বেজিংয়ের দাদাগিরিতে ক্ষুব্ধ, কড়া বার্তা ভুটানের

458

নয়াদিল্লি : বড় ড্রাগনের দাপাদাপিতে ক্ষোভে ফুঁসছে ছোট ড্রাগন। ভুটানের পূর্বাঞ্চলে ত্রাশিগ্যাং জেলার সাকতেং অভয়ারণ্যকে চিন য়েভাবে নিজেদের বলে দাবি করেছে, তা মোটেই ভালো চোখে দেখছে না থিম্পু। বেজিংয়ের এই আচরণের তীব্র সমালোচনা করে নয়াদিল্লিতে চিনের দূতাবাসে কড়া বার্তা পাঠিয়েছে ভুটানের বিদেশমন্ত্রক। ভুটানের বক্তব্য, ওই অভয়ারণ্য তাদের ভূখণ্ডের অবিচ্ছেদ্য অংশ। চিন অবশ্য নিজেদের দাবিতে অনড়। সম্প্রতি গ্লোবাল এনভায়রনমেন্ট ফেসিলিটি (জিইএফ)-এর বৈঠকে চিন জানিয়েছিল, ওই অভয়ারণ্যটি বিতর্কিত এলাকায় অবস্থিত। পরে একটি সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমে চিনের তরফে প্রকাশ্যে জানিয়ে দেওয়া হয়, ভুটানের মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলের এলাকাগুলি নিয়ে যেমন দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে বিতর্ক রয়েছে, তেমনই পূর্বাঞ্চলের এলাকাগুলি নিয়ে দুই দেশের বিরোধ রয়েছে। ভুটানের পূর্বাঞ্চলের দিকে চিনের নজর পড়ায় স্বাভাবিকভাবে ক্ষুব্ধ ভুটান।

নয়াদিল্লিস্থিত চিনা দূতাবাসকে ভুটান বিদেশমন্ত্রক দেশের ক্ষোভের কথা জানিয়ে দিলেও সাউথ ব্লকের কূটনৈতিক মহল এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভুটানের সঙ্গে চিনের বিরোধের নেপথ্যে বেজিংয়ে উগ্র ভারত বিরোধিতার তাস রয়েছে। ভুটানের যে অংশের দিকে চিন নজর দিয়েছে, তার ঠিক উলটোদিকে অরুণাচলপ্রদেশের পশ্চিম কামেং জেলা। যেহেতু চিন গোটা অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের ভূখণ্ড বলে দাবি করে, সেহেতু বেজিংয়ের নতুন দাবি ঘিরে স্বাভাবিকভাবে সতর্ক দৃষ্টি রাখছে ভারত। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, লাদাখের পাশাপাশি এবার ভুটান-অরুণাচল সীমান্ত নিয়ে ভারতকে চাপে রাখতে চাইছে চিন। সেকারণে ভুটানের পূর্বাঞ্চলের ওপর নিজেদের দাবি জানিয়েছে তারা। প্রতিবেশীদের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধকে তারা আন্তর্জাতিক ইশ্যুতে পরিণত করতে চাইছে। একটি থিংক ট্যাংকের বিদেশনীতি বিভাগের ফেলো কনস্ট্যান্টিনো জেভিয়ার বলেন, চিনের দাবি নতুন না হলেও যে সময়টা তারা বেছেছে, সেটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। তারা ভুটান ও ভারতের ওপর চাপ তৈরি করতে চাইছে। তাদের লক্ষ্য, এই দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশীর দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে চিড় ধরুক।

- Advertisement -

কয়েকজনের মতে, বেজিং ও থিম্পুর মধ্যে এখনও পর্যন্ত কূটনৈতিক সম্পর্ক গড়ে না ওঠায় ভারতকেই দায়ী করে চিন। দুই দেশ নয়াদিল্লিস্থিত দূতাবাসের মাধ্যমে কূটনৈতিক যোগাযোগ রাখে। কিন্তু দুদেশে কারও কোনও দূতাবাস নেই। তাছাড়া চিন-ভুটান সীমান্ত ইশ্যুর মীমাংসা হয়েছিল ২০ বছর আগে। দু-দেশের মধ্যে এব্যাপারে ঐকমত্য তৈরি হয়েছিল। কিন্তু ভারতের জন্য ভুটানের পক্ষে চিনের সঙ্গে কোনও সমঝোতাপত্র স্বাক্ষর করা সম্ভব হয়নি। তাই সীমান্ত বিরোধকে কাজে লাগিয়ে নেপালের মতো ভুটানকেও নিজেদের দিকে টানতে মরিয়া চিন। তবে কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, এতে হিতে বিপরীত হওয়ার সম্ভাবনা পুরোদস্তুর। কারণ, ভুটানকে ভারতের বিরুদ্ধে ব্যবহার করলে থিম্পু-নয়াদিল্লি সম্পর্ক আরও মজবুত হতে পারে। ২০১৮ সালের জুলাই মাসে চিনের তৎকালীন উপবিদেশমন্ত্রী কং জুয়ানইউ ভুটানে গিয়েছিলেন। তাঁর সঙ্গে ছিলেন ভারতে নিযুক্ত চিনের রাষ্ট্রদূত লুও জাওহুই। সেসময় চিন জানিয়েছিল, ভুটানের স্বাধীনতা, অখণ্ডতা এবং সার্বভৌমত্বকে চিন সবসময় মর্যাদা দেয়। তাদের স্বাধীন বিদেশনীতিরও প্রশংসা করেছিল চিন। কিন্তু এখন সেসব ভুলে ভুটানের ভূখণ্ডের ওপর দাবি জানানোয় নয়াদিল্লি-থিম্পু দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক মজবুত করার ব্যাপারে অনুঘটকের কাজ করবে বেজিং।