পাড় ভাঙছে ভাগীরথীর, আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কালনা ও কাটোয়ার বাসিন্দারা

290

প্রদীপ চট্টোপাধ্যায়, বর্ধমান: বর্ষায় জলস্তর বাড়তেই ভয়াল রুপ নিয়েছে ভাগীরথী। তার জেরে ভাগীরথী পাড়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক ভাঙন। পূর্ব বর্ধমানের কাটোয়া ও কালনা মহকুমার বেশ কিছু জায়গায় ভাঙন বেড়ে চলায় চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ভাগীরথী পাড়ের বাসিন্দারা। নদী ভাঙনে ঘর বাড়ি তলিয়ে যাবার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায় রাতের ঘুম ছুটে গিয়েছে কাটোয়ার আগ্রদ্বীপের বাসিন্দাদের। তারা চাইছেন ভাগীরথী পাড়ের ভাঙন প্রতিরোধে দ্রত পদক্ষেপ নিক প্রশাসন।

কাটোয়া মহকুমার কাটোয়া-২ ব্লকের অগ্রদ্বীপ পঞ্চায়েত এলাকার উপর দিয়ে বয়ে গিয়েছে ভাগীরথী নদী। এই পঞ্চায়েত এলাকার ঘোষ পাড়া ও মাঝের পাড়ায় প্রায় পাঁচ শতাধীক পরিবারের বসবাস। ভাগীরথীর তীর ঘেঁসে রয়েছে এই দুই পাড়ার প্রায় ১২০০ মিটায় এলাকা। নদী ভাঙন বেড়ে চলায় এই ঘোষ পাড়া ও মাঝের পাড়ার বাসিন্দাদের উদ্বেগ এখন বহুমাত্রায় বেড়ে গিয়েছে।

- Advertisement -

তারমধ্যে সব থেকে বেশী উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন মাঝের পাড়ার বাসিন্দা। কারণ এই এলাকার ১২০ মিটার এলাকা জুড়ে এখন শুরু হয়েছে ব্যাপক ভাঙন। আর সেই কারণেই দুশ্চিন্তা বেড়েছে মাঝের পাড়ার বাসিন্দাদের। তারা আশঙ্কা করছেন, অবিলম্বে ভাঙন রোখা না গেলে তাঁদের বাড়ি ঘর, ভিটে সবকিছুই ভাগীরথীতে তলিয়ে যাবে।

মাঝের পাড়ার চিন্তা ঘোষ বলেন, ‘যেভাবে ভাগীরথীর ভাঙন শুরু হয়েছে তা দেখে চরম দুশ্চিন্তার মধ্যে দিন কাটছে। শুধু মনে হচ্ছে এই বুঝি ঘরবাড়ি সব ভাগীরথীতে তলিয়ে গেল। আতঙ্কে রাতে বাড়িতে নিশ্চিন্তে ঘুমাতে পারছেন না। নদী পাড়ের দিকে তাকিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। সরকার নদী ভাঙন রোধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে ২৫-৩০ ঘর বাসিন্দাকেই বাস্তুহারা হতে হবে।

অপর বাসিন্দা প্রভাত ঘোষ, রহিত বিশ্বাস প্রমুখরা বলেন, ‘বর্ষায় জল বাড়লেই ভাগীরথী ভয়াল রুপ নিচ্ছে। বিগত ১৫ বছর ধরে তাঁদের এলাকায় ভাগীরথীর পাড় ভাঙছে। গত দু’দিনে ভাঙন ব্যাপক আকার নিয়েছে। এলাকার বিঘা খানেক জমি ইতিমধ্যেই দামোদরের গর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। এতকাল ভাঙন রোখার কোন ব্যবস্থা হয়নি। এখন পরিস্থিতি ভয়াবহ। দ্রুত ভাঙন রোখার ব্যবস্থা করা না হলে তারা সহ নদী তীরবর্তী বাসিন্দাদের করুণ পরিণতি হবে। ’

এই বিষয়ে কাটোয়ার মহকুমা শাসক প্রশান্তরাজ শুক্লা জানিয়েছেন, ‘ভাঙনের বিষয়ে তিনি কাটোয়া-২ ব্লক ও কেতুগ্রাম-২ ব্লকের বিডিওর সঙ্গে কথা বলে সবিস্তার জানবেন। পরিস্থিতি সবিস্তার জেনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবেন।’ প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, কাটোয়া ছাড়াও কালনার বেশকিছু জায়গায় ভাগীরথীর ভাঙন শুরু হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন বাসিন্দারা।

নদী ভাঙনের কবলে পড়ে বিগত কয়েক দশকে ভাগীরথী তীরবর্তী বহু চাষের জমি নদীগর্ভে তলিয়ে গিয়েছে। বোল্ডার,বাঁশের খাঁচা ফেলেও ভাঙন রোখা যায়নি। এখন বর্ষায় ভাগীরথীতে জল বাড়তেই কালনার ধাত্রীগ্রাম পঞ্চায়েতের কালীনগর ও উদয়গঞ্জ এলাকায় ব্যাপক ভাঙন শুরু হয়েছে। এছাড়াও সমুদ্রগড়ের জালুইডাঙ্গা এলাকাতেও নদী ভাঙন শুরু হয়েছে।

অতি সম্প্রতি ভাঙন কবলিত ওইসব এলাকা পরিদর্শন করেন রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ, জেলাশাসক বীজয় ভারতি, জেলাপরিষদ সভাধীপতি শম্পা ধারা, সহ সভাধীপতি দেবু টুডু সহ জেলা প্রশাসনের অন্য আধিকারিকরা। ভাঙন পরিস্থিতির বিষয়টি রাজ্যের সেচ মন্ত্রী সুভেন্দু অধিকারীকেও জানিয়েছেন স্বপন দেবনাথ। ভাঙন রোধের বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রেও দৃষ্টি আকর্ষন করেছে জেলা প্রশাসন। জেলাশাসক বিজয় ভারতী এদিন বলেন, ‘নদী ভাঙন রুখতে খুব শীঘ্রই ইরিগেশন দপ্তরের উদ্যোগে কাজ শুরু হবে।’