ভারত বনধের প্রভাব, বন্ধ জাতীয় সড়ক, রেল অবরোধ

166
ছবি : সংগৃহীত

নয়াদিল্লি: সোমবার দেশজুড়ে ভারত বনধের ডাক দিয়েছে সংযুক্ত কিষাণ মোর্চা। কেন্দ্রের আনা তিন কৃষি আইনের বিরোধিতায় ভারত বনধের ডাক দেওয়া হয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক দল ও কৃষক সংগঠনগুলির কাছে বনধকে সমর্থন করার আর্জি জানিয়েছিল কিষাণ মোর্চা। বনধকে সমর্থন জানিয়েছে কংগ্রেস, বামপন্থী দলগুলি, এছাড়াও অন্ধ্রপ্রদেশে তেলেগু দেশম পার্টি, আম আদমি পার্টি। বিজেপি বিরোধী ১২টি দল বনধকে সমর্থন জানিয়েছে। এদিন বিকাল ৪টা পর্যন্ত বনধ চলবে।

বনধের জেরে গণপরিবহণে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে মনে করা হচ্ছে। কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে দিল্লিতে মোতায়েন রয়েছে পুলিশ। এদিন সকাল থেকেই দিল্লি, পঞ্জাব, হরিয়ানা এবং উত্তরপ্রদেশে বনধের প্রভাব চোখে পড়েছে। রাস্তায় নেমেছেন বহু কৃষক। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে পঞ্জাব-হরিয়ানা এবং অমৃতসর-দিল্লি জাতীয় সড়ক। গাজিপুরেও বিঘ্নিত ট্রাফিক পরিষেবা।

- Advertisement -

পঞ্জাব-হরিয়ানার শম্ভু বর্ডার আটকে প্রতিবাদ দেখাচ্ছেন কৃষকরা। এদিকে হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রের কাছে শাহাবাদ অঞ্চলে দিল্লি-অমৃতসর জাতীয় সড়ক অবরোধ করা হয়েছে। গাজিপুর সীমানায়ও চলছে প্রতিবাদ কর্মসূচি।

দিল্লি মেট্রো রেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পণ্ডিত শ্রীরাম শর্মা স্টেশনের এন্ট্রি ও এক্সিট গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। কৃষক নেতা রাকেশ তিকাইত জানিয়েছেন, অ্যাম্বুল্যান্স সহ জরুরি পরিষেবার কোনও গাড়ি আটকানো হচ্ছে না। কোনও রাস্তা সিল করা হয়নি। এর মাধ্যমে কেন্দ্রকে একটা বার্তা পৌঁছোনো হচ্ছে।

দেশের পাশাপাশি এই রাজ্যেও ভারত বনধের প্রভাব পড়েছে। সকাল থেকেই জেলায় জেলায় চলছে প্রতিবাদ কর্মসূচি। বনধের সমর্থনে সকাল থেকে রাস্তায় নেমেছেন বাম এবং এসইউসিআই কর্মীরা। যাদবপুর স্টেশনে রেল অবরোধ করা হয়েছে। বিনপুর দু’নম্বর ব্লকের শিলদা বাজারে মিছিল চলছে। মেদিনীপুরে বিক্ষোভ মিছিল করছে এসইউসিআই। এছাড়া ঘাটাল চন্দ্রকোণা রাজ্য সড়কের একাধিক প্রান্তে আটকানো হয় বেসরকারি বাস। পাঁশকুড়া বাসস্ট্যান্ডের সামনেই পথ অবরোধ করা হয়। হাওড়ার শানপুর মোড়ে বাম শ্রমিক, ছাত্র-যুব, মহিলা সংগঠনের তরফে চলছে পিকেটিং। তবে কোনওরকম অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে রাস্তায় রয়েছে পুলিশ। প্রসঙ্গত, প্রায় এক বছর হতে চলল কৃষকদের আন্দোলন চলছে। দিল্লির উপকণ্ঠে অবস্থানে শামিল কৃষকরা। তিন কৃষি আইনের প্রতিবাদে এই নিয়ে তিনবার বনধ ডাকলেন তাঁরা।