বাইডেনের রাষ্ট্রসংঘ মিশনে বাঙালি কন্যা সোহিনী

133
সোহিনী চট্টোপাধ্যায় ও অদিতি গরুড়

ওয়াশিংটন : আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসনে ২০ থেকে ২৫ জন ভারতীয় বংশোদ্ভূতকে জায়গা দিয়েছেন। সেই দলে এবার অন্তর্ভুক্ত করা হল আরও দুই ভারতীয় বংশোদ্ভূত মহিলাকে। রাষ্ট্রসংঘে মার্কিন-মিশনের অন্যতম প্রতিনিধি করে বিদেশ বিষয়ক দুই বিশেষজ্ঞ সোহিনী চট্টোপাধ্যায় ও অদিতি গরুড়কে পাঠানো হচ্ছে। হোয়াইট হাউস সূত্রে খবর, রাষ্ট্রসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের কূটনৈতিক উপদেষ্টা হিসাবে কাজ করবেন সোহিনী। আর অদিতিকে মার্কিন মিশনের নীতি উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছে। বিশ্বায়ন, গণনৃশংসতা এবং মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সোহিনী চট্টোপাধ্যায় কিছুদিন আগে পর্যন্তও কাজ করেছেন কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অফ ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড পাবলিক অ্যাফেয়ার্সের একজন অধ্যাপক হিসাবে। তার আগে শিক্ষা ব্যুরোর নীতি নির্ধারক পদেও তাঁকে দেখা গিয়েছে ইউএস এজেন্সি ফর ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট (ইউএসএআইডি) সংস্থায়। এক সময় প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার প্রশাসনে বিদেশনীতি নির্ধারিত কমিটির উপদেষ্টা পদের দায়িত্বও সামলাতে হয়েছে তাঁকে।
গত নভেম্বরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে এক সাক্ষাৎকারে জো বাইডেন সম্পর্কে তাঁর উচ্চাশার কথা জানিয়েছিলেন সোহিনী। তিনি বলেছিলেন, জো বাইডেনের প্রশাসন ভারতের সঙ্গে আরও বেশি সুষ্ঠু এবং চিন্তাশীল সম্পর্ক গড়ে তুলবে। তাঁর কথায়, বাইডেনের সঙ্গে সম্পর্ক স্থায়ী এবং ধারাবাহিক হবে। গত ডিসেম্বরে অন্য একটি সাক্ষাৎকারে সোহিনী বলেন, ভারতের সঙ্গে বাইডেনের সম্পর্ক বহুদিনের। ফলে বাইডেন জমানায় ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক কূটনীতি নতুন উচ্চতায় উঠবে বলে তাঁর ধারণা। সোহিনী বলেন, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ বিপর্যয় মোকাবিলায় ভারতের সঙ্গে যৌথ কর্মসূচি গ্রহণের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে বাইডেন প্রশাসনের। কারণ, জলবায়ু সংকট ভারত ও আমেরিকা দুর্বলতর অংশের সবচেয়ে ক্ষতি করেছে। এই বিষয়ে ভারত-মার্কিন দ্বিপাক্ষিক আলোচনার ক্ষেত্র প্রস্তুতিতে তাঁর আগ্রহ রয়েছে বলেও জানান সোহিনী। তিনি বলেন, ভারতের স্থায়ী উন্নয়নের স্বার্থে বাইডেন প্রশাসনের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির কাজ করা উচিত। অদিতি গরুড়কে রাষ্ট্রসংঘে শান্তিরক্ষা বিষয়ক বিভাগের উপদেষ্টা পদে কাজের দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হচ্ছে। কিছুদিন আগে পর্যন্ত অদিতি কাজ করছিলেন স্টিমসন সেন্টারে নাগরিক অধিকার ও সংঘাত মোকাবিলা বিষয়ক দপ্তরের প্রধান হিসাবে। নাগরিকদের ওপর হিংসার মোকাবিলা তাঁর গবেষণার বিষয়। রাষ্ট্রসংঘে মার্কিন মিশনের উপদেষ্টা হিসাবে সোহিনী ও অদিতির উপস্থিতি ভারতকে বাড়তি সাহায্য করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।