনাল্ডো বিদায় রাজকীয় হল না

সেভিল : রোমেলু লুকাকু দৌড়ে এলেন তাঁর কাছে। তিনি তখন মাথা নীচু করে টানেলের পথ ধরেছেন। দাঁড়িয়ে দুটো কথা বললেন বেলজিয়াম স্ট্রাইকারের সঙ্গে। কিন্তু পরিষ্কার বোঝাই গেল, কথা বলার মতো মানসিক অবস্থা নেই ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর। দ্রুত অদৃশ্য হয়ে গেলেন টানেলের পথ ধরে।

শুধু এবারের মতোই নয়, মোটামুটিভাবে ইউরো যাত্রা চিরকালের মতোই শেষ হয়ে গেল বিশ্বের অন্যতম সেরা বা বলা যেতে পারে যুগ্ম সেরার জন্য। কারণ, চার বছর পরে আবার যখন ইউরোর আসর বসবে তখন তিনি চল্লিশ। স্বাভাবিক নিয়মেই আর পাওয়া যাবে না তাঁকে। গতবারের চ্যাম্পিয়নদের এবার বিদায় নিতে হল শেষ ষোলো থেকেই। এবং দুটো চোটের জন্য একটু গুটিয়ে থাকায় দ্বিতীয়ার্ধে পর্তুগালকে আক্রমণাত্মক দেখালেও রোনাল্ডো নিজেও জানেন, রবিবাসরীয় রাতে তাঁর চিরচেনা স্পেনে তাঁরা মোটেই আহামরি খেলেননি। মরশুমটাই খুব একটা সুবিধার গেল না পর্তুগিজ মহাতারকার জন্য।

- Advertisement -

বেশিরভাগ সেরাদের শেষটা কেন যেন চোখের জলেই লিখে রাখেন ওপরওয়ালা। পেলে, মারাদোনা, এরকম আরও কত নামের সঙ্গে কি রোনাল্ডোর নামটাও যোগ হয়ে যেতে বসেছে? কাতার বিশ্বকাপে তিনি খেলবেন। কিন্তু বয়সটা তখন ৩৭ পার করে ফেলবেন। কতটা ধার আর থাকবে, তিনি নিজেও কি জানেন? এবারই তাঁর বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ফ্রি কিকগুলো নিয়ে সমালোচনা শুরু হয়ে গিয়েছে। অনেকেই বলছেন, তিনি একেবারেই পারছেন না প্রতিপক্ষ গোলরক্ষককে বিব্রত করার মতো ফ্রি-কিক নিতে। অথচ তাঁর সতীর্থদের সাহস নেই যে, তাঁকে কিক নিতে বারণ করেন।

ক্লাব স্তরে এবার ৪০টা গোল করলেও তিনি যে নিজের ফর্মের ধারেকাছে নেই, একথাও সবাই আড়ালে আবডালে বলে ফেলছেন। জুভেন্তাসকে সিরি আ লিগটাও দিতে পারেননি। শুধুমাত্র ইতালিয়ান কাপ ও ইতালিয়ান সুপার কাপ পেয়েছে জুভে। এমনকি ক্লাবে তাঁর ভবিষ্যতের ওপরেও প্রশ্নচিহ্ন পড়ে গিয়েছে। অথচ এবারে ইউরোর শুরুটা চমৎকার করেছিলেন তিনি। প্রথম তিন ম্যাচে পাঁচ গোল করে ইরানের আলি দায়ির সর্বকালের ১০৯ গোলের রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলা এবং স্বযং রেকর্ডধারীর শুভেচ্ছা প্রাপ্তি। এই ছন্দটা ধরে রাখতে পারলে হয়তো এবারও তিনি বর্ষসেরা হতেন। কিন্তু সম্ভবত সেটা আর হচ্ছে না। আর এসব কারণেই সম্ভবত ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজতেই অধিনায়কের আর্ম ব্যান্ড ছুড়ে ফেলে দিয়ে দ্রুত লা কার্তুজা স্টেডিয়ামের সাজঘরে ফিরে যেতে দেখা গিয়েছে তাঁকে।

২০১৬ সালে ইউরো জেতার পরে দুবছরের মধ্যে প্রি-কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নিতে হয়েছিল পর্তুগালকে। একই ঘটনা ঘটল এবারও। ২০১৯-এর নেশনস লিগ জেতার পর ফের একই পর্যায়ে বিদায় ইউরোয়। ম্যাচের পর ফের্নান্দো স্যান্টোস যদিও বলেন, অত্যন্ত হতাশাজনক ঘটনা আমাদের জন্য। আমরা আশা করেছিলাম ২০১৬র পুনরাবৃত্তি হবে। বিশ্বকাপে এভাবেই বিদায় নেওয়ার পর ২০১৯ সালে নেশনস কাপ জিতি। এবার আমরা কাতারে বিশ্বকাপটা জেতার চেষ্টা করবো। তবে তিনিও জানেন, কাজটা কতটা কঠিন হবে তাঁর দলের পক্ষে।