আলিপুরদুয়ার জেলায় সর্বসম্মতিতে প্রার্থী বাছাই বড় চ্যালেঞ্জ বিজেপির

234

ভাস্কর শর্মা, আলিপুরদুয়ার : সর্বসম্মতিক্রমে  বিধানসভা নির্বাচনের প্রার্থী বাছাই নিয়ে বিজেপি কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে। ইতিমধ্যেই আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য একাধিক প্রার্থীর নাম সামনে এসেছে। এর মধ্যে সদ্য তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আসা নেতারা গোদের উপর বিষফোঁড়া হয়ে উঠেছেন। ওই নেতারা টিকিটের লোভেই গেরুয়া শিবিরে ভিড়েছেন বলে বিজেপির একটি মহলের দাবি। আরএসএস ঘনিষ্ঠ বিজেপি নেতা এবং তৃণমূল থেকে আসা নব্য বিজেপিদের মধ্যে টিকিট নিয়ে কোন্দল চরম আকার নিতে পারে বলে আশঙ্কা ছড়িয়েছে। বিজেপির আলিপুরদুয়ারের সভাপতি গঙ্গাপ্রসাদ শর্মা বলেন, আমরা দলের কার্যকর্তা। টিকিট কে পাবেন তা রাজ্য নেতৃত্ব ঠিক করেন। এ বিষয়ে তাঁদের সঙ্গে আমার কোনও আলোচনা হয়নি।

আলিপুরদুয়ার জেলা বিজেপি সূত্রে খবর, গত লোকসভা নির্বাচনের পর জেলার পাঁচটি বিধানসভাতেই বিজেপি এখন শক্তপোক্ত ভিতের উপর দাঁড়িয়ে রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অনেক বিজেপি নেতাই টিকিটের দাবিদার। বেশ কয়েকজন নেতার নাম নিয়ে প্রকাশ্যে আলোচনাও চলছে। বিশেষ করে আলিপুরদুয়ার, ফালাকাটা, কুমারগ্রাম বিধানসভা আসনে কারা টিকিট পেতে পারেন তা নিয়ে এখন বেশি চর্চা চলছে। এই চর্চার মধ্যেই দিনকয়েক ধরে এখন তৃণমূল থেকে বিজেপিতে আসাদের নিয়ে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে। কুমারগ্রামের বাসিন্দা তৃণমূলের জেলার চেয়ারম্যান দশরথ তিরকি বিজেপিতে এসেছেন। এর আগেও তিনি বাম আমলে মন্ত্রী ছিলেন। তৃণমূলে এসে পরে তিনি সাংসদ হন। এখন তৃণমূলের কঠিন সময়ে দশরথ বিজেপিতে নাম লিখিয়েছেন। দশরথ ফের টিকিট পেতেই বিজেপিতে এসেছেন বলে গেরুয়া শিবিরের নীচুতলার কর্মীরা মনে করছেন। দলীয় সূত্রে খবর, তৃণমূলের আরও বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা বিজেপিতে ঢুকবেন বলে পা বাড়িয়ে রয়েছেন। এই অবস্থায় বিজেপির আদি নেতারা আতঙ্কে আছেন। অনেকেই দীর্ঘদিন ধরে বিজেপির টিকিটের দাবিদার। কিন্তু তৃণমূল থেকে নব্য দলে আসারা যদি টিকিট পেয়ে যান তবে বিধানসভা ভোটের আগেই বিজেপির মধ্যে চরম কোন্দল শুরু হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিজেপি সূত্রে খবর, কে প্রার্থী হবেন তা আরএসএস থেকেই ঠিক করে দেওয়া হয়। আরএসএস যে নাম পাঠায় ওই নামেই বিজেপির রাজ্য কমিটি সিলমোহর দেয়। এবারও আরএসএস থেকে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের খোঁজ করতে জেলায় এসে রিপোর্ট সংগ্রহ করা শুরু হয়েছে।

- Advertisement -

এখনও পর্যন্ত আলিপুরদুয়ার জেলার পাঁচটি বিধানসভা এলাকাতেই তারা একেবারে তৃণমূলস্তরে সমীক্ষা চালাচ্ছে। তাই আরএসএস ঘনিষ্ঠ ছাড়া কেউ বিজেপির টিকিট পাবেন না বলেই অভিজ্ঞ মহল মনে করছে। তবে আরএসএস বা বিজেপির কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলতে চাননি। বিজেপির জেলা কমিটির এক কার্যকর্তা বলেন, দলে কে প্রার্থী হবেন তা নিয়ে ইতিমধ্যেই দলের অভ্যন্তরে আলোচনা ও রিপোর্ট সংগ্রহ শুরু হয়েছিল। কিন্তু এখন তৃণমূল থেকে অনেকেই দলে ঢুকছেন। তাঁরাও রাজ্য কমিটির সুপারিশেই ঢুকছেন। নতুনরা প্রার্থীপদের দাবি করতে পারেন। এমনটা হলে দলের মধ্যে প্রার্থীপদ নিয়ে কোন্দল হবেই। বিজেপির জেলার অন্যতম সাধারণ সম্পাদক দীপক বর্মন বলেন, আমাদের দলে নব্য-পুরানো বলে কিছু নেই। দলে সবাই কার্যকর্তা। আর আমাদের রাজ্য কমিটি প্রার্থী ঠিক করে। সেখান থেকে যাঁকেই প্রার্থী করা হোক আমরা তাঁকে নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ব।