নজরে বাংলার মসনদ, বিজেপির তুরুপের তাস ‘টিএমসি-র ফেল কার্ড’

129

নিতাই সাহা, শিলিগুড়ি: বাংলার মসনদে নজর। সেক্ষেত্রে একাধিক হেভিওয়েট বিজেপি নেতারা বাংলা সফরে জোর দিয়েছেন বিধানসভা ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগেই। এবার ভোট বৈতরণীর পালে হাওয়া তুলতে বিজেপির তুরুপের তাস টিএমসি-র ফেল কার্ড। সেক্ষেত্রে বিজেপির তরফে লঞ্চ করা হল ‘মোদিপাড়া’ অ্যাপ। রাজনৈতিক মহলের অভিমত সেই অ্যাপকে এবার হাতিয়ার ডিজিটাল মাধ্যমে ভোট প্রচারের পালে জোর হাওয়া তুলতে চলছে বিজেপি। যদিও বিজেপির এহেন কর্মকান্ডকে সমালোচনা বিদ্রুপ করতে ছাড়েনি বিরোধী শিবিরগুলি।

বৃহস্পতিবার একদিনের রাজ্য সফরে একাধিক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে যোগ দেন অমিত শা। সেই সফরকালেই ‘মোদিপাড়া’ অ্যাপের সূচনা করেন তিনি। তার মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই এই অ্যাপের জনপ্রিয়তা তুঙ্গে পৌঁছোয়৷ বিজেপি সূত্রে খবর, একদিনেই ৫ হাজারের ঊর্ব্ধে ডাউনলোড হয়েছে এই অ্যাপ। দলীয় নেতাদের দাবি এই অ্যাপের জনপ্রিয়তা প্রমাণ করছে বিজেপি বাংলার মসনদে বসতে চলেছে। তবে বাস্তবে তার কতটা প্রতিফলন পড়বে তা অবশ্য সময়ের অপেক্ষা বলেই মত ওয়াকিবহাল মহলের।

- Advertisement -

দলীয় সূত্রে খবর, মোদিপাড়া অ্যাপের মাধ্যমে বিশেষ করে মোদি সরকারের উন্নয়ন তুলে ধরা হবে। একইসঙ্গে তুলে ধরা হবে রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের আমলের একাধিক দুর্ণীতি। সেই তালিকায় রয়েছে আমপান। অন্যদিকে রয়েছে টিএমসি-র ফেল কার্ড। রাজনৈতিক মহলের দাবি রাজ্যের রিপোর্ট কার্ডের পালটা এই ফেল কার্ড। যা বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল কংগ্রেসকে অস্বস্তিতে ফেলতে পারে। এখানেই শেষ নয়। মোদিপাড়া অ্যাপের মাধ্যমে দুর্ণীতি ইস্যুতে দিদির কাছে জবাব চেয়েছে বিজেপি। এছাড়াও তুলে ধরা হয়েছে নারী নির্যাতনের বিষয়ও। সর্বোপরি বিজেপি ও তৃণমূল কংগ্রেসের ফারাক তুলে ধরা হয়েছে নির্বাচনের প্রাক্কালে।

এবিষয়ে বিজেপির শিলিগুড়ি জেলা কমিটির সভাপতি প্রবীন আগরওয়াল জানান, এই অ্যাপের সূচনা হয়েছে সবে। তবে জনপ্রিয়তা তুঙ্গে৷ আমরাও এই অ্যাপ নিয়ে প্রচার চলাবো। দলীয় কর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে এই অ্যাপের বিষয়ে৷ এই অ্যাপকে হাতিয়ার করে ডিজিটাল মাধ্যমে জোর প্রচার চালানো হবে।

ভোটের প্রাক্কালে বিজেপির এই মোদিপাড়া অ্যাপের সমালোচনা করে দার্জিলিং জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি রঞ্জন সরকার বলেন, ‘এসব করে কোন লাভ হবে না। দুয়ারে সরকার থেকে শুরু করে জনসংযোগ কর্মসূচি রয়েছে আমাদের। আর আর সর্বোপরি বাংলার মানুষের মনে রয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।’

দার্জিলিং জেলা বামফ্রন্টের আহ্বায়ক জীবেশ সরকার বলেন, ‘এটা বানিজ্যিক প্রচার৷ আমরা এতে বিশ্বাস করি না। এতে মানুষের মধ্যে প্রভাব পড়বে না। আমরা পুরোনো পন্থাতেই প্রচার চালাব। সভা, পথসভা চলবে। পাশাপাশি ডিজিটাল মাধ্যমেও আমরা জোর দেব।’