ভুটান গেট বন্ধ থাকলেও জয়গাঁয় উড়ছে ভুটানি টাকা

সমীর দাস, জয়গাঁ : করোনা পরিস্থিতির জেরে এরাজ্যে যে কটি শহর অর্থনৈতিক দিক থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেগুলির মধ্যে আলিপুরদুয়ার জেলার ভুটান সীমান্তের শহর হিসাবে পরিচিত জয়গাঁ অন্যতম। সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে ভারত-ভুটান সীমান্ত বন্ধ থাকায় জয়গাঁর অর্থনীতির কোমর কার্যত ভেঙে গিয়েছে। ভারতে লকডাউন অনেক আগেই শিথিল হলেও ভুটান প্রশাসনের তরফে সীমান্ত বন্ধ রাখা হয়েছে। ফলে ভুটানের ক্রেতারা জয়গাঁয় আসতে পারছেন না। এর জেরে জয়গাঁর ছোট-বড় বিভিন্ন ব্যবসায়ী চরম সমস্যায় পড়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, ব্যবসায়ীদের অনেকে জয়গাঁ ছেড়ে অন্যত্র পাড়ি দেওয়াও শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে জয়গাঁয় কোটি কোটি ভুটানি টাকার জোগানে সংশ্লিষ্ট মহলে প্রশ্ন উঠেছে। ভুটান প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ভুটানে গিয়ে নোট পরিবর্তন করা হচ্ছে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের দাবি। প্রশাসন এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চায়নি।

লকডাউন পর্বে ব্যবসায়ীরা এ পর্যন্ত সাতবার ভুটানে ঢুকে ভুটানি নোট পরিবর্তনের সুযোগ পেয়েছেন। দিনকয়েক আগে ভুটান প্রশাসনের অনুমতি সাপেক্ষে জয়গাঁর ব্যবসায়ী সংগঠনের এক প্রতিনিধিদল ভুটানে গিয়ে সেখানকার ব্যাংকে নগদ প্রায় ৮৪ কোটি টাকা জমা করে। পরিবর্তে ভারতীয় মুদ্রার হিসাবে ওই ব্যবসায়ীদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে টাকা জমা পড়ে। কিন্তু সাত মাস ধরে ভুটানের ক্রেতারা জয়গাঁয় কেনাকাটা না করলেও এত টাকা কী করে ব্যবসাযীদের কাছে জমা পড়ছে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। শুধুমাত্র জয়গাঁর ব্যবসায়ীদের কাছেই এত টাকা মজুত ছিল নাকি ডুয়ার্সজুড়ে ভুটানি টাকার কালোবাজারিরা সুযোগ বুঝে তাদের কাছে মজুত ভুটানি টাকা ভারতীয় টাকায় পরিবর্তন করছে এমন প্রশ্নও উঠছে। সংশ্লিষ্ট মহল বিষয়টিকে স্বাভাবিক বলে মানতে চাইছে না। ঘটনার প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জোরালো হয়েছে।

- Advertisement -

জয়গাঁ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রামাশংকর গুপ্তা বলেন, লকডাউনের আগে পর্যন্ত জয়গাঁ ও সংলগ্ন এলাকার অনেকেরই ব্যবসা ও চাকরি সূত্রে ভুটানে যাওয়া-আসা ছিল। সেখান থেকে তাঁদের ভুটানি টাকা দেওয়া হত। লকডাউন শুরু হলে ওই বাসিন্দারা ভুটানি নোটের মাধ্যমে জয়গাঁর বাজারে কেনাকাটা করছেন। ব্যবসায়ীরা বাধ্য হয়ে ভুটানি নোট নিচ্ছেন। মহকুমা শাসক শ্রী রাজেশকে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এনিয়ে যা বলার তা জেলা শাসকই বলবেন। প্রতিক্রিয়া জানতে শনিবারের পর রবিবারও জেলা শাসক তথা জয়গাঁ উন্নয়ন পর্ষদের চেয়ারম্যান সুরেন্দ্রকুমার মিনার মোবাইলে বহুবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। সূত্রের খবর, পরবর্তী নোট পরিবর্তনের দিন ২০০ কোটি টাকার ভুটানি নোট ভারতীয় মুদ্রায় পরিবর্তন করা হতে পারে। রামাশংকর অবশ্য বলেন, ২০০ কোটি টাকার ভুটানি নোট জমা পড়ার কোনও সম্ভাবনা নেই।