পুজোর আগে বর্ধমানের মিহিদানা-সীতাভোগ পাড়ি দিল বাহরিনে

178

বর্ধমান: মধ্যপ্রাচ্যের বড়দ্বীপ বাহরাইনে পাড়ি দিয়েছিল রাজ আমলের ঐতিহ্যবাহী বর্ধমানের শতাব্দী প্রাচীন মিহিদানা। এর ঠিক এক সপ্তাহ পর মহালয়ার আগের দিনের সেখানে পাড়ি দিল বর্ধমানের সীতাভোগ। বিদেশের বাজারে বর্ধমানের চাহিদা বাড়ায় খুশি এখানকার মিষ্টি ব্যবসায়ীরা। জানা গিয়েছে, সপ্তাহ খানেক আগে ৩০ প্যাকেটে মোট ১২ কেজি মিহিদানা বাহরাইনে পাঠানো হয়েছিল। এদিন ১২ কেজি সীতাভোগ বাহরাইনের দ্বীপে পাড়ি দিল। বর্ধমানের সীতাভোগ ও মিহিদানা জিআই স্বীকৃতি পাওয়ার পর ভারতীয় ডাক বিভাগ এই দুই মিষ্টিকে স্পেশাল কভারেজ দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারেও এই দুই মিষ্টির চাহিদা ও কদর উত্তরোত্তর বাড়ছে।

সীতাভোগ ও মিহিদানার উৎপত্তি নিয়ে নানা কাহিনী প্রচলিত রয়েছে। কথিত আছে বর্ধমানের মহারাজা বিজয়চন্দ মহাতাবকে ১৯০৪ সালে রাজাধিরাজ উপাধি দেয় ইংরেজ সরকার। সেই উপলক্ষ্যে বর্ধমান রাজপ্রাসাদে এক বিরাট অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে তৎকালীন বাংলার বড়লাট লর্ড কার্জন বর্ধমানে আমন্ত্রিত ছিলেন। বড়লাটকে খুশি করার জন্য এবং অনুষ্ঠানকে আরও উৎকর্ষপূর্ণ করার জন্য বর্ধমানের রাজা বিজয়চন্দের নির্দেশে রাজ পরিবারের খাস মিষ্টি প্রস্তুতকারক ভৈরবচন্দ্র নাগ নতুন দুটি মিষ্টি সীতাভোগ আর মিহিদানা তৈরি করেন। যার স্বাদ পেয়ে খুশি হয়েছিলেন বড়লাট সহ সকল অতিথিরা। সেই মিষ্টিই যাচ্ছে ভিন দেশে।
সীতাভোগ তৈরির প্রধান উপাদান সীতাসের প্রজাতির গোবিন্দভোগ চাল। সীতাসের প্রজাতির গোবিন্দভোগ চাল থেকে প্রস্তুত হওয়ার কারণেই সীতাভোগের একটি নিজস্ব স্বাদ ও সুগন্ধ হয়। তবে ‘সীতাভোগ’ নামটি নিয়ে বেশ দ্বন্দ্ব রয়েছে পণ্ডিতমহলে। সুকুমার সেনের মতে, বানানটি হওয়া উচিৎ ‘সিতাভোগ’, ‘সিতা’ অর্থে সাদা। আবার ‘সিতা’-র মানে মিছরিও হয়, তাই সাদা রংয়ের মিছরির মতো যে মিষ্টি বর্ধমান রাজবাড়ির হালুইকররা বানালেন, তার নাম হয়ে গেল ‘সিতাভোগ’।

- Advertisement -