সুপার স্প্রেডার থেকে সাবধান থাকুন

202

কোভিড-১৯ এর দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারত ব্রাজিলকে পিছনে ফেলে দ্বিতীয় সর্বাধিক সংক্রামিত দেশ হয়ে উঠেছে। একদিকে যেমন দৈনিক সংক্রমণের সমস্যা রেকর্ড ভেঙে দিচ্ছে, তেমনই সামনে আসছে নতুন স্ট্রেন, পুনঃসংক্রমণ বা উপসর্গহীন সংক্রমণ। নতুন স্ট্রেন কেন বিপজ্জনক বা উপসর্গই বা কী ইত্যাদি বিষয়ে জানিয়েছেন উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের ভিআরডিএল ল্যাবের ইনচার্জ ডাঃ শান্তনু হাজরা।

ডাবল মিউট্যান্ট (B.1.617)- এরপর এখন ট্রিপল মিউট্যান্ট (B.1.618) স্ট্রেন পাওয়া গিয়েছে মহারাষ্ট্র, দিল্লি এবং পশ্চিমবঙ্গে। ট্রিপল মিউট্যান্ট আসলে তিনটি আলাদা স্ট্রেনের সংমিশ্রণে তৈরি, যার শরীরে প্রবেশের ক্ষমতা বেশি, সহজাত রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে ফাঁকি দিতে পারে এবং এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে উপসর্গহীন সংক্রমণ বা পুনরায় সংক্রমণ করার ক্ষমতা।

- Advertisement -

কেন মিউট্যান্ট স্ট্রেনগুলি বিপজ্জনক এবং এর নিরীক্ষণ প্রয়োজন?

এইসব মিউট্যান্ট স্ট্রেন আরও দ্রুত সংক্রমণক্ষম, এরা আরও গুরুতর উপসর্গ বা ভিন্ন উপসর্গযুক্ত বা উপসর্গহীন। এরা ভ্যাকসিনের প্রভাব এড়িয়ে যেতেও পারে বা এড়িয়ে যেতে পারে এদের সঠিক শনাক্তকরণের পদ্ধতি (আরটি-পিসিআর)।

নতুন স্ট্রেন দ্বারা সংক্রমণের উপসর্গ কী?

নতুন স্ট্রেনের দ্বারা সংক্রামিত হলে যেসব উপসর্গ দেখা যায়, সেগুলি হল- জ্বর, পেশিতে ব্যথা, শুকনো এবং অবিরাম কাশি, গন্ধ এবং স্বাদ হ্রাস, কনজাংটিভাইটিস, গলাব্যথা, মাথাব্যথা, পেট খারাপ হওয়া, হাত-পায়ে আঙুলের বিবর্ণতা ইত্যাদি।

উপসর্গহীন সংক্রমণ কী?

এখন প্রতি তিনজন সংক্রামিত ব্যক্তির একজনের কোনও উপসর্গ থাকে না। ভ্যাকসিন রোল আউট পর্যায়ে এই উপসর্গহীন সংক্রমণ চিকিৎসক এবং প্রশাসকদের চিন্তার বিষয়। শেষ কয়েক মাসে মানুষের বেপরোয়া মনোভাব, নিয়ম না মানার মানসিকতা আর অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাস সত্যিই চিন্তার বিষয়। গত একবছরে এই মহামারি সম্পর্কে আমাদের জ্ঞানের পরিধি বিস্তৃত হয়েছে বটে, কিন্তু মনে হয় যেন মহামারি মোকাবিলার কৌশলগুলি আমরা আয়ত্ত করতে পারিনি।

এটা খুব স্পষ্ট যে, শুধুমাত্র উপসর্গযুক্ত রোগীদের পরীক্ষা করা মহামারির প্রথমদিকে সঠিক হলেও এখন একটা বিরাট অংশ উপসর্গহীন এবং তারাই হয়ে উঠেছে সুপার স্প্রেডার। সমস্যা হল,বর্তমান প্রচলিত পরীক্ষা বা আরটি-পিসিআর ব্যয়বহুল, সময়সাপেক্ষ, প্রশিক্ষিত প্রযুক্তিবিদ প্রয়োজন এবং সর্বত্র এই পরীক্ষার সুবিধা নেই। পরীক্ষাগারগুলিরও প্রচুর অনুমতির প্রয়োজন।

এই মুহূর্তে আমাদের প্রযোজন অন্য দ্রুত রোগ নির্ধারণক্ষম পরীক্ষানিরীক্ষার কথা ভাবার। যেমন-র্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট যা করোনা ভাইরাসের প্রোটিন চিহ্নিতকরণের কাজ করে। দামও কম, কয়েক মিনিটে চিহ্নিত করতে পারে কারা পজিটিভ বা সংক্রামিত। এটি যেমন দ্রুত গুরুতর অসুস্থ রোগীকে চিহ্নিত করে তার প্রয়োজনীয় চিকিত্সার আযোজন করতে সাহায্য করে, তেমনই উপসর্গহীন বা সংক্রামিত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের দ্রুত চিহ্নিত করতে সাহায্য করে।

কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন কি নতুন স্ট্রেনের ক্ষেত্রে কার্যকরী?

এখন যেসব ভ্যাকসিন দেওয়া হচ্ছে, সেগুলি সবই আপৎকালীন ভিত্তিতে অনুমতি দেওয়া। ভবিষ্যতে আমরা আরও নতুন ভ্যাকসিন পাব। ভ্যাকসিনের দুটি ডোজ নেওয়ার পরে, কমপক্ষে ৬-৮ সপ্তাহ সময় লাগে শরীরে সম্পূর্ণ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে। কাজেই এই দ্বিতীয় ঢেউ বা নতুন স্ট্রেনগুলির ক্ষেত্রে ভ্যাকসিন হয়তো সংক্রমণ আটকাতে পারবে না, তবে এটি গুরুতর অসুস্থ হওয়া থেকে রক্ষা করতে পারবে বা মৃত্যুহার কমাতে সাহায্য করবে। আমরা দেখতে পাচ্ছি, ভ্যাকসিন নেওয়ার পরেও সংক্রমণ হচ্ছে। কিন্তু সেটা হয় মৃদু উপসর্গযুক্ত বা উপসর্গহীন।