ডলোমাইট গোলা জল খায় ভুটিয়াবস্তি

101

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : পরিস্রুত পানীয়  জল এখনও আলিপুরদুয়ার থেকে কয়েক কিমি দূরে ভুটিয়াবস্তির মানুষের কাছে স্বপ্ন। ফলে সারাবছর ঝরনার জল পান করেন তাঁরা। বর্ষা এলে ওই জল আর খাওয়ার যোগ্য থাকে না। অগত্যা তখন ডলোমাইট মিশ্রিত জলই পান করেন তাঁরা। কয়েক দশক ধরেই গ্রামবাসী এলাকায় পরিস্রুত পানীয় জলের ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন। পিএইচই ভুটিয়াবস্তিতে জলপ্রকল্প গড়তে উদ্যোগী হয়েছিল। কিন্তু বন দপ্তরের বাধায় ভুটিয়াবস্তিতে সেই কাজ বন্ধ রয়েছে।

বক্সা ব্যাঘ্র প্রকল্পের ডেপুটি ফিল্ড ডিরেক্টর (পশ্চিম) শ্রী হরিশ বলেন, ভুটিয়াবস্তি বন্যপ্রাণীদের সংরক্ষিত বনাঞ্চলের মধ্যে পড়ে। সেখানে কোনও ধরনের নির্মাণকাজ করতে হলে বন দপ্তরের অনুমতি নিতে হয়। কিন্তু পিএইচই তা নেয়নি। তাই আমরা কাজ বন্ধ রেখে ওদের যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে আসতে বলেছিলাম। এখন বিষয়টি কী অবস্থায় আছে, তা খোঁজ নিয়ে বলতে হবে।

- Advertisement -

পিএইচইর আলিপুরদুয়ারের এগজিকিউটিভ ইঞ্জিনিয়ার সুব্রত ধর বলেন, ভুটিয়াবস্তিতে একটি মিনি ওয়াটার প্রোজেক্টের কাজ শুরু করা হয়েছিল। কিন্তু বন দপ্তর কাগজপত্র চেয়ে ওই কাজ বন্ধ করতে বলে। আমরা বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যেই জেলা শাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি, দ্রুত ওই পানীয় জলপ্রকল্পের কাজ শুরু করতে পারব।

ভুটিয়াবস্তির বাসিন্দাদের দাবি মেনে সেখানে একটি ছোট জলপ্রকল্প গড়তে উদ্যোগী হয় পিএইচই। এর জন্য প্রায় ২৫ লক্ষ টাকা বাজেট ধরা হয়। ওই টাকায় প্রায় দেড় বছর আগে ভুটিয়াবস্তিতে জয়ন্তী নদীর ধারে জলপ্রকল্প গড়ার কাজ শুরু হয়। ইতিমধ্যেই ওই জলপ্রকল্পের জন্য একটি ঘর, উঁচু ট্যাংক সহ আরও বেশ কিছু কাজ করা হয়েছে। কিন্তু এরপরই ওই কাজ বন্ধ করে দেয় বন দপ্তর। জলপ্রকল্পের যাবতীয় কাগজপত্র নিয়ে দেখা করার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিন্তু অভিযোগ, এখনও পিএইচই বন দপ্তরকে ওই কাগজপত্র দেখায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দা অর্জুন ছেত্রী বলেন, আমাদের সারাবছর ঝরনার জল পান করতে হয়। তবে বর্ষার সময় ওই জলে প্রচুর পরিমাণে ডলোমাইট মিশ্রিত থাকে। তাই আমাদের দাবি ছিল, ভুটিয়াবস্তিতে একটি পানীয় জলপ্রকল্প গড়ে তোলা হোক। কিন্তু আজও আমাদের দাবি পূরণ হয়নি।

পঞ্চায়ে সদস্য সাজেন সোনার বলেন, জলপ্রকল্পটি যাতে দ্রুত চালু করা যায় তার জন্য আমি প্রধানের মাধ্যমে পিএইচই দপ্তরের সঙ্গে কথা বলব। দিনকয়েকের বৃষ্টিতে ভুটিয়াবস্তির পানীয় জলে ডলোমাইটের পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে। জল প্রচণ্ড ঘোলা। এখন ওই জলই পান করছেন স্থানীয়রা। তবে বেশি বৃষ্টি হলে প্রশাসন ভুটিয়াবস্তিতে জলের প্যাকেট বিতরণ করে। কিন্তু এবার এখনও এমন উদ্যোগ চোখে পড়েনি।