শিলিগুড়ির ছেলের থিমে মজেছে শহর কলকাতা

শমিদীপ দত্ত, শিলিগুড়ি : থিমের কাজে সকলের মন জয় করতে গিয়ে খুইয়েছিলেন চাকরি। সেই যন্ত্রণাই বিমানকে তাতিয়ে তুলেছিল থিমের জগতে কিছু করে দেখানোর জন্য। পাড়ি দিয়েছিলেন কলকাতায়। অন্য থিম মেকারদের সঙ্গে লড়াই সহজ ছিল না। মাটি কামড়ে পড়ে থেকে শেষপর্যন্ত কলকাতার হৃদয় জিতলেন শিলিগুড়ির হায়দরপাড়ার বিমান সাহা। বাড়ির সামনেই হায়দরপাড়া স্পোর্টিং ক্লাব থাকায় বরাবরই ক্লাবের পুজোর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বিমান। স্কুলজীবনে এই শহরের পুরোনো থিম মেকার জয়ন্ত পালের থিম তাঁর মনে আলাদা প্রভাব ফেলে। এরমধ্যেই তিনি শহরের আরেক পুরোনো থিম মেকার সত্যশিব সেনগুপ্তের সাহচর্যে আসেন। ২০০৯ সালে দাদাভাই স্পোর্টিং ক্লাবের স্টিল উলের উপর থিমই যেন তাঁর জীবনে পরিবর্তন নিয়ে আসে।

কলেজ শেষ করে একটি বেসরকারি ব্যাংকে কাজ পান। পুজোর সময় থিমের কাজে বিমান এতটাই ব্যস্ত হযে পড়েন যে পুজো শেষে চাকরি খোয়ান। বাড়িতে অভাব-অনটন বাড়তে থাকে। এই পরিস্থিতিতে বিমানবাবু পেশা হিসেবে থিমকেই বেছে নেন। সত্যশিববাবুর উপদেশে তিনি ২০১২ সালে কলকাতায় পাড়ি দেন। কিন্তু কলকাতায় বিভিন্ন পুজো কমিটির সঙ্গে কথা বলেও শেষমেশ বরাত না পাওয়ায় সেবছর তিনি খালি হাতেই শহরে ফিরতে বাধ্য হন। ২০১৩ সালে তিনি ফের কলকাতায় যান। সেবার করবাগান সর্বজনীন পুজোর বরাত পান। বোতলের ছিপির সেই প্যান্ডেলই কলকাতার বুকে উত্তরবঙ্গের থিম মেকার হিসেবে বিমানকে আলাদা পরিচিতি দেয়। এরপর ২০১৪ সালে লেকটাউন নতুনপল্লি প্রদীপ সংঘে থাইল্যান্ডের মন্দির, গড়িয়ার যাত্রাশুরু সংঘে আদিবাসী শিল্প ভাবনার প্যান্ডেল, ২০১৫ সালে সুবর্ণজয়ন্তী বর্ষে হরিদেবপুর বিবেকানন্দ স্পোর্টিং, পাটুলি সর্বজনীনের পুজোয় কাজ করার পর তাঁকে আর ঘুরে তাকাতে হয়নি। পরের তিনবছর ভবানীপুর ৭৫ পল্লিতে রাজস্থানি শিল্পের আদলে প্যান্ডেল সহ তাঁর কাজ নানা পুরস্কারে ভূষিত হয। যোধপুর পার্ক সর্বজনীনের পুজোতেও তিনি তাঁর শিল্পচর্চা তুলে ধরেছেন।

- Advertisement -

দক্ষিণ কলকাতার বিগ বাজেটের পুজোগুলির অন্যতম বালিগঞ্জ কালচারাল অ্যাসোসিয়েশনের পুজোর সঙ্গে তিনি চারবছর ধরে যুক্ত। টেরাকোটার শিল্প থেকে পিতলের বিভিন্ন জিনিসের উপর প্যান্ডেল তৈরির পর এবারের পুজোয় তিনি বাঁশ ও লোহার যুগলবন্দিতে রাজ্যবাসীর সামনে নতুন থিম নিয়ে আসতে চলেছেন। যা নিয়ে উচ্ছ্বসিত পুজো কমিটির সম্পাদক অঞ্জন উকিল। তিনি বলেন, বিমানের মাধ্যমে আমাদের পুজোর সঙ্গে উত্তরবঙ্গ যেন অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িয়ে পড়েছে। তবে এই সবকিছুর পেছনে নিজের শহর শিলিগুড়ির আশীর্বাদ রয়েছে বলেই মনে করেন বিমান। তিনি বলেন, কলকাতায় এমনও গিয়েছে যে একবেলা ম্যাগি খেয়ে দিন কাটিয়েছি। থাকার জায়গা না থাকায় ট্রেনের জেনারেল বগিতে দুমাস প্রতিদিন যাওয়া-আসা করেছি। বিমানের গুরুদেব সত্যশিববাবু বলেন, প্রত্যেকেরই ইচ্ছা থাকে বড়ো জায়গায় কাজ করার। আমারও ইচ্ছা ছিল, নিজে যেতে না পারলেও বিমানের মাধ্যমে আমার সেই ইচ্ছাপূরণ হয়েছে।