খেলা হবের পালটা বিকাশের মন্ত্র, পুরুলিয়ার সভা থেকে বার্তা মোদির

84

পুরুলিয়া: যতই নির্বাচন এগিয়ে আসছে ততই উত্তাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে রাজ্য রাজনীতিতে। বৃহস্পতিবার দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ফের বঙ্গ সফরে এসে তৃণমূলকে আক্রমণ শানিয়ে তাদের বিরুদ্ধে দেশবিরোধী শক্তিকে সমর্থনের অভিযোগ তোলেন। মাওবাদী থেকে ইসলামি চরমপন্থী জঙ্গিদের পাশে দাঁড়ানোর পাশাপাশি তোষণের রাজনীতির অভিযোগ তোলেন তৃণমূলের বিরুদ্ধে। এদিন মোদি বলেন, ‘নিজেদের লাভের জন্য মাওবাদীদের মদত দেয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। যার ফল ভুগতে হয় এখানকার সাধারণ মানুষকে।’

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচনি প্রচারে এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একহাত নিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এদিন পুরুলিয়ার ভাঙড়ায় সভায় দাঁড়িয়ে একের পর এক ইস্যুতে মুখ্যমন্ত্রীকে তোপ দাগেন তিনি। ‘নির্বাচনের পর তৃণমূল শুধু হাতে গোনা থেকে যাবে। দিদি বলছে খেলা হবে, বিজেপি বলে চাকরি হবে। দিদি বলছে খেলা হবে, বিজেপি বলে বিকাশ হবে। দিদি বলছে খেলা হবে, বিজেপি বলে শিক্ষা হবে। বিজেপি বলে মহিলাদের উত্থান হবে,  বিজেপি বলে যুবশক্তির বিকাশ হবে। বিজেপি বলে প্রত্যেক ঘরে কল হবে, মিলবে পানীয় জল। বিজেপি বলে হাসপাতাল হবে। কটাক্ষের সুরে তিনি বলেন, ‘খেলা শেষ হবে, বিকাশ আরম্ভ হবে।’

- Advertisement -

প্রধানমন্ত্রীর কথায়, ‘তৃণমূল সরকার নিজের খেলাতেই মত্ত। পুরুলিয়ায় জলসঙ্কট ভরা জীবন দিয়েছে তৃণমূল সরকার। শুধু ভেদাভেদের রাজনীতি তৃণমূলের। ৮ বছর পরেও পুরুলিয়ায় জল প্রকল্প হয়নি। এর জবাব কে দেবে দিদি? পুরুলিয়ার মানুষ জবাব চায়। তিনি বলেন, কাজের হিসেব দিন দিদি। বছরের পর বছর ধরে একটি সেতুও তৈরি করতে পারেনি তৃণমূল। এখন বলছে উন্নয়নের কথা। বাংলা বিজেপি ক্ষমতায় এসে আগে এই সমস্যার সমাধান করবে। বাংলায় ডবল ইঞ্জিন সরকার। দিল্লির ইঞ্জিন ও বাংলার ইঞ্জিন সরকার এলে পুরুলিয়া সহ বাংলার বিকাশ হবে।’

পুলওয়ামা হামলা নিয়ে মোদি বলেন, ‘দেশের সেনার বিরুদ্ধে আপনি অভ্যুত্থানের চেষ্টার অভিযোগ করেছিলেন। পুলওয়ামা হামলার সময় আপনি কাদের সঙ্গে ছিলেন তাও দেশের মানুষ ভোলেনি’।

বটলাহাউজ এনকাউন্টার নিয়ে মমতা আক্রমণ করে মোদির দাবি, ‘কয়েকদিন আগে দিল্লির একটি আদালত বটলা হাউজ এনকাউন্টর নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ রায় দিয়েছে। এই রায় ভারতে সন্ত্রাসবাদ ও সন্ত্রাসবাদের পিছনে যে আসল চেহারাগুলো রয়েছে তাদের প্রকাশ্যে এনে দিয়েছে। এই এনকাউন্টারে এক জঙ্গির ছোড়া গুলিতে দেশের সাহসী সন্তান ইন্সপেক্টর মোহন চন্দ্র শর্মা শহিদ হয়েছিলেন। আদালত সেই জঙ্গিকে ফাঁসির সাজা শুনিয়েছে। কিন্তু মমতা দিদি ও ওনার পার্টির সেই সময়ের আচরণ কেউ ভোলেনি। ওরা তখন সন্ত্রাসবাদীদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। এনকাউন্টার নিয়ে প্রশ্ন তুলছিলেন। তুষ্টিকরণের জন্য এরা কোন পর্যন্ত যেতে পারে এটা তার সব থেকে বড় উদাহরণ।’ তাঁর দাবি, জঙ্গলমহলের যুবকদের অধিকার কেড়ে নিয়ে একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের তোষণ করছেন মমতা।

এদিন পুরুলিয়ার সভামঞ্চ থেকে মোদি বলেন, ‘সবধরণের খেলা খেলুন, কিন্তু বাংলার মানুষ কিছু ভুলে যায় না। দেশের সেনাদের বিরুদ্ধেও কথা বলেছেন। পুলওয়ামা হামলার পর কার সঙ্গে মমতা ছিলেন, সবাই জানেন। বাটলা হাউস এনকাউন্টারে জঙ্গির গুলিতে মৃত্যু হয় জওয়ানের। তখন এনকাউন্টারের সমালোচনা করেছিলেন মমতা। তোষণের রাজনীতির এটা বড় পরিবর্তন। বাংলায় অনুপ্রবেশের পিছনে একটাই রাজনীতি তোষণ। লোকসভায় তৃণমূল হাফ, বিধানসভায় পুরো সাফ। বাংলার দলিত, আদিবাসী, পিছিয়ে পড়া মানুষকে সঙ্গে নেননি মমতা।’