শিশু সদনে আবাসিক না থাকায় হল না ভাইফোঁটা, মনভার হোমকর্মীদের

229

দীপঙ্কর মিত্র, রায়গঞ্জ: হোমে ভাইফোঁটা হবে না এমন কোনও দিন ভাবতেই পারেননি রায়গঞ্জের দেবিনগরে অবস্থিত শিশু সদনের কর্মীরা। পশ্চিমবঙ্গ সরকারের জনশিক্ষা দপ্তরের আর্থিক সাহায্যে চলা জেলার একমাত্র এই হোমে প্রায় ১৫০ অনাথ শিশু থাকে। প্রতি বছর ভাইফোঁটায় এই হোমে আয়োজন হয়ে থাকে নানা অনুষ্ঠান। কিন্তু এবছর করোনার কারণে সরকারি নির্দেশে হোমের সমস্ত শিশুদের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। গত মার্চ মাস থেকে হোমে নেই শিশুদের কোলাহল। কিন্তু এবার করোনা পরিস্থিতির কারণে শিশুরা না থাকায় হোমে সব অনুষ্ঠান বন্ধ। তাই ভাইফোঁটা নিয়েও নেই কোনও উদ্দীপনা। এজন্য মনভার হোমের সুপার সহ অন্যান্য কর্মীদের।

প্রতি বছর পুজোর মরশুমে এবং উৎসবে হইচই লেগে থাকত এই হোমে। ভাইফোঁটায় থাকে বিশেষ অনুষ্ঠান। রায়গঞ্জের বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত এই হোমের সম্পাদক। তিনি প্রতি বছর পুজোয় আবাসিকদের নতুন পোশাক দেন। পাশাপাশি ভাইফোঁটায় বিশেষ খাবারের আয়োজন করেন। বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থাও আবাসিকদের ভাইফোঁটার আয়োজন করে। এবার হোমের ছবি পুরোটাই যেন বিপরীত। শুধু হোমের অফিস খোলা রয়েছে। অফিসের কাজ নিয়মিত দেখভাল করছেন হোমের সুপার সাধন সিংহ রায়। এদিন হোমে গিয়ে দেখা গেল, সাধনবাবুর সঙ্গে পাঁচ কর্মী হোমে এসেছেন।

- Advertisement -

সুপার সাধন সিংহ রায়, কাউন্সিলার অভিজিৎ সাহা ও অন্যান্যরা জানান, এই হোমে ১৫০ আবাসিক থাকে, যাদের বোন বা ভাই নেই। এজন্য ভাইফোঁটার দিন ঘটা করে এখানে অনুষ্ঠান হত। একাধিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা এখানে এসে আবাসিকদের ফোঁটা দেওয়ার পাশাপাশি মিষ্টি মুখ করাতেন। অনেকে নতুন বস্ত্রও প্রদান করতেন। এবার আর কোনও কিছুই হচ্ছে না। তাই তাদের মন খারাপ। প্রতিবছর ভাইফোঁটার আগের দিন থেকে ব্যস্ত থাকতে হত। নানা রকমের রান্না হত। এলাকার কাউন্সিলারের উদ্যোগে ভাইফোঁটার আয়োজন করা হত। কিন্তু এবছর করোনার কারণে প্রশাসনের মাধ্যমেই আবাসিকরা কেউ বাড়িতে, কেউ বা অভিভাবকদের কাছে চলে গিয়েছে। এখন পুরো হোমটিই ফাঁকা। কিন্তু কিছু করার নেই, মেনে নিতে হবে।

অন্যদিকে, বিজেপির মহিলা মোর্চার তরফে সোমবার ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের পাশে অনাথ চ্যারিটেবল হোমে ভাইফোঁটার আয়োজন করা হয়। এদিনের অনুষ্ঠানে মহিলা মোর্চার জেলা সভানেত্রী শিবানী মজুমদার সহ উপস্থিত ছিলেন অন্যান্যরা।