শুভদীপ শর্মা, মৌলানি: পুজো আসছে তাই ব্যস্ততা তুঙ্গে ঢাকিদের। জোরকদমে চলছে ঢাক তৈরির কাজ। প্রায় চল্লিশ বছর ধরে নিজের পূর্বপুরুষের ঢাক তৈরির পেশা আঁকড়ে ধরে রাখার পাশাপাশি বাজিয়ে চলেছেন মাল ব্লকের চক মৌলানির বাসিন্দা ভবেন হাজরা ও তাঁর পরিবার। ঢাক বিক্রি করে ও বাজিয়ে পুজোয় ভালো আয়ের আশায় হাজরা পরিবার।

দেবীর বোধন থেকে বিসর্জন, ঢাকের আওয়াজ বাঙালির মনে আলাদা অনুভূতির সঞ্চার করে। আধুনিকতা ও থিমের ছোঁয়া য়তই থাকুক, প্রতিটি পুজোতে আজও অপরিহার্য ঢাক। আর এই পুজোর জন্যই প্রায় সারা বছর ধরেই নিজের পূর্বপুরুষের ঢাক তৈরি ও বাজানোর কাজ করে চলেছেন ভবেন হাজরা ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা। মাল-ময়নাগুড়িগামী ৩১ নম্বর জাতীয় সড়ক লাগোয়া মৌলানি গ্রাম পাঞ্চায়েতের চক মৌলানিতে কুঁড়েঘরে পরিবার নিয়ে বাস করেন ভবেন হাজরা। ভবেনবাবু জানান, শৈশবেই বাবা শুটু হাজরার কাছ থেকে ঢাক তৈরি ও বাজাবার তালিম নেন। সংসারে নিত্যদিনের অভাবে পড়াশোনা তেমন একটা করা হয়নি। তবে ঢাক বাজিয়ে বানিয়ে ও তা বিক্রি করে পরিবারকে নিয়ে দিন গুজরান ভবেনবাবুর। প্রতি বছরই পুজো আসার প্রায় তিন মাস আগে থেকে ঢাক তৈরির কাজ শুরু করেন তিনি। ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা দিয়ে বড়ো একটি আম গাছের গুঁড়ি কিনে আনেন। তা দিয়ে প্রায় ৫টি ঢাক তৈরি হয়। এগুলি তৈরি করতে সময় লাগে প্রায় দুমাস। দিনে প্রায় ১০ ঘণ্টা কাজ করে ঢাক তৈরির কাজ সম্পূর্ণ হয়। এক-একটি ঢাক বিক্রি হয় ৭ থেকে ৮ হাজার টাকায়। শুধু উত্তরবঙ্গে নয়, তাঁর ঢাক পাড়ি দেয় অসমেও। স্ত্রী ভারতী হাজরা, ছেলে বিপুল-বিপ্লব ও এক মেয়ে সংগীতা নিয়ে ভবেনবাবুর পরিবার। নিজের বাবার দেখানো পাথেই বিপুল ও বিপ্লব দুজনেই ঢাক তৈরি ও বাজাতে পারদর্শী। এবারও প্রায় গোটা দশেক ঢাক তৈরির কাজ শুরু করেছেন ভবেনবাবু। পাশাপাশি পুজোয় ঢাক বাজাবার বরাতও পেয়েছেন। প্রতি বছরের মতো এবারও ডুয়ার্সের এক চা বাগানের পুজোয় ঢাক বাজাতে য়াবেন তিনি। তবে সারা বছর ঢাক বানিয়ে ও বাজিয়ে আয় তেমন একটা হয় না। কিন্তু ঢাকের তালে মণ্ডপে থাকা সকলের মনে আনন্দ দিতে পারলেই মন ভরে য়ায় ভবেনবাবুর।