বাংলার ভোটই চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনের

228
সংগৃহীত

প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত, নয়াদিল্লি : নির্বাচন ঘোষণার আগে বিজেপির একাংশের দাবি মেনে আধা-সেনা মোতায়েন হয়তো হবে না, কিন্তু নির্বিঘ্নে ভোট পরিচালনার প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা জানিয়ে দিয়েছেন, বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ শুরু হয়ে গিয়েছে। বিধানসভা কেন্দ্রওয়াড়ি পর্যবেক্ষকরা এঁদের তত্ত্বাবধানে থাকবেন। মূলত আইনশৃঙ্খলা ও ভোটে রাজনৈতিক দলগুলির আর্থিক খরচে নজর থাকবে বিশেষ পর্যবেক্ষকদের। বিশেষ করে বাংলার আইনশৃঙ্খলা যে অবাধ নির্বাচনের প্রতিবন্ধক, তা স্পষ্ট করেছেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বুঝিয়ে দিয়েছেন, ভোটপর্ব নির্বিঘ্ন করা এখন একমাত্র চ্যালেঞ্জ নির্বাচন কমিশনের কাছে। এজন্য বিহারের অভিজ্ঞতাকে কমিশন কাজে লাগাতে চায় বাংলায়। প্রয়োজনে বিহার নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকদের সঙ্গে বাংলার আধিকারিকদের কথা বলানোর পরিকল্পনাও কমিশনের আছে। ওই সাক্ষাত্কারে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা বলেন, প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বের মধ্যে কিছু না কিছু শিক্ষণীয় থাকে। বিহারের পর আমরা পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাডু অসম, কেরল এবং পুদুচেরিতে বিধানসভা ভোট করাব। প্রতিবার ভোটের সময় আমরা যে ধরনের নির্বাচনি প্রস্তুতি নিয়ে থাকি, তাতে সফলভাবে নির্বাচন করানো সম্ভব হয়। বিহারের অভিজ্ঞতাকেও বাংলা সহ চার রাজ্য ও একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের বিধানসভা ভোটে কাজে লাগানো হবে। আমরা পশ্চিমবঙ্গে ইতিমধ্যে বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ শুরু করেছি।

বিহারে বিধানসভার নির্বাচনি খরচে লাগাম টানার জন্য দুজন বিশেষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ করেছিল নির্বাচন কমিশন। পশ্চিমবঙ্গের ভোটে কমিশন আরও আটঘাট বেঁধে নামছে বলে জানিয়েছেন সুনীল অরোরা। তিনি বলেন, আমরা সবরকম প্রস্তুতি নিচ্ছি, যাতে যখনই প্রয়োজন হবে, তখনই যেন দ্রুত এবং কঠোরভাবে আইনভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারি। একুশের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বাংলার রাজনীতি এখন সরগরম। নতুন বছরে নবান্নর দখলের লক্ষ্য নিয়ে ক্রমশ মরিয়া হয়ে উঠছে বিজেপি। প্রস্তুতি নিচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেসও। অন্যদিকে, বাম, গণতান্ত্রিক এবং ধর্মনিরপেক্ষ সরকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে জোট বাঁধছে বামফ্রন্ট ও কংগ্রেস। রাজনীতির এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে আসন্ন বিধানসভা ভোট নিঃসন্দেহে অশান্ত হয়ে ওঠার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, বিহারে যে অফিসাররা নির্বাচনের সময় দাযিত্ব সামলেছিলেন, তাঁদের পশ্চিমবঙ্গ সহ অন্যান্য রাজ্যের আধিকারিকদের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করতে বলেছি। নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তাঁরা তুলে ধরবেন। আমরা বিহারের স্বাস্থ্য দপ্তর এবং রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিককে পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাডু স্বাস্থ্য দপ্তর ও মুখ্য নির্বাচনি আধিকারিকদের সঙ্গে কথা বলতে বলেছি। পশ্চিমবঙ্গে আমরা এবার ২৮ হাজার অতিরিক্ত বুথ তৈরি করছি। মূল ভোটগ্রহণ কেন্দ্রের যতটা সম্ভব কাছে এই বুথগুলি থাকবে। এর ফলে নিরাপত্তাকর্মী এবং ভোটকর্মীদের দ্রুত ওই বুথগুলিতে মোতায়েন করা সম্ভব হবে।

- Advertisement -

এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গে যে কোনও নির্বাচনের আগে ও পরে রাজনৈতিক হানাহানি রুটিন ঘটনায় পরিণত হয়ে গিয়েছে। হিংসা, বোমাবাজি, খুন ইত্যাদি রাজ্যে এখন রাজনৈতিক রেষারেষির অংশ। এজন্য রাজ্য সরকার ও শাসকদল তৃণমূলকে দায়ী করে বিজেপি ইতিমধ্যে এখন থেকেই রাজ্যে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েনের দাবি তুলেছে। কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে ভোট করানোর দাবি জানিয়েছে বাম ও কংগ্রেসও। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার বলেন, ২০২১-এর নির্বাচন যে যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং হতে চলেছে, সেব্যাপারে সন্দেহের অবকাশ নেই। তবে বাহিনী মোতায়েন নিয়ে রাজ্য সরকার আপত্তি করবে, এমন ধারণারও কোনও জায়গা নেই। বাংলার জন্য কত বাহিনী লাগবে, তা ঠিক করতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সঙ্গে লাগাতার বৈঠক চলছে। এটা যে কোনও নির্বাচনের সময় হয়। যথাসময়ে আমরা এবিষয়ে সবাইকে অবহিত করব। এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে আমরা এব্যাপারে কোনও কথা শুনিনি। রাজনৈতিক হিংসা ঠেকাতে বাংলায় নির্বাচন কমিশন যে আগের তুলনায় অনেক কঠোর অবস্থান নেবে, সেটা সুনীল অরোরার কথায় স্পষ্ট। তিনি বলেন, এখনও পর্যন্ত আমাদের সঙ্গে একটিমাত্র প্রতিনিধিদল দেখা করেছে। দলটি মূলত দুতিনটি দাবি তুলেছে। দাবিগুলি হল- দ্রুত আধা-সেনা মোতায়েন এবং আদর্শ আচরণবিধি জারি। ওই প্রতিনিধিদলটি জানিয়ে গিয়েছে, স্থানীয় পুলিশবাহিনীকে দিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা যাচ্ছে না বলে তারা মনে করে। ওই দলটির মতে, রাজ্য প্রশাসনকে দিয়ে সব কাজ সম্ভব নয়। কিন্তু ওঁরা দাবি করেছেন বলেই আমাদের পক্ষে বাংলার কোনও আধিকারিককে সরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তবে গত লোকসভা ভোটের সময় আমরা একজন মুখ্যসচিব, একজন অতিরিক্ত ডিজি, পাঁচজন পুলিশ কমিশনার এবং ডিজি (ইন্টেলিজেন্স)-কে সরিয়ে দিয়েছিলাম।