মা-বাবার হাসিমুখই বিদ্যাসাগরের ট্রফি

নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা : এতদিন খেলে ফিরলে মা-বাবা জিজ্ঞাসা করতেন, ট্রফি কোথায়? এবার বাড়ি ফিরেছেন জোড়া ট্রফি হাতে। তা দেখে হাসি ফুটেছে মা-বাবার মুখে। এটাই সেরা প্রাপ্তি বিদ্যাসাগর সিংয়ের।

মণিপুরের বিদ্যাসাগর উঠে এসেছেন জাতীয় মহিলা দলের স্ট্রাইকার ইরম পরমেশ্বরী দেবীর হাত ধরে। তাঁর কাছেই ফুটবলের প্রাথমিক পাঠ। এরপর বিদ্যাসাগর যোগ দেন ইস্টবেঙ্গল অ্যাকাডেমিতে। ২০১৬-১৭ মরশুমে লাল-হলুদ জার্সি গায়ে অনূর্ধ্ব-১৮ আই লিগে রানার্স হন। গোটা লিগে ৬ গোল করেন, গোল ছিল সেমিফাইনাল ও ফাইনালেও। পরের মরশুমেই সিনিয়র দলের জার্সি পান। এরপর আলেহান্দ্রো মেনেন্দেজ গার্সিয়া ইস্টবেঙ্গল কোচ হয়ে আসার পর পিছনে তাকাতে হয়নি বিদ্যাসাগরকে। স্প্যানিশ কোচের ভরসার হাত মাথায় নিয়ে সমর্থকদের প্রিয় হয়ে ওঠেন এই তরুণ স্ট্রাইকার।

- Advertisement -

কিন্তু গত মরশুমের শেষদিকে আলেহান্দ্রো বিদায়ে পরই ক্লাবকর্তাদের পছন্দের বৃত্ত থেকে ছিটকে যান বিদ্যাসাগর। কলকাতা ছেড়ে উত্তর-পূর্বে ফিরে ট্রাউ এফসিতে যোগ দেন। সেখানেই জাত চিনিয়েছেন। শেষ ম্যাচ হেরে খেতাব হাতছাড়া হলেও আই লিগে ১৫ ম্যাচে ১২ গোল করেছেন। এরমধ্যে মহমেডান ও রিয়াল কাশ্মীরের বিরুদ্ধে পরপর ম্যাচে হ্যাটট্রিক রয়েছে তাঁর। বিদেশি স্ট্রাইকারদের টেক্কা দেওয়ার থেকেও বিদ্যাসাগরকে তৃপ্তি দিচ্ছে মা-বাবার হাসিমুখ। বললেন, আগে আমি খেলে ফিরলে মাম্মা-পাপা জিজ্ঞাসা করত, ট্রফি কোথায়। এবার লিগ হাতছাড়া হলেও নিজে জোড়া ট্রফি পেয়েছি। আমাকে ট্রফি হাতে ফিরতে দেখে ওরা খুব খুশি হয়েছে। ওদের উজ্জ্বল হাসিমুখই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।

আই লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতার পাশাপাশি হিরো অফ দ্য লিগের খেতাবও এসেছে ঝুলিতে। কিন্তু ট্রাউকে চ্যাম্পিয়ন না করতে পারার কষ্ট রয়েছে বিদ্যাসাগরের। তাঁর কথায়, দলকে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য সেরাটা দিয়েছিলাম। কিন্তু একটুর জন্য পারলাম না। আমি পরবর্তীতে যে ক্লাবেই খেলব, তাদের চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টা করব। আপাতত জাতীয় দলে ডাক পাওয়াকেই পাখির চোখ করেছেন বিদ্যাসাগর।

আই লিগে ভালো খেলার পুরস্কার হিসেবে আইএসএলের একাধিক ক্লাব বিদ্যাসাগরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। যা নিয়ে বললেন, প্রস্তব পেয়েছি। সেগুলি সবই ভাবনাচিন্তার স্তরে রয়েছে। সেই তালিকায় এসসি ইস্টবেঙ্গল আছে কি না প্রশ্ন করা হলে সরাসরি জবাব না দিয়ে হাসলেন। এই হাসিকে সম্মতি হিসেবে ধরে নিলে স্পষ্ট, একসময় অবহেলায় ছেড়ে দেওয়া রত্নকে দলে ফেরাতে উদ্যোগী হয়েছেন লাল-হলুদ কর্তারা।