মোবাইল শর্ট ফিল্ম উৎসবে সেরা অরুণাভ

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : চারিদিকে করোনার কোপ। এই পরিস্থিতিতেই একটি গল্প বলা। মধ্য ৫০-এর ব্যক্তির সঙ্গে তাঁর অর্ধেক বয়সি যুবতী স্ত্রীর। করোনা ভাইরাসের কবলে পড়ে ওই ব্যক্তি কোয়ারান্টিন সেন্টারে চলে যাওয়ার পর তাঁর স্ত্রী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। তবে কোয়ারান্টিন সেন্টারে ১৪ দিন থাকার কথা থাকলেও মানুষটি তিনদিন পরই বাড়ি ফিরে আসেন। স্ত্রীকে বিশেষ কিছু বলার চেষ্টা করেন। কিন্তু বারে বারেই তাঁর সেই চেষ্টা আটকে যায়। কী এমন কথা! এরই মধ্যে লুকিয়ে আন্ডারকভার। শিলিগুড়ির অরুণাভ খাসনবিশের তৈরি এই সিনেমা সম্প্রতি পুনেতে আয়োজিত দ্য বুদ্ধা ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভাল-এ সেরা মোবাইল শর্ট ফিল্ম হিসাবে মনোনীত হয়েছে। দেশ-বিদেশের বহু শর্ট ফিল্মকে পিছনে ফেলে অরুণাভের সেরা হওয়ার ঘটনায় উচ্ছ্বসিত শিলিগুড়ি। ক্যামেরার পিছনে দাঁড়িয়ে উত্তরের যাঁরা, তাঁরা আনন্দে ভাসছেন।

শর্ট ফিল্মটির সুবাদে অরুণাভের কেরিয়ার গ্রাফটা বর্তমানে তরতরিয়ে উঠতে আরম্ভ করলেও তরুণের পথচলাটা কিন্তু এতটা মসৃণ নয়। অন্তত এতদিন পর্যন্ত। শিলিগুড়ি বয়েজ হাইস্কুলের এই প্রাক্তনী পরে কম্পিউটার নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। এই সুবাদে কর্পোরেট চাকরি। কিন্তু যাঁর মনের পরতে পরতে সৃজনের বুনন, তাঁর কি আর অত সহজে বাঁধাধরা গতে ধরা পড়া সাজে? অরুণাভেরও নয়। বাবা অসিত খাসনবিশ দক্ষ শিল্পী। কাটুম-কুটুমে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। মা সারদাদেবী দরাজ গলায় গানটা দারুণ গান। ঘরোয়া এই পরিবেশের সুবাদেই অরুণাভের গল্পের বই পড়ার পাশাপাশি গল্প লেখা শেখা। সিনেমার সঙ্গে সখ্যটাও ছোটবেলা থেকেই। এই বন্ধুত্বকে আরও গাঢ় করতেই ২০০৮ সালে মাস গেলে নিশ্চিন্তির চাকরিটা ছেড়ে দিয়ে কলকাতায় রওনা হওয়া। কিন্তু সেখানে গেলেই তো আর হয় না। স্ট্রাগলটাও করতে হয়। অরুণাভকেও করতে হয়েছে। দাঁতে দাঁত চেপে। ২০১০ সালে তাঁর নির্দেশনায় মুক্তি পায় ভালোবাসা অফরুট-এ। সেই সিনেমায় শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ, রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ে মতো সমস্ত বাঘা বাঘা অভিনেতা।

- Advertisement -

এই সিনেমা পরিচিতি দিলেও অরুণাভের বেশি করে লাইমলাইটে আসা ২০১৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত বিসর্গ-র সূত্রে। দেশ-বিদেশের নয়টি ফিল্ম ফেস্টিভালে প্রদর্শিত দেবরঞ্জন নাগ অভিনীত এই সিনেমা পরিচালক হিসাবে অরুণাভকে আলাদা পরিচিতি দেয়। অরুণাভ বলছেন, হাতে একটা মোবাইল ফোন থাকলেই আজকাল দারুণ সিনেমা তৈরি করা যায়। এই জগতের সঙ্গে যুক্ত বাঘা বাঘা মানুষ এমনটাই বলেন। এবারে আমিও তা হাতেগরম উপলব্ধি করলাম। একদিনে একটি বাড়িতে স্রেফ দুটি চরিত্র নিয়ে সিনেমাটি তৈরি করে ফেলি। পরের লক্ষ্য নিয়ে তরুণের বক্তব্য, উত্তরবঙ্গের শিল্পীদের কতটা লড়াই করতে হয় তা হাড়ে হাড়ে বুঝেছি। তাই এখানকার যাঁরা গানবাজনার সঙ্গে যুক্ত তাঁদের জন্য একটা প্ল্যাটফর্ম তৈরির কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যেই সেটির কাজ শুরু হয়ে গিয়েছে।