২ বার উদ্বোধনের পরও চালু হয়নি আনারস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র, পরিদর্শনে এসে শীঘ্রই চালুর আশ্বাস এসজেডিএ চেয়ারম্যানের

326

ফাঁসিদেওয়া, ৮ জুনঃ দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হতে চলেছে। খুব শীঘ্রই চালু হতে পারে ফাঁসিদেওয়া ব্লকের বিধাননগরের তৈরি হয়ে পড়ে থাকা আনারস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র। সোমবার শিলিগুড়ি জলপাইগুড়ি ডেভেলপমেন্ট অথোরিটি (এসজেডিএ) চেয়ারম্যান বিজয় চন্দ্র বর্মন সেখানে পরিদর্শনে আসেন। তাঁর সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন এসজেডিএ চিফ এক্সিকিউটিভ অফিসার প্রিয়াংকা সিংলা এসজেডিএ ভাইস চেয়ারম্যান নান্টু পাল, এসজেডিএ বোর্ড মেম্বার রঞ্জন সরকার, এসজেডিএ বোর্ডের সদস্য পরিমল মিত্র, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের বিরোধী দলনেতা কাজল ঘোষ, শিলিগুড়ি মহকুমা পরিষদের সদস্য ছোটন কিস্কু সহ অন্যান্যরা। এরপর সাংবাদিক বৈঠক করে এসজেডিএ চেয়ারম্যান এমনটাই জানিয়েছেন। তিনি আরও জানান, রাস্তার প্রস্থ কম থাকায় গাড়ি যাতায়াত করতে সমস্যা তৈরি হয়েছে। খুব শীঘ্রই সমস্যা মিটিয়ে সেটি চালু করা হবে। এদিকে, আনারস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র আদৌ চালু হবে কিনা, তা নিয়ে বিজেপি অবশ্য সন্দেহ প্রকাশ করেছে। বিজেপি কিষাণ মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অরুণ মন্ডল জানিয়েছেন, ওই আনারস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রের ইতিমধ্যেই ২ বার উদ্বোধন হয়ে গিয়েছে। রাস্তা প্রস্থ কম থাকার ভুয়ো অজুহাত দিয়ে সেটি চালু করা হচ্ছে না। তিনি আরও জানান, আনারস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটি চালু করা হলে, বিধাননগরের আনারস চাষীদের অনেক সুবিধা হবে।

স্থানীয় আনারস চাষীদের থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী শুধুমাত্র বিধাননগরে প্রতি বছরে ৬০০ কোটি টাকার আনারস উৎপন্ন হয়। এছাড়া উত্তর দিনাজপুর জেলার চোপড়া এবং শিলিগুড়ি মহকুমার একাধিক জায়গায় এখন আনারসের চাষ হচ্ছে। আনারস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালু হলে, সেখানে থাকা কোল্ড স্টোরেজে আনারস মজুত করা সম্ভব হবে। আনারস চাষীদের স্বার্থে এসজেডিএ থেকে ১২ কোটি ৬৭ লক্ষ টাকা ব্যায়ে বিধাননগরে আনারস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র তৈরি করা হয়। ২০১০ সালে শিলান্যাস হয়। ২০১১ সাল নাগাদ অশোক ভট্টাচার্য প্রথম সেটি উদ্বোধন করেন। ২ বছর বাদে ২০১২ সাল নাগাদ আরও ৬ কোটি টাকা খরচ করে তৎকালীন এসজেডিএ চেয়ারম্যান রুদ্রনাথ ভট্টাচার্য ফের সেটির উদ্বোধন করেন বলে জানা গিয়েছে। এরপর আরও প্রায় ৮ বছর কেটে গিয়েছে। কিন্তু, আনারস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালু করা সম্ভব হয়নি। অভিযোগ, আরত মালিকদের উদ্দেশ্যে এর আগে এসজেডিএ-র তরফে চিঠি দিয়ে আরত চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। চালু না করা হলে, তাঁদের আরত বাজেয়াপ্ত করা হবে বলেও নোটিশ এসেছিল। কিন্তু আশ্বাসই সার হয়েছে। স্থানীয় আনারস চাষী এবং ব্যবসায়ীদের মতে, আনারস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটি চালু হলে এলাকার অর্থনৈতিক উন্নতি হবে। পাশাপাশি, আনারস চাষীদেরও উন্নয়ন হবে।

- Advertisement -

বিষয়টি নিয়ে এসজেডিএ চেয়ারম্যান বিজয় চন্দ্র বর্মন জানিয়েছেন, আনারস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে যাওয়ার রাস্তার প্রস্থ কম থাকায় সেটি চালু করা সম্ভব হয়নি। আনারস প্রক্রিয়াকরণের রাস্তায় কয়েকজন আদিবাসীদের জমি রয়েছে। সেই জমি মৌখিকভাবে বিক্রি হয়ে গিয়েছে। যারা জমি কিনেছেন, তাঁরা জমি ছাড়াতে নারাজ। বিষয়টি নিয়ে বহুবার বৈঠকের পরও সমস্যা মেটেনি। এবারে তাঁদের নিয়ে বৈঠক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, আনারস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রে যাওয়ার বিকল্প আরেকটি রাস্তা তৈরির চিন্তাভাবনা করা হচ্ছে। ওই বিকল্প রাস্তা তৈরি করতে ৩টি পরিবারকে বাড়ি সরিয়ে নিতে হবে। ইতিমধ্যেই ২টি পরিবারের সঙ্গে কথা হয়েছে৷ বাকি ১টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলা হবে। তাঁরা বাড়ি সরিয়ে নিলে, সেখানে রাস্তা তৈরি হবে। এরপর শীঘ্রই আনারস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটি চালু করা হবে বলে তিনি জানান।

বিজেপি কিষাণ মোর্চার রাজ্য সাধারণ সম্পাদক অরুণ মন্ডলের অভিযোগ, আনারস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রটি ইচ্ছাকৃতভাবে চালু করা হচ্ছে না। রাস্তার প্রস্থ কম থাকা অযুহাত বলে তিনি জানান। এই সমস্যার কথা তিনি মানতে রাজি নন। তিনি আরও জানিয়েছেন, ওই রাস্তা দিয়েই বেসরকারি স্কুলের বাস, চেঙ্গা নদী থেকে বালি বোঝাই ট্রাক, বাগান থেকে আনারস বোঝাই গাড়ি অনায়াসে যাতায়াত করছে। যদি প্রকৃতই সমস্যা থাকত, তবে গাড়ি যাতায়াত করতে পারত না। এর আগেও বহু অফিসার এসেছিলেন। কিন্তু, আজও তা চালু হয়নি। এই আনারস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্র চালু করবে বলে তিনি বিশ্বাস করছেন না। সেটি অবিলম্বে চালু করার আবেদন অরুণ বাবু জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এটি চালু হলে সবার ভালো হবে।