গ্রামের রান্নায় নেট দুনিয়ায় সাড়া ফেলেছেন পুষ্পরানি

176

আশিস মণ্ডল, বোলপুর : অত্যধিক গরম। এই সময় কচি লাউ দিয়ে পায়ে রান্না করে খেলে সুস্থ থাকা যাবে। এরকম হাজারো পদ বানিয়ে ইউটিউব চ্যানেলে এখন মানুষের নজর কেড়েছেন ৮২ বছরের বৃদ্ধা পুষ্পরানি সরকার। ইউটিউবে বিজ্ঞাপনের টাকায় কিনে ফেলেছেন বহু জমি। সেই জমিতেই ফসল ফলিয়ে বানাচ্ছেন নিত্যনতুন গ্রাম্য পদ। যা আলোড়ন ফেলে দিয়েছে নেট দুনিয়ায়।

পুষ্পরানির বাড়ি বীরভূমের ইলামবাজার থানার বনভিলা গ্রামে। বাড়িতে ছেলে, বৌমা, দুই নাতি, এক নাতবৌ নিয়ে সংসার তাঁর। একমাত্র মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন আগেই। ছেলে একটি বেসরকারি কলেজে কাজ করেন। তাতেই চলত সংসার। এরপর তাঁর নাতি কাজল চাকরি পান বিশ্বভারতীর শিক্ষাভবনে। কাজলের হাত ধরেই সরকার পরিবারে আজ সুদিন ফিরেছে।

- Advertisement -

কাজল ও আরেক নাতি সুদীপই প্রথম ঠাকুমাকে গ্রামবাংলার রান্নার বিভিন্ন পদ তৈরি করে ইউটিউবে আপলোড করার পরামর্শ দেয়। সেই মতো ভিলফুড নাম দিয়ে ইউটিউব চ্যানেল করে রান্নার বিভিন্ন পদ আপলোড শুরু। সেই চ্যানেলের সাবস্ক্রাইবার এখন পনেরো লাখ ছাড়িয়েছে। মিলেছে ইউটিউবের গোল্ড প্লে বাটন সম্মান। ফলে গুগলের বিজ্ঞাপনে আজ তাঁর প্রতিপত্তি যেমন বেড়েছে, তেমন সবল হয়েছে অর্থনৈতিক অবস্থা।

বর্তমান যুগের গ্যাসের রান্না নয়, সেই মান্ধাতা আমলের মাটির উনুন, কাঠের আগুন, আর মাটির থালাবাসনে রান্না তাক লাগিয়েছে অনেক বড় বড় রাঁধুনিকে। গুগলি পোস্ত, মেথি চিংড়ি, লেবু পাতা দিয়ে মৌরলা মাছের অসাধারণ রান্নায় লক্ষ লক্ষ লাইক পড়েছে সাবস্ক্রাইবারদের। ঠাকুমার সঙ্গে সমস্ত রকম সহযোগিতা করেন নাতবৌ কবিতা। কাজল বলেন, এভাবে আমাদের চ্যানেল জনপ্রিয় হয়ে উঠবে ভাবতে পারিনি। এখন দেশ-বিদেশের বহু মানুষ ঠাকুমার রান্না শেখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। পুষ্পরানির রান্নার ভিডিয়ো সবচেয়ে বেশি দেখা হয় চিনে। এ ছাড়া বাংলাদেশ, আফ্রিকা, তুরস্ক, ইংল্যান্ড, আমেরিকার বাসিন্দারাও ফলো করেন পুষ্পরানির রান্না।

তাঁর গ্রাম্য রান্নার তারিফ দেশ-বিদেশের মানুষ করলেও তা নিয়ে কোনও অহংকার দেখা গেল না পুষ্পরানির হাবেভাবে। গ্রাম্য ভাষায় বললেন, যেমন মনে হত তেমনি রান্না করতাম। আমার রান্নার স্বাদ যে দেশ-বিদেশে ছড়িয়ে পড়বে ভাবতেও পারিনি। সবই দুই নাতির প্রচেষ্টা। তবে আমার রান্না পেটের কোনও ক্ষতি করবে না। এখন গরমের দিন। কচি লাউ দিয়ে পায়েস খেতে হবে। তাহলে শরীর ভালো থাকবে।