পুলিশ হেপাজতে বিজেপিকর্মীর মৃত্যুর ঘটনায় সাংবাদিক বৈঠক ভারতী ঘোষের

325

রায়গঞ্জ: পুলিশ হেপাজতে বিজেপিকর্মী অনুপকুমার রায়ের মৃত্যুর ঘটনায় সাংবাদিক বৈঠক করলেন বিজেপি নেত্রী ভারতী ঘোষ। মঙ্গলবার বিকাল সাড়ে চারটায় দলের উত্তর দিনাজপুর জেলা কার্যালয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন ভারতী দেবী। তিনি বলেন, রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা বলে কিছু নেই। ২০২১ সালে রাজ্যে বিজেপি ক্ষমতায় আসবে। ক্ষমতায় এসে মানুষের ওপর তৃণমূলের অত্যাচারের সমস্ত কেস আবার চালু করা হবে। প্রয়োজনে বাইরের এজেন্সিকে দিয়ে তদন্ত করানো হবে। শুধু তাই নয়, যে সমস্ত পুলিশ অফিসার তাদের পোষাকের মর্যাদা ভুলে গিয়ে বর্তমান রাজ্য সরকারের দালালি করছেন তাদের আইনের প্রণালীর মধ্যে পড়তে হবে এবং অনেক পুলিশ অফিসারকে জেলে যেতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন ভারতী ঘোষ।

পুলিশ হেপাজতে বিজেপিকর্মীর মৃত্যু প্রসঙ্গে ভারতী দেবী বলেন, দলের একনিষ্ঠ কর্মী অনুপের বাড়ি ইটাহার থানার অধীনে। অথচ রায়গঞ্জ থানার পুলিশ ২ সেপ্টেম্বর বেলা বারোটার সময় যখন তাঁর বাড়িতে তাঁকে ধরতে যায় তখন কোনো ‘মেমো অব অ্যারেস্ট’ তাঁর পরিবারের হাতে পুলিশ দেয়নি? এটা সম্পূর্ণ বেআইনি। সবচেয়ে আশ্চর্যজনক বিষয় হল, ওইদিনই বিকাল চারটের সময় তিনি মারা যান। পুলিশ এমনভাবে তাকে মেরেছে যে সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ল। ভারতীয় দন্ডবিধিতে বলা আছে যা সুপ্রিম কোর্ট এবং জাতীয় মানবাধিকার সংস্থা বারবার মেনে চলতে বলেন তা হল, থানার জিডিতে তার সমস্ত তথ্য থাকতে হবে, যে অফিসার জিজ্ঞাসাবাদ করবেন তার সমস্ত তথ্য থাকবে। এক্ষেত্রে কোনও কিছুই করা হয়নি।

- Advertisement -

ভারতী দেবী বলেন, দীর্ঘ অনেক বছর পুলিশে চাকরির সুবাদে জানি যে ময়নাতদন্ত সবসময় দিনের বেলা হতে হবে। অথচ এক্ষেত্রে রাতে ময়নাতদন্ত হয়েছে। রায়গঞ্জের এসপি সুমিত কুমারকে অভিযুক্ত বলে দাবি করে তিনি বলেন, এসপি নিজে, থানার আইসি এবং অন্যান্য পুলিশ আধিকারিকরা সমস্ত দিক থেকে নিয়ম ভেঙেছেন। আমরা অনুপের মৃত্যুর বিষয়ে উচ্চতর থেকে উচ্চতম ন্যায়ালয়ে যাব যাতে এই মৃত্যুর সিবিআই তদন্ত হয়। রায়গঞ্জ জেলা পুলিশকে হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, রায়গঞ্জ পুলিশ বিগত কয়েক বছর ধরে কী কী করেছে সেগুলো আমরা বের করে ফেলব।

তিনি আরও বলেন, সুপ্রিম কোর্টের কড়া আদেশ রয়েছে, যে থানার মধ্যে কাস্টোডিয়ান ডেথ হবে সেই থানা আর সেই কেসের তদন্ত করতে পারবে না। ২ সেপ্টেম্বরের ঘটনায় এসপির উচিত ছিল ৩ তারিখেই সিআইডিকে কেসটা হস্তান্তর করা। অথচ দশদিন পর ১২ সেপ্টেম্বর কেস সম্পূর্ণ নষ্ট করে সিআইডিকে দেওয়া হল। এখানকার এসপি তো আইপিএস অফিসার। উনি কি নিয়মকানুন জানেন না, বলে প্রশ্ন ছোড়েন ভারতী দেবী। এসপির উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, উর্দির জোড়ে এসপি অনেক কিছুই বলতে পারেন। কিন্তু ২০২১ সালে যখন ওনার ইউনিফর্ম থাকবে না তখন একই কথা উনি আদালতে বলতে পারবেন তো?