শুনসান বিধান মার্কেট, দুপুরের পর চললো দাবা খেলা

315

শিলিগুড়ি: দোকানে মালিক থেকেই ঝাঁপ বন্ধ অধিকাংশ দোকানের। কিছু দোকানের ঝাঁপ অর্ধেক খোলা থাকলেও বিকেল হতেই ওই দোকানদারদের একাংশকে দেখা গেলো দোকানের সামনে দাবা গুটি সাজিয়ে খেলাতে ব্যস্ত হতে। এক সময় ক্রেতা – বিক্রেতার সেই জমজমাট পরিবেশ করোনার জেরে পাল্টেছিল আগেই। ব্যবসায়ী সমিতি ৫ দিনের মার্কেট বন্ধ রাখার সিদ্ধান্তের এদিন বিধান মার্কেট জুড়ে শুনসান লকডাউন পরিস্থিতি ফের ফিরে এল।

অন্যদিকে, শহরের আরেক গুরুত্বপূর্ণ হকার্স কর্নার মার্কেটেও সময়ের কিছু পরিবর্তন করা হয়েছে। ব্যবসায়ী সমিতির সম্পাদক প্রদীপ রায় জানান, ‘ সকাল ৯ টা থেকে আগে রাত ৮ টা পর্যন্ত মার্কেট খোলা থাকলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে মার্কেট বন্ধের সময় সন্ধ্যা ৭ টা করা হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ আমাদের এখানে পাঁচশোর বেশি হোলসেল ও দুইশোর বেশি রিটেইল দোকান রয়েছে। পরিস্থিতি এরকম থাকলে হোলসেল দোকানগুলো আরও আগে অর্থাৎ বিকাল ৪ টার মধ্যেই বন্ধ করার ভাবনা চিন্তা চলছে।’

- Advertisement -

শহরের গুরুত্বপূর্ণ মার্কেট গুলোর মধ্যে বিধান মার্কেট এককথায় প্রাণকেন্দ্র। শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডের পাশাপাশি আশপাশের এলাকা থেকেও বহু ব্যবসায়ী এই মার্কেটে আসেন। লোকডাউন খোলার পর মার্কেটটি নতুনভাবে শুরু হলেও গত কিছুদিন যাবত মার্কেটের সঙ্গে যোগ রয়েছে এরকম কয়েক জনের করোনা সংক্রমণ মেলাতে বিধান মার্কেট বন্ধের একটা আভাস পাওয়া যায়। এমনকি ব্যবসায়ীদের একটি বড়ো অংশই সেটা চাইছেন বলে মার্কেট কমিটির তরফে দাবি করা হয়। সেই দাবি মতন এদিন থেকে রবিবার পর্যন্ত জরুরি পরিষেবার দোকান, মাছ – মাংসের দোকান ছাড়া অন্য দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যদিও মার্কেট বন্ধ রাখার এই সিদ্ধান্তে লক্ষাধিক টাকার ক্ষতি হওয়াই ব্যবসায়ীদের একটা অংশ মার্কেট বন্ধে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। ৫ দিন মার্কেট বন্ধ রাখলেই করোনা থেকে বাঁচা সম্ভব কিনা,সেটা তাঁদের প্রশ্ন।

অন্যদিকে, এদিন সকাল থেকেই মার্কেটে লকডাউন পরিস্থিতি ফিরে এসেছিল। প্রায় সব কয়টি দোকানের ঝাঁপ বন্ধ ছিল। সকালের দিকে কিছু পথচলতি মানুষ মার্কেটের ভেতর দিয়ে যাতায়াত করলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে মার্কেট একেবারেই শুনসান হয়ে যায়। এদিন অর্ধেক ঝাঁপ খুলেই দোকানে বসেছিলেন অভিজিৎ দাস। তিনি বলেন, ‘ লোকডাউন ওঠার পর দোকান খুললেও ক্রেতা ছিল না। সংক্রমণ বাড়তে থাকায় সেই ক্রেতা যাওয়ার আসছিল তাও কমে গেল। ব্যবসায়ী সমিতির বাজার বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে বাড়িতে ভালো লাগে না তাই দোকানের ঝাঁপ অর্ধেক নামিয়ে বসেছিলাম।’

ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য রাজু দে বলেন, ‘যে হারে শহর ও আমাদের বিধান মার্কেট এ করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ায় সকলে মিলেই নিজেদের ও কর্মীদের কথা ভেবে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছি।