যে রোগে ভুগছেন সঞ্জয় দত্ত

নাগাড়ে কাশি? ফুসফুস ক্যানসার নয় তো! পরামর্শে বিশিষ্ট রেডিয়েন অঙ্কোলজির চিকিৎসক তাপস মাজি

ধূমপানের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক আছে ফুসফুসের ক্যানসারের। স্টেজ থ্রি মানে অসুখ বেশ কিছুটা ছড়িয়ে পড়েছে। ফুসফুসের সঙ্গে সঙ্গে ছড়িয়ে পড়েছে লিম্ফ নোডেও। ফুসফুসের ক্যানসারের মূল কারণ ধুমপান। সঞ্জয় দত্তর ক্যানসারটি ঠিক কী ধরনের তা জানতে গেলে ওনার বায়াপ্সি রিপোর্ট খুঁটিয়ে দেখা দরকার। কিছু কিছু ক্যানসার অ্যাগ্রেসিভ হয়। সেক্ষেত্রে চিকিৎসা করে খুব ভালো ফল আশা করা মুশকিল। প্রথম অবস্থায় ধরা পড়লে এবং ক্যানসার একটি নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ থাকলে সার্জারির সাহায্যে ক্যানসার আক্রান্ত অংশ বাদ দিয়ে দেওয়া যায়। কিন্তু সাধারণত স্টেজ থ্রি লাং ক্যানসারের ক্ষেত্রে কেমোথেরাপি ও রেডিওথেরাপির সাহায্যে চিকিৎসা করা হয়। দু-তিনটে কেমোথেরাপির পর ক্যানসারের ধরন ও চিকিৎসায় রোগী কীভাবে সাড়া দিচ্ছেন তা পর্যবেক্ষণ করে পরবর্তী ট্রিটমেন্ট প্রটোকল ঠিক করা হয়।

- Advertisement -

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর) হিসেব অনুযায়ী ২০১২ সালে আমাদের দেশে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৫৭,৭৯৫। ২০২০ তে বেড়ে দাঁড়িয়েছে কম বেশি প্রায় ৬৭,০০০। এই ক্যানসারের সব থেকে মারাত্মক দিক হল শুরুতে এই রোগের উল্লেখয়োগ্য কোনও উপসর্গ না থাকায় রোগটি সম্পর্কে আঁচ করা যায় না। যখন ধরা পড়ে, ততক্ষণে তা অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্তদের মধ্যে ৮৫-৯০ শতাংশ ধূমপায়ী। তাই ধূমপান আর ফুসফুসের ক্যানসার সমার্থক বললেও অত্যুক্তি হয় না। প্যাসিভ স্মোকিং, দূষিত পরিবেশ এবং লাগাতার ধোঁয়া ও অন্য রাসায়ানিক ধোঁয়ার প্রভাবে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ে।

বংশে থাকলে ক্যানসারের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। ফুসফুসের ক্যানসার আক্রান্তদের মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ ১ বছরের মধ্যেই মারা যান। আমাদের দেশের শহরাঞ্চলে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। ২০২০ সালে প্রকাশিত ন্যাশনাল ক্যানসার রেজিস্ট্রি প্রোগ্রাম (এনসিআরপি) রিপোর্টে জানা গেছে দিল্লি, কলকাতা, মুম্বাই, চেন্নাই, বেঙ্গালুরু সহ দেশের ৯টি প্রধান শহরে ফুসফুসের ক্যানসারে আক্রান্তের সংখ্যা একেবারে ১ নম্বরে। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর) এবং ন্যাশনাল সেন্টার ফর ডিজিজ ইনফরমেটিক্স অ্যান্ড রিসার্চ (এনসিডিআইআর) ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের ৫৮টি ক্যানসার হাসপাতালের রোগীদের ওপর দীর্ঘ ৫ বছর সমীক্ষা করে দেখেছেন আমাদের দেশের প্রতি ৪ জন মানুষের ১ জন ক্যানসারে আক্রান্ত। শহর অঞ্চলের পুরুষরা সব থেকে বেশি ফুসফুস ক্যানসারে আক্রান্ত হচ্ছেন। এছাড়া রেডিয়েন থেকেও লাং ক্যানসারের ঝুঁকি থাকে।

য়ে সব লক্ষণ দেখলে ফুসফুসের ক্যানসারের ব্যাপারে সন্দেহ করতে হবে সেগুলি- কাশি শুরু হয়েছে, কিছুতেই কমছে না, লাগাতার কাশির দমক চলছে। কাশির সঙ্গে সামান্য হলেও রক্ত উঠছে। বুকে ব্যথা, নাগাড়ে ব্যথা থেকে যেতে পারে। মাঝে মাঝে ফুসফুসের সংক্রমণ হয়ে নিউমোনিয়া বা ব্রঙ্কাইটিসের সম্ভাবনা। শ্বাসকষ্ট, মাথা যন্ত্রণা। কোনও কারণ ছাড়াই ওজন কমে যাওয়া। গলা ধরে যাওয়া বা গলার স্বর বদলে যাওয়া। বুকের মধ্যে সাঁই সাঁই শব্দ। খিদে কমে যাওয়া, খাবার গিলে খেতে অসুবিধে হওয়া। সারাক্ষণ ঝিমিয়ে থাকা, হাড়ে ব্যথা ইত্যাদি।

সাধারণত এই ধরনের উপসর্গ হলে (কাশির সঙ্গে রক্ত বেরনো ছাড়া) বেশিরভাগ মানুষই গা করেন না। যখনই দু-একটি উপসর্গ দেখা যাবে এবং তিনি যদি ধূমপায়ী হন, তবে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শে একটা চেস্ট এক্স রে করিয়ে নেওয়া উচিত। দরকার মত সিটি স্ক্যান, এফএনএসি বা বায়াপ্সি করতে হতে পারে। রোগের স্টেজিং অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়।

এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার আগে রোগ প্রতিরোধের চেষ্টা করা উচিত। ধূমপান ছেড়ে, পরোক্ষ ধূমপানের থেকে দূরে থেকে, সঠিক খাবার খেয়ে নিয়মিত ব্যায়াম করে, ওজন ঠিক রেখে ফুসফুসের ক্যানসার প্রতিরোধ করতে হবে। আর কোনও রকম শারীরিক সমস্যা হলে সেলফ মেডিকেশন না করে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন।